Advertisement
E-Paper

প্রশ্ন উঠছে সদর শহরের নিরাপত্তা নিয়ে

পাটনাবাজার। মেদিনীপুর শহরের পুরনো পাড়াগুলোর মধ্যে একটি। আপাত শান্ত এই এলাকার চারদিকেই এখন উদ্বেগ। রয়েছে আতঙ্কও। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মোড়ে মোড়ে চোখে পড়েছে মানুষের জটলা। পরিচিত মুখ দেখলেই খানিক থমকে প্রশ্ন, ঠিক কী হয়েছে? সেই উত্তরও ঠিকঠাক মেলে না। ফলে বাড়তে থাকে উদ্বেগ। মেদিনীপুর শহরে চুরি ছিনতাইয়ের ঘটনা প্রায়ই মঘটে। কখনও দিনের আলোয়, কখনও বা রাতের অন্ধকারে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ জুন ২০১৪ ০১:১৮
কাঁসাইয়ের তীরে মিলল নিহত ব্যবসায়ীর মোটর সাইকেল। —নিজস্ব চিত্র।

কাঁসাইয়ের তীরে মিলল নিহত ব্যবসায়ীর মোটর সাইকেল। —নিজস্ব চিত্র।

পাটনাবাজার। মেদিনীপুর শহরের পুরনো পাড়াগুলোর মধ্যে একটি। আপাত শান্ত এই এলাকার চারদিকেই এখন উদ্বেগ। রয়েছে আতঙ্কও। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মোড়ে মোড়ে চোখে পড়েছে মানুষের জটলা। পরিচিত মুখ দেখলেই খানিক থমকে প্রশ্ন, ঠিক কী হয়েছে? সেই উত্তরও ঠিকঠাক মেলে না। ফলে বাড়তে থাকে উদ্বেগ।

মেদিনীপুর শহরে চুরি ছিনতাইয়ের ঘটনা প্রায়ই মঘটে। কখনও দিনের আলোয়, কখনও বা রাতের অন্ধকারে। তবে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে সাম্প্রতিক অতীতে এ ভাবে কোনও স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গুলিতে খুন হতে হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা তথা স্বর্ণ ব্যবসায়ী তপন পাণ্ডব বলছিলেন, “ঘটনার কথা মনে পড়লেই শিউরে উঠছি। এর আগে কখনও এমন ঘটনা ঘটেনি। এলাকায় এখন আতঙ্ক- উদ্বেগ থাকাটা তো স্বাভাবিক। পুলিশের নজরদারি আরও বাড়ানো উচিত।” শুধু পাটনাবাজারের বাসিন্দারা নন, বুধবারের রাতের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শহরের সর্বত্র। উদ্বিগ্ন সব মহল। এবং সব মহলই মানছে, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে আরও বড় প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে শহরের আইনশৃঙ্খলা।

সিপিএমের মেদিনীপুর শহর জোনাল সম্পাদক কীর্তি দে বক্সী বলেন, “দুষ্কৃতীরা ব্যবসায়ীকে খুন করে পালিয়ে গেল? দু’দিন ছাড়াই শহরে চুরি-ছিনতাই হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রচণ্ড অবনতি হচ্ছে। পুলিশ করছে কী?” পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে সরব হয়েছে কংগ্রেসও। দলের শহর সভাপতি সৌমেন খান বলেন, “অনেক আগে থেকেই পুলিশকে বলে আসছি, শক্ত হাতে হাল না ধরলে শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। শহরের মানুষ শান্তিপ্রিয়। এখন এখানে অসামাজিক কাজকর্ম বাড়ছে। ফলে, শহরে আতঙ্ক- উদ্বেগ ছড়াচ্ছে।” একই মত বিজেপির শহর সভাপতি অরূপ দাসের। তিনি বলেন, “পুলিশের নজরদারির অভাবেই শহরে অসামাজিক কাজকর্ম বাড়ছে। শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির হাল ফেরাতে হলে পুলিশকে আরও সক্রিয় হতে হবে।”

ঘটনায় উদ্বিগ্ন তৃণমূলের মেদিনীপুর শহর সভাপতি আশিস চক্রবর্তীও। আশিসবাবু ডিস্ট্রিক্ট চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির অন্যতম উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “ঘটনাটি মর্মান্তিক।আশা করি, দুষ্কৃতীরা দ্রুত ধরা পড়বে। পুলিশও শহরে নজরদারি আরও বাড়াবে।” মেদিনীপুরের উপপুরপ্রধান জিতেন্দ্রনাথ দাস বলেন, “পাটনাবাজার এলাকায় অনেক স্বর্ণশিল্পী রয়েছেন। আশা করি, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে পুলিশ ওই এলাকায় নজরদারি আরও বাড়াবে।” জিতেন্দ্রনাথবাবু বঙ্গীয় স্বর্ণশিল্পী সমিতির শহর সম্পাদক। শহরের গুরুত্বপূর্ণ বাজার এলাকায় পুলিশ পিকেটিং- এর দাবি জানিয়েছে মেদিনীপুর ব্যবসায়ী সমিতি। সমিতির সাধারণ সম্পাদক মলয় রায় এ দিন জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে এ নিয়ে ফোনে কথা বলেন। মলয়বাবু বলেন, “পুলিশ সুপারকে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছি। উনি আশ্বস্ত করেছেন।”

মেদিনীপুর শহর এখন বাড়ছে। শহরের এদিক-সেদিকে নতুন নতুন বসতি গড়ে উঠছে। সঙ্গে বেড়েছে দুষ্কৃতীদের দাপটও। বছর আড়াই আগে কেরানিতলায় এক ব্যবসায়ীকে দিনের আলোয় গুলি করা হয়। ওই ব্যবসায়ী অবশ্য প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন। গত দু’-তিন বছরে কয়েকটি খুনের ঘটনাও ঘটেছে। কোনওটার কিনারা হয়েছে। কোনওটার হয়নি। যেমন, ২০১২ সালের মে মাসে বরিশাল কলোনিতে এক স্কুলছাত্র খুন হন। দুপুরে বাড়িতে ঢুকে তাকে কুপিয়ে খুন করে দুষ্ক্ৃতীরা। তদন্তে পুলিশ কুকুর আসে। এখনও সেই ঘটনার কিনারা হয়নি। স্বাভাবিক ভাবেই শহরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ জমছে। বুধবার রাতের ঘটনার খবর পেয়ে যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ, তখন পুলিশকেও এলাকাবাসীর ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) অবধেশ পাঠক, ডেপুটি পুলিশ সুপার (ডিএণ্ডটি) শ্যামল মণ্ডল, কোতয়ালি থানার আইসি সুশান্ত রাজবংশী প্রমুখকে কাছে পেয়ে কয়েকজন নিজেদের ক্ষোভ উগরে দেন। পুলিশ-কর্তারা অবশ্য ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীকে আশ্বাস দেন, রাতে নজরদারি চলে। প্রয়োজনে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে।

question raises on security medinipur
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy