শিল্পশহরের বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে তদন্ত দাবি করল মৃতের সহপাঠীরা। ‘হলদিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি’তে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বি-টেক তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মানব বর্মনের বাড়ি শিলিগুড়িতে। গত ১০ নভেম্বর মালদহে রেললাইনের ধারে জখম অবস্থায় পাওয়া যায় মানবকে। রেলপুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করায়। পরে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট না হলেও মানবের পরিজনদের অভিযোগ, ছেলেকে খুন করা হয়েছে। আর কলেজ হস্টেলে র্যাগিংয়ের অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। যদিও হলদিয়ার এই ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের গ্যালিলিও হল অফ রেসিডেন্ট (পিটু) হস্টেলের ছাত্রদের দাবি, র্যাগিংয়ের অভিযোগ ঠিক নয়। সামনে পরীক্ষা। তাছাড়াও আগামী বছরের ক্যাম্পাসিংয়ের প্রস্তুতিও আছে। র্যাগিংয়ের প্রশ্নই নেই। এই হস্টেলের ২২৪ নম্বর ঘরে আরও তিনজনের সঙ্গে থাকতেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মানব। মঙ্গলবার অবশ্য ২২৪ নম্বর ঘর তালাবন্দি ছিল। হস্টেলের অন্য আবাসিকেরা জানিয়েছেন, কালীপুজোর ছুটিতে মানবের রুমমেটরাও বাড়ি গিয়েছেন।
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ভাস্কর মল্লিক, মেকানিক্যাল বিভাগের মানব-সহ চার পড়ুয়া গত ৯ নভেম্বর বিকেলে কলেজ থেকে বেরিয়ে কলকাতাগামী বাস ধরেন তাঁরা। এ দিন ভাস্কর বলেন, ‘‘ধর্মতলা থেকে আমি ও মানব শিয়ালদহ স্টেশনে যাই।রাত ১০টার পরে দার্জিলিং মেলের সাধারণ কামরায় উঠি। বর্ধমান পর্যন্ত আমার দুজন বাথরুমের কাছে বসেছিলাম। বর্ধমানের কিছুটা আগে মানব কামরার ভেতরে যায়। ট্রেনে ভিড়ও ছিল। পরে ভোররাতে মালদহ পৌঁছে মানবকে আর ট্রেনের কামরায় খুঁজে পাইনি।’’ ১০ নভেম্বর সকালে মানবের বাড়ির লোক ভাস্করকে ফোন করেই বিষয়টি জানতে পারেন। ভাস্করের দাবি, ১৩ নভেম্বর মানবের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন তিনি। ঘটনার তদন্ত করেছেন তিনিও। তমলুকের প্রাক্তন সাংসদ লক্ষ্মণ শেঠের সংস্থা আইকেয়ার দ্বারা পরিচালিত হলদিয়ার এই ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। লক্ষ্মণবাবুও জানিয়েছেন, র্যাগিংয়ের কোনও অভিযোগ তাঁর জানা নেই।
ওই কলেজের তৃতীয় বর্ষের পড়ুয়া অর্কদ্বীপ্ত বন্দোপাধ্যায়, দীপকুমার বিশ্বাস, সরিৎ মণ্ডল, শাঙ্খব্রত বৈরাগিরাও গ্যালিলিও হল অব রেসিডেন্টে থাকেন। দীপকুমার জানান, মানব হলদিয়ার একটি সংস্থায় প্রজেক্টের কাজে সহপাঠীদের সঙ্গে ফর্মুলা ওয়ান রেসিং কার তৈরি করেছেন। কালীপুজোর আগে সেখানে দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনা চোখের সামনে দেখে মানব মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। ঠিক কী ভাবে সেই মানসের মৃত্যু হল, তদন্ত করে তা সামনে আনার দাবি তুলেছেন সকলেই।