রাজ্যের শিক্ষা দফতর থেকে দুই মেদিনীপুরের প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের সভাপতির নাম ঘোষণা করা হল। পূর্বে নতুন সভাপতি হলেন নিতাই জানা, আর পশ্চিমে নারায়ণ সাঁতরা।
তমলুক শহরের বাসিন্দা নিতাইবাবু পশ্চিম মেদিনীপুরের জকপুর বিবেকানন্দ শিক্ষা নিকেতেনর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। তিনি রাজ্য মধ্যশিক্ষা পর্ষদের উপদেষ্টা কমিটির সদস্যও। বাংলা সাহিত্যের গবেষক নিতাইবাবু জেলার রাজনৈতিক মহলে তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত। নিতাইবাবু বৃহস্পতিবার বলেন, “আমাকে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালনে যথাসাধ্য চেষ্টা করব।” সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের সভাপতিকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্যের শিক্ষা দফতর। সেই নির্দেশের প্রেক্ষিতে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ সভাপতির পদ ছাড়েন গোপাল সাহু। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের নতুন চেয়ারম্যান হতে চলেছেন নারায়ণ সাঁতরা। সংসদ সূত্রে খবর, আগামী সপ্তাহে তিনি দায়িত্বভার নেবেন। নারায়ণবাবু নয়াগ্রাম হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক। ইতিমধ্যে রাজ্য থেকে তাঁর নাম ঘোষণাও করা হয়েছে। নারায়ণবাবু বলেন, “নতুন দায়িত্ব ভাল ভাবে পালন করার চেষ্টা করবো।”
রাজ্যে পালাবদলের পরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান হন স্বপন মুর্মু। সম্প্রতি অন্য জেলার সংসদ চেয়ারম্যান বদলের সঙ্গে সঙ্গে এ জেলার সংসদ চেয়ারম্যানকেও বদল করা হয়। এই সময়ের মধ্যে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের কাজকর্ম নিয়ে কম অভিযোগ ওঠেনি। দলবাজি-দুর্নীতি-স্বজনপোষণের মতো অভিযোগ ঘিরে দফায় দফায় সংসদের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি করেছে একাধিক প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠন। জেলায় সাড়ে ৪ হাজারেরও বেশি প্রাথমিক স্কুল রয়েছে। পড়ুয়া সাড়ে ৩ লক্ষেরও বেশি। জঙ্গলমহলের এই জেলায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার পরিকাঠামো নিয়েও অভিযোগের শেষ নেই। সব স্কুলে পানীয় জল, বিদ্যুৎ, শৌচাগারের সুষ্ঠু ব্যবস্থাও নেই।
মাস কয়েক আগে এক হাজারেরও বেশি শিক্ষকের বদলির জেরে জেলার প্রাথমিক শিক্ষায় চরম সমস্যা দেখা দেয়। বেশ কিছু স্কুল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। শিকেয় ওঠে পঠনপাঠন। অভিযোগ, বদলির ক্ষেত্রে কোনও নিয়মনীতি মানা হয়নি। কোন স্কুল কী অবস্থায় রয়েছে, সেখানে ছাত্র সংখ্যা কত, শিক্ষক সংখ্যা কত, শিক্ষক বদলির পর পরিস্থিতিই বা কী হবে, এ সব দিক খতিয়ে না দেখেই বদলি করা হয়েছে। অর্থের বিনিময়ে পছন্দের স্কুলে বদলির বন্দোবস্ত করে দেওয়ার ক্ষেত্রে দুষ্টচক্র সক্রিয় আছে বলেও অভিযোগ। সংসদ কর্তৃপক্ষ অবশ্য এ সব মানতে নারাজ। তবে সমস্যা মেটাতে বেশি সংখ্যক শিক্ষক রয়েছে, এমন স্কুলের এক বা একাধিক শিক্ষককে সংলগ্ন এলাকার স্কুলে গিয়ে পড়ানোর নির্দেশ দিতে হয় সংসদকে। সংসদের নতুন চেয়ারম্যান এই সব সমস্যা সমাধানে কী পদক্ষেপ করেন, সেটাই দেখার।