শহরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে রাহুল হাতি এবং শম্ভু নায়েক নামে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের বিরুদ্ধে খুন ও ছিনতাইয়ের অভিযোগেই মামলা রুজু করেছে পুলিশ। শুক্রবার মেদিনীপুর সিজেএম আদালতে হাজির করা হলে ধৃতদের ১০ দিন পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষ বলেন, “মেদিনীপুর শহরে খুনের ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
বুধবার রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে খুন হন স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন পাণ্ডব। বাড়ি শহরের পাটনাবাজারে। শহরের বটতলাচকে তাঁর সোনার দোকান রয়েছে। বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে তাঁকে গুলি করে খুন করে দুষ্কৃতীরা। তারপর ব্যবসায়ীর সঙ্গে থাকা সোনার গয়না ও নগদ টাকা ভর্তি ব্যাগ এবং মোটর বাইক নিয়ে চম্পট দেয়। বৃহস্পতিবার সকালে রেলসেতু লাগোয়া কংসাবতী নদীর পাশ থেকে মোটর বাইকটি উদ্ধার হলেও খোওয়া যাওয়া সোনার গয়না ও টাকার হদিস পায়নি পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত দুই যুবকের মধ্যে রাহুলের বাড়ি হর্ষণদিঘিতে। শম্ভুর বাড়ি তলকুইতে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের মনে হয়েছিল, দুষ্কৃতীদের কোনও একজন নিহত ব্যবসায়ীর পরিচিত ছিল। তার কথাতেই স্বপনবাবু মোটর বাইক নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়েন। তখনই তাঁকে গুলি করা হয়। যেখানে স্বপনবাবুর দোকান, সেই বটতলাচকের অদূরেই হর্ষণদিঘি। পুলিশের এক সূত্রে খবর, রাহুলের মুখ-চেনা ছিল স্বপনবাবুর। মাঝেমধ্যে এই যুবক দোকানেও আসত।
বুধবার রাতে যখন ঘটনাটি ঘটে, তখন বিশ্বকাপ ফুটবলের আর্জেন্তিনা-নাইজিরিয়া খেলা চলছে। এলাকার অনেকেরই চোখ তখন টিভিতে। ততক্ষণে মেসির পা থেকে গোলও এসেছে। তাই গুলির আওয়াজ শুনে অনেকেই মনে করেছিলেন, আনন্দে কেউ পটকা ফাটিয়েছেন। বিকট আওয়াজ যে গুলির শব্দ, তা তাঁরা ভাবতেই পারেননি। পরে স্থানীয় কয়েকজনই দেখেন, মহাপ্রভু মন্দিরের অদূরে রাস্তার উপর স্বপনবাবুর দেহ পড়ে রয়েছে। আশপাশ রক্তে ভরে গিয়েছে।
সাম্প্রতিক অতীতে মেদিনীপুর শহরে খুনের ঘটনা ঘটলেও এ ভাবে কোনও স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুন হননি। স্বভবতই নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন মেদিনীপুর শহরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী এবং স্বর্ণশিল্পীরা। পুলিশি নিরাপত্তার দাবিতে আজ, শনিবার প্রতিবাদ দিবস পালনের ডাক দিয়েছে মেদিনীপুর স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতি এবং বঙ্গীয় স্বর্ণশিল্পী সমিতির শহর কমিটি। দুই সংগঠনই জানিয়েছে, শনিবার শহরের সব ক’টি সোনার দোকান বন্ধ থাকবে। কোনও স্বর্ণশিল্পী কাজ করবেন না। মেদিনীপুরের উপ-পুরপ্রধান তথা বঙ্গীয় স্বর্ণশিল্পী সমিতির শহর সম্পাদক জিতেন্দ্রনাথ দাস বলেন, “নৃশংস ভাবে ওই তরুণ স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে খুন করা হয়েছে। স্বর্ণ ব্যবসায়ী এবং স্বর্ণশিল্পীদের এই উদ্বেগ স্বাভাবিক।” শহরে পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ানোরও দাবি করেছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা।