Advertisement
E-Paper

সর্বত্র লাইন, ব্যতিক্রম শুধু মেদিনীপুর কলেজ

পাশাপাশি দুই কলেজের আলাদা দুই ছবি। এক কলেজের সামনে ফর্ম তোলার লম্বা লাইন। রোদে পুড়ে ঘেমেটেমে একসা হচ্ছেন ছাত্রছাত্রীরা। লাইনে দাঁড়ানোর দেড়-দু’ঘণ্টা পরে মিলছে ফর্ম। অন্য কলেজের সামনে তেমন লাইনই নেই। প্রথমটি মেদিনীপুর কমার্স কলেজ। যেখানে অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। দ্বিতীয়টি মেদিনীপুর কলেজ। যেখানে এ বছর থেকেই প্রথম অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ জুন ২০১৪ ০১:০৮
মেদিনীপুর কলেজের সামনে ফর্ম পূরণে ছাত্রছাত্রীদের সাহায্যার্থে টিএমসিপি’র ক্যাম্প। ছবি: রামপ্রসাদ সাউ।

মেদিনীপুর কলেজের সামনে ফর্ম পূরণে ছাত্রছাত্রীদের সাহায্যার্থে টিএমসিপি’র ক্যাম্প। ছবি: রামপ্রসাদ সাউ।

পাশাপাশি দুই কলেজের আলাদা দুই ছবি। এক কলেজের সামনে ফর্ম তোলার লম্বা লাইন। রোদে পুড়ে ঘেমেটেমে একসা হচ্ছেন ছাত্রছাত্রীরা। লাইনে দাঁড়ানোর দেড়-দু’ঘণ্টা পরে মিলছে ফর্ম। অন্য কলেজের সামনে তেমন লাইনই নেই। প্রথমটি মেদিনীপুর কমার্স কলেজ। যেখানে অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। দ্বিতীয়টি মেদিনীপুর কলেজ। যেখানে এ বছর থেকেই প্রথম অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

দুই মেদিনীপুরের মধ্যে একমাত্র মেদিনীপুর কলেজে চালু হয়েছে অনলাইনে ছাত্রভর্তি। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ন্তগত বাকি ৪১টি কলেজেই চলছে পুরানো পদ্ধতিতে ভর্তি প্রক্রিয়া। দীর্ঘ লাইন দিয়ে ফর্ম তুলে, ফের লাইন দিয়ে জমা দেওয়া। আর অনলাইন হলে ফর্ম পূরণের পরে শুধু কলেজে গিয়ে ব্যাঙ্ক ড্রাফট জমা দেওয়া। অনলাইনের সুবিধে যে রয়েছে, তা মানছেন শিক্ষক থেকে শিক্ষার্থী সকলেই।

অন্য বছরে ফর্ম দেওয়ার পর থেকেই মেদিনীপুর কলেজে ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটত। কখনও সিপি-টিএমসিপি, কখনও এসএফআই-টিএমসিপির মধ্যে গোলমাল হত। এ বার এখনও পর্যন্ত মেদিনীপুর কলেজে ছাত্র সংঘর্ষের কোনও ঘটনা ঘটেনি। কলেজের অধ্যক্ষ সুধীন্দ্রনাথ বাগ বলছেন, “সিদ্ধান্তই নিয়েছিলাম, এ বছর থেকে অনলাইন চালু করব। তারপর থেকে সব কিছু শান্তিপূর্ণ ভাবেই হচ্ছে।” অন্য দিকে অনলাইন চালু করতে না পারার জন্য ছাত্রছাত্রীদের অসুবিধার কথা স্বীকার করে কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ বিবেকানন্দ দাসমহাপাত্র আশ্বাস দিয়েছেন, তিনি পরের বছরে অনলাইন চালুর চেষ্টা করবেন।

অনলাইনের সুবিধে হাতেনাতে পাচ্ছেন পড়ুয়ারাও। যেমন মেদিনীপুর কলেজে ভর্তির জন্য আবেদন করেছেন শুভ কর, অনামিকা মণ্ডলেরা। শুভর কথায়, “ফর্মপূরণ করতে তেমন সমস্যাই হয়নি। রোদে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে ফর্ম তোলা তো আর কম ঝক্কির ব্যাপার নয়। সাইবার ক্যাফেতে গিয়ে অনলাইনে ফর্মপূরণ করি। পরে ব্যাঙ্ক ড্রাফট কলেজে গিয়ে জমা দিয়ে আসি।” কমার্স কলেজে ভর্তির জন্য আবেদন করেছেন অনির্বাণ দত্ত। অনির্বাণের অভিজ্ঞতা অবশ্য শুভর মতো সুখকর নয়। কেমন? তাঁর কথায়, “এই রোদে লাইনে দাঁড়ানোটাই তো অস্বস্তির। ১০টা নাগাদ লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। সাড়ে ১১টা নাগাদ ফর্ম পেয়েছি। পূরণ করে সোমবার জমা দেব।”

মেদিনীপুর কলেজের সামনে বিক্ষোভ

বস্তুত, এ বার গত এপ্রিলেই সব কলেজে অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই নিয়ে কলেজে কলেজে নির্দেশও পাঠানো হয়। কিন্তু, রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়কেও পিছনের দিকে ফিরিয়ে দেয়। রাজ্যের মনোভাব বুঝে চলতি মাসের গোড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেন, অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক নয়। ফলে, একমাত্র মেদিনীপুর কলেজ বাদে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বাকি সব কলেজেই কলেজ থেকে ফর্ম দেওয়া শুরু হয়েছে। সামনে আসছে সেই একই সমস্যা! ফর্ম দেওয়া ঘিরে ইতিমধ্যে একাধিক কলেজে বিশৃঙ্খলা হয়েছে। আগামী দিনে অন্য কলেজেও এই পরিস্থিতি হতে পারে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, কেন্দ্রীয় ভাবে অনলাইন চালু হলে এই অসুবিধা এড়ানো যেত।

অনলাইনে ভর্তি নিয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর কী বলছে? বিরোধী সংগঠনগুলোর দাবি, সব কলেজে অনলাইন চালু হলে ভর্তির ব্যাপারটা মেধার ভিত্তিতে হত। সেই ক্ষেত্রে অন্য পথে কিছু করা সম্ভব ছিল না। কোটারও কোনও ব্যাপার সামনে আসত না। ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি মহম্মদ সইফুলের অভিযোগ, “অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া বাতিল করে টিএমসিপিকে টাকা চুরি করার সুযোগ করে দেওয়া হল!” এসএফআইয়ের জেলা সম্পাদক সৌগত পণ্ডা বলেন, “অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া হলে স্বচ্ছতা আসত।” ডিএসওর জেলা সম্পাদক মণিশঙ্কর পট্টনায়েকের মত, অনলাইনের সুযোগ থাকার পাশাপাশি কাউন্টার থেকেও ফর্ম দেওয়া হোক।

টিএমসিপির জেলা সভাপতি রমাপ্রসাদ গিরির অবশ্য পাল্টা প্রশ্ন, “মেদিনীপুর কলেজে তো অনলাইন চালু হয়েছে। কী সুবিধে হয়েছে? ফর্মপূরণের জন্য পড়ুয়াদের সাইবার ক্যাফেতে যেতে হচ্ছে। সুযোগ বুঝে ক্যাফেগুলো টাকা লুটছে!” রামপ্রসাদের দাবি, অনলাইনে বরং খরচা বেশি হচ্ছে। কিন্তু, অনলাইন চালু না-হলে ভর্তিতে প্রভাব খাটানোর সুযোগ থাকে। এটা ঠিক? টিএমসিপির জেলা সভাপতি অবশ্য এ সব অভিযোগ মানতে চাননি।

long queue admission at medinipur college
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy