Advertisement
E-Paper

বৌদ্ধবিহার ঘিরে প্রথম উৎসব

মোগলমারি বুদ্ধিস্ট অ্যাসোসিয়েশান ও বৌদ্ধ ধর্মাঙ্কুর সভা এই উৎসবের আয়োজন করেছে মোগলমারি বৌদ্ধ বিহার সংলগ্ন মাঠে। এ দিন উৎসবের উদ্ধোধন করেন বৌদ্ধ ধর্মসভার বিদর্শন আচার্য বুদ্ধরক্ষিত মহাস্থবির। ছিলেন ধর্মরত্ন মহাস্থবির, ধর্মাঙ্কুর সভার সম্পাদক হেমেন্দ্রবিকাশ চৌধুরী প্রমুখ। রবিবার সকালে বৌদ্ধবিহার থেকে শান্তির একটি শোভাযাত্রা মোগলমারি, জয়রামপুর ও পুঞ্জা গ্রাম পরিক্রমা করে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০১৬ ০০:১৭
প্রদর্শনীতে পর্যটকরা। নিজস্ব চিত্র।

প্রদর্শনীতে পর্যটকরা। নিজস্ব চিত্র।

মোগলমারি বৌদ্ধবিহারকে কেন্দ্র করে এমন উৎসব এই প্রথম।

মোগলমারি বুদ্ধিস্ট অ্যাসোসিয়েশান ও বৌদ্ধ ধর্মাঙ্কুর সভা এই উৎসবের আয়োজন করেছে মোগলমারি বৌদ্ধ বিহার সংলগ্ন মাঠে। এ দিন উৎসবের উদ্ধোধন করেন বৌদ্ধ ধর্মসভার বিদর্শন আচার্য বুদ্ধরক্ষিত মহাস্থবির। ছিলেন ধর্মরত্ন মহাস্থবির, ধর্মাঙ্কুর সভার সম্পাদক হেমেন্দ্রবিকাশ চৌধুরী প্রমুখ। রবিবার সকালে বৌদ্ধবিহার থেকে শান্তির একটি শোভাযাত্রা মোগলমারি, জয়রামপুর ও পুঞ্জা গ্রাম পরিক্রমা করে। তারপর বৌদ্ধদের পতাকা উত্তোলন করা হয়। মোগলমারিতে প্রাপ্ত প্রত্নসম্পদ ও তার ছবি এবং বিভিন্ন দেশের বৌদ্ধবিহারের ছবির প্রদর্শণীর ব্যবস্থা রয়েছে। মোগলমারি নিয়ে গৌতম ঘোষের তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।

রবীন্দ্রমননে বুদ্ধ বিষয়ে আলোচনা সভা, ‘মেডিটেশন ক্যাম্প’ করা হয়। উৎসব দেখতে ভগবানপুরের গ্রাম থেকে এসেছিলেন প্রবীণ গৌরকান্তি বল। বলেন, “অসাধারণ এই বিহার এবং তাকে কেন্দ্র করে এই উৎসব। অনেক ভাল ধারণা ও বিষয় জ্ঞান নিয়ে ফিরব।” দাঁতনের একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক অরবিন্দ দাস বলেন, “অনেকবারই মোগলমারি ঘুরে গিয়েছি। আজ সপরিবারে এসে ঘুরে গেলাম। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়েও আসব।” তাঁদের মতে বৌদ্ধদর্শন জানতে ও বুঝতে এই উৎসব একবার ঘুরে দেখাই যায়।

এই সময়ে খননকার্য চলছে মোগলমারিতে। তার স্বাদও পাচ্ছেন ভ্রমনার্থীরা। এ দিন উদ্ধার হওয়া পঞ্চাশটিরও বেশি ব্রোঞ্জের মূর্তি দেখে আপ্লুত দর্শনার্থীরা। ষষ্ঠ থেকে সপ্তম শতাব্দীর এই মূর্তিগুলি মোগলমারির আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে দিল পর্যটকদের কাছে। মূর্তিপ্রাপ্তির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ভিড় জমে যায় হাজার হাজার মানুষের।

মোগলমারি তরুণ সেবা সঙ্ঘ ও পাঠাগারের অন্যতম যুগ্ম সম্পাদক অতনু প্রধান নিজে হাতে করে মূর্তিগুলি দর্শকদের সামনে তুলে ধরে এর বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “অনির্বচনীয় এই অনুভূতি। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস খননের আগামী দিনগুলিতে ভিড় সামাল দিতে আমাদের বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে।” এমনিতেই মূর্তিগুলি পাওয়ার পর থেকে বৌদ্ধবিহার ও সেচ দফতরের বাংলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। খননকার্যের পরিচালক তথা রাজ্য পুরাতত্ত্ব দফতরের বরিষ্ঠ প্রত্নতত্ত্ববিদ প্রকাশচন্দ্র মাইতি বলেন, “একে উৎসব চলছে। তার উপর একসঙ্গে এতগুলি মূর্তি পাওয়া একটা অনন্য অভিজ্ঞতা। আমার তিরিশ বছরের কর্মজীবনে এমন অভিজ্ঞতা আর হয়নি। আশা করা যায় এই উদ্ধার এই বৌদ্ধবিহার সম্পর্কে অনেক নতুন তথ্য দেবে।”

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy