অরণ্যশহরের তরুণ ব্যবসায়ী সৌরভ অগ্রবাল ওরফে রকিকে অপহরণ করে খুনের মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করল পুলিশ। সোমবার তদন্তকারী পুলিশ অফিসার ঝাড়গ্রাম এসিজেএম আদালতে সাড়ে চারশো পাতার চার্জশিট দাখিল করেন। মূল অভিযুক্ত অশোক শর্মা গ্রেফতার হওয়ার ৮১ দিনের মাথায় পুলিশ চার্জশিট দাখিল করল।
রকি-হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পেশায় ঠিকাদার অশোক শর্মা-সহ সাতজনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। কিন্তু সোমবার পুলিশের দাখিল করা চার্জশিটে পাঁচ অভিযুক্তের নাম রয়েছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, অশোকের দাদা রমেশ শর্মা ও রমেশের ছোট ছেলে রোহিত শর্মার বিরুদ্ধে ওই খুনের ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কোনও প্রমাণ না মেলায় ওই দু’জনের নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। মূল অভিযুক্ত অশোক শর্মা, অশোকের স্ত্রী পুনম শর্মা, পরিচারক টোটন রানা, অশোকের ভাইপো সুমিত শর্মা ও সুমিতের মামা দীনেশ শর্মা---এই পাঁচ জনের নাম চার্জশিটে রয়েছে। ধৃত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৬৪এ (মুক্তিপণের জন্য অপহরণ), ৩০২ (খুন), ২০১ (খুনের প্রমাণ লোপাট), ১২০বি (ষড়যন্ত্র) ধারায় এবং অস্ত্র আইনে চার্জশিট দায়ের করেছে পুলিশ।
সোমবার অশোক শর্মা-সহ জেলবন্দি সাত অভিযুক্তের ঝাড়গ্রাম এসিজেএম আদালতে হাজিরার ধার্যদিন ছিল। কিন্তু মূল অভিযুক্ত অশোক শর্মার স্ত্রী অন্যতম অভিযুক্ত পুনম শর্মা জেল হেফাজতে থাকাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে কলকাতার নীলরতন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। পুনম এখন সেখানে চিকিৎসাধীন থাকায় তাঁকে আদালতে হাজির সম্ভব হয় নি। এ দিন অশোক-সহ ৬ অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হয়। বিচারক কৃষ্ণমুরারি প্রসাদ গুপ্ত অভিযুক্তদের ফের ১৪ দিন জেল হাজতের নির্দেশ দেন। আগামী ১১ অগস্ট ফের অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। সরকারি কৌঁসুলি কণিষ্ক বসু জানান, ওই দিন (১১ অগস্ট) চার্জশিটের শুনানি সাপেক্ষে রকি-খুনের মামলাটিকে বিচারের জন্য দায়রা সোপর্দ করার কথা। দায়রা সোপর্দ করা হলে মামলাটিকে বিচারের জন্য দায়রা আদালতে পাঠানো হবে।
গত ২৫ এপ্রিল ব্যবসায়িক কাজে মোটর বাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান অরণ্যশহরের বলরামডিহির বাসিন্দা বছর পঁচিশের সৌরভ অগ্রবাল ওরফে রকি। রকির বাবা পবনকুমার অগ্রবালের ইমারতি সরঞ্জামের বড় ব্যবসা রয়েছে। বাণিজ্যের স্নাতক রকি বাবার ব্যবসার সঙ্গে সক্রিয় ভাবে যুক্ত ছিলেন। ইতিমধ্যে অপহরণকারীরা রকির পরিজনদের মোবাইলে ফোন করে মুক্তিপণ বাবদ তিন কোটি দাবি করে। গত ৬ মে ওড়িশার গঞ্জাম জেলার রম্ভা থানার পুলিশ রকির দেহ উদ্ধার করে। বশেষ সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে রকিকে অপহরণ করে খুনের মূলপাণ্ডা হলেন ঝাড়গ্রামের বাসিন্দা পেশায় ঠিকাদার অশোক শর্মা। রকির পরিবারের সঙ্গে অশোকের যথেষ্ট হৃদ্যতা ছিল। জিনিসপত্র। রকি-খুনের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ২৮ মে অশোকের দাদা রমেশ শর্মা, রমেশের ছোট ছেলে রোহিত শর্মা ও রমেশের শ্যালক দীনেশ শর্মাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মূল অভিযুক্ত অশোক শর্মার স্ত্রী পুনমকে গত ১৪ জুলাই বেঙ্গালুরু থেকে ধরেছিল ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশ।