Advertisement
E-Paper

সময়ে চলুক সব ট্রেন, দাবি যাত্রীদের

ট্রেন চলাচলে বিলম্ব, বিকল টিকিট ভেন্ডিং মেশিন, দূরপাল্লার ট্রেনে নিম্নমানের খাওয়ার, অপরিচ্ছন্ন শৌচালয়, ঢিলেঢালা নিরাপত্তা- অভিযোগ রয়েছে ভুরিভুরি। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভু যাত্রী পরিষেবার মানোন্নয়নের উপর জোর দিয়েছেন। আজ, বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় রেল বাজেট।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০০:৫৮

ট্রেন চলাচলে বিলম্ব, বিকল টিকিট ভেন্ডিং মেশিন, দূরপাল্লার ট্রেনে নিম্নমানের খাওয়ার, অপরিচ্ছন্ন শৌচালয়, ঢিলেঢালা নিরাপত্তা- অভিযোগ রয়েছে ভুরিভুরি। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভু যাত্রী পরিষেবার মানোন্নয়নের উপর জোর দিয়েছেন। আজ, বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় রেল বাজেট। তার আগে রেলযাত্রীদের একাংশের প্রশ্ন, উন্নত যাত্রী পরিষেবা মিলবে কবে।

ট্রেন চলাচলে বিলম্বের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। রেলযাত্রীদের অভিযোগ, প্রতিবার বাজেট আসে। নতুন কিছু ঘোষণা হয়। কিন্তু সময়ে ট্রেন চলার দাবি সকলের অগোচরেই থেকে যায়। স্কুল শিক্ষক জ্যোতিন্দ্রনাথ দাসের দাবি, ‘‘ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সময়ে ট্রেন চলাচলও করা উচিত। খড়্গপুর স্টেশনে দুর্গন্ধে দাঁড়ানো দুষ্কর। প্রতিটি স্টেশন চত্ত্বর ও ট্রেনে পরিচ্ছন্নতা প্রয়োজন।’’

ট্রেনে ঢিলেঢালা নিরাপত্তার অভিযোগ তো রয়েইছে। রেলযাত্রীদের একাংশের অভিযোগ, দূরপাল্লার ট্রেন ও লোকাল ট্রেনে সব সময় পর্যাপ্ত আরপিএফ থাকে না। প্রতিবছর পুজোর সময় বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে যান খড়্গপুরের বাসিন্দা সরকারি কর্মী সোমা সেনগুপ্ত। তিনি বলেন, “আগে ট্রেন অনেক বেশি নিরাপদ ছিল। কিন্তু এখন রাতের ট্রেনে নিরাপত্তা অনেক ঢিলেঢালা। আরপিএফ চোখে পড়ে না। রাতে একা শৌচালয়ে যেতেও ভয় লাগে। খাবারের মানোন্নয়নও প্রয়োজন।”

তালিকায় রয়েছে আরও অনেক সমস্যা।

সমস্যা এক: টিকিট কাউন্টারে ভিড়ের চাপ কমাতে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের খড়্গপুর ডিভিশনের বিভিন্ন স্টেশনে একাধিক ‘অটোমেটিক টিকিট ভেন্ডিং মেশিন’ বসানো হয়। যদিও বর্তমানে ডিভিশনের মেদিনীপুর, বাগনান, সাঁতরাগাছি, পাঁশকুড়া, গিরিময়দান, বেলদা, ঝাড়গ্রাম-সহ বিভিন্ন স্টেশনে বসানো মেশিনগুলির অধিকাংশই বিকল। আবার কোথাও মেশিন চালু থাকলেও রেলযাত্রীদের অনেকেই মেশিন ব্যবহারের পদ্ধথি জানেন না। ফলে পড়েই রয়েছে মেশিনগুলি।

রেল সূত্রে খবর, টিকিট ভেন্ডিং মেশিন ব্যবহারে যাত্রীদের সাহায্য করার জন্য এক জন করে সহায়ক নিয়োগ করার কথা। সে ক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মীরা আবেদনের মাধ্যমে এই পদে কাজ পান। যদিও অধিকাংশ মেশিনের পাশেই সহায়কের দেখা মেলে না। অভিযোগ, অনেকক্ষেত্রে টিকিটের কাগজের রোল, কালির অভাবে মেশিন থেকে টিকিট বেরোয় না। বুধবার খড়্গপুর স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়েও মেশিনে টিকিট কাটতে ব্যর্থ হন খড়্গপুরের রেলযাত্রী বিকাশ চৌহান। তাঁর অভিযোগ, “টিকিট কাউন্টারের দীর্ঘ লাইনে না দাঁড়িয়ে মেশিন থেকে টিকিট কাটার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু এই মেশিন কী ভাবে ব্যবহার করতে হয় সেটাই আমার জানা নেই। ফলে সমস্যায় পড়েছি।”

সমস্যা দুই: খড়্গপুর ডিভিশনের অধিকাংশ স্টেশনে পানীয় জলের ব্যবস্থা নিম্নমানের। কোথাও স্টেশনের কল থেকে লোহা মিশ্রিত জল পড়ে আবার কোথাও দুপুরের অসহ্য তাপে খেতে হচ্ছে গরম জলই।

সমস্যা তিন: অভিযোগ, বিভিন্ন রেলস্টেশনে নিয়মিত সাফাই হয় না। অনেক ট্রেনও অপরিষ্কার থাকে বলে অভিযোগ। কলকাতার বাসিন্দা খড়্গপুর আইআইটি-র গবেষক ছাত্রী অন্বেষা সেনগুপ্তর কথায়, “লোকাল ট্রেনেও শৌচালয় থাকা উচিত। কারণ লোকাল ট্রেনে দীর্ঘ যাত্রা পথে মহিলা ছাড়াও বৃদ্ধ যাত্রীদের অনেক সময় অসুবিধা হয়।” তাঁর দাবি, ‘‘স্টেশন ছাড়াও ট্রেনের পরিচ্ছন্নতার দিকেও রেল কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া জরুরি।’’

সময়ে ট্রেন চলা বা ঢিলেঢালা নিরাপত্তার অভিযোগ তো রয়েইছে। ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর মেদিনীপুর-হাওড়া ডেইলি প্যাসেঞ্জার্স’-এর সাধারণ সম্পাদক হিমাংশু পাল বলেন, “এ বারের রেল বাজেটের জন্য ইতিমধ্যেই বেশ কিছু দাবি জানিয়েছি। এর মধ্যে খড়্গপুর থেকে দুমকা এক্সপ্রেস ফের চালু, মেদিনীপুর-দিঘা নতুন ট্রেন, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য ট্রেনের সংরক্ষিত আসনের দাবিও রয়েছে। আমাদের আশা রেলমন্ত্রী এই বিষয়ে জোর দেবেন।’’

শুধু তাই নয়, রেল বাজেটে পূর্ব ঘোষিত বিভিন্ন প্রকল্পের কাজও বিশ বাঁও জলে। ২০১০ সালে তদানীন্তন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খড়্গপুরের বাইটন ময়দানে দাঁড়িয়ে খড়্গপুরে ‘অ্যাডভান্সড লোকো পাইলট ট্রেনিং সেন্টার’ গড়ে তোলার কথা ঘোষণা করেছিলেন। ১২ কোটি টাকা বরাদ্দও হয়। এত দিন দক্ষিণ-পূর্ব রেলের টাটানগরে লোকো ট্রেনের চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হত। খড়্গপুরে ডিজেল ট্রেনের চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ছিল। নতুন ট্রেনিং সেন্টার চালু হলে আরও বেশি সংখ্যক লোকো ট্রেন চালককে উন্নতমানের প্রশিক্ষণ দেওয়া যেত। যদিও চাঁদমারি ময়দানের কাছে এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ এখনও শুরুই হয়নি।

দক্ষিণ-পূর্ব রেলের মেনস্‌ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রহ্লাদ সিংহ বলেন, “ওই ট্রেনিং সেন্টার চালু হলে অনেক উন্নতমানের প্রশিক্ষণ পেতেন চালকেরা। গতবার রেল বাজেটে এ বিষয়ে কোনও বার্তা মেলেনি। এ বার কী হয় দেখা যাত।’’

নতুন কোনও ট্রেনের ঘোষণা অথবা অন্য কোনও চমক- বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই টিভির পর্দায় চোখ রাখবেন সকলে। তবে রেলযাত্রীদের অধিকাংশের একটাই প্রশ্ন, রেলের সার্বিক পরিকাঠামোর সমস্যার সমাধান হবে তো। উত্তর অবশ্য দেবে সময়ই।

দক্ষিণ-পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সঞ্জয় ঘোষ বলেন, “প্রতি বছর কাজের হিসেব আমরা রেলবোর্ডে জমা দিয়ে থাকি। সেই অনুযায়ী প্রকল্প ঘোষণা হয়ে থাকে। তাই রেল বাজেট ঘোষণার দিকে আমরাও তাকিয়ে রয়েছি।”

train passenger demand time
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy