Advertisement
E-Paper

দফতর বণ্টনের আগেই মন্ত্রীর চেয়ারে বসে পড়লেন, ভাইরাল হল ছবি, অস্বস্তি বাড়তেই ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ভাস্কর

যে ঘরে মন্ত্রীকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সেটি পূর্বতন সরকারের পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী তথা বিষ্ণুপুরের বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের জন্য বরাদ্দ ছিল। এ বারের ভোটে তৃণমূলের পরাজয়ের মাঝেও জিতেছেন দিলীপ, পরে বিতর্কিত বক্তৃতা করে আপাতত শ্রীঘরে রয়েছেন তিনি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬ ১৩:১১
Minister Takes a Seat Without Being Assigned a Portfolio; As Photo Goes Viral, Sreeramp০re BJP MLA Bhaskar Bhattacharya Explains the Reason

শ্রীরামপুরের বিধায়ক তথা প্রতিমন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্যের ভাইরাল হওয়া সেই ছবি। ছবি: সংগৃহীত।

দফতর না পেলেও মন্ত্রীর চেয়ারে বসলেন শ্রীরামপুরের বিধায়ক তথা প্রতিমন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য। আর সেই ছবি ভাইরাল হতেই শুরু হয় বিতর্ক। নিজেই ঘটনার কথা জানিয়ে যাবতীয় জল্পনার নিরসন করলেন প্রথম বারেই ভোটে জয়ী হয়ে প্রতিমন্ত্রী হওয়া এই বিধায়ক। সোমবার রাজভবনে মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণের পর সব মন্ত্রীর জন্য বরাদ্দ হয় একটি করে গাড়ি। প্রতিমন্ত্রী ভাস্করকেও একটি গাড়ি দেওয়া হয় পরিবহণ দফতর তরফে। কিন্তু এক দিন পরেই গাড়িটিতে কিছু যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয়। সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানাতেই মন্ত্রীকে পরামর্শ দেওয়া হয়, তিনি নিজে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে পরিবহণ দফতরের সঙ্গে কথা বলুন। সেই পরামর্শ মতো বুধবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষ হলে ভাস্কর যান কলকাতার পরিবহণ ভবনে। সেখানেই পরিবহণ সচিব সুরেন্দ্র গুপ্তের সঙ্গে দেখা করে নিজের সমস্যার কথা জানান। প্রতিমন্ত্রীর সমস্যা মেটাতে উদ্যোগী হন পরিবহণ দফতরের আধিকারিকরা।

প্রতিমন্ত্রীর দাবি, অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর গাড়ি সংক্রান্ত বিষয়ের সমস্যার সমাধান করে দেন পরিবহণ দফতরের আধিকারিকেরা। দফতর ছেড়ে বেরোনোর আগে পরিবহণ দফতরের আধিকারিক এবং কর্মীদের একাংশ তাঁকে মন্ত্রিপদের দায়িত্ব পাওয়ার জন্য সংবর্ধনা জানাতে চান। তিনি সম্মতি দিলে, তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় একটি ঘরে। ভাস্কর বুঝতে পারেন তাঁকে পরিবহণ দফতরের জন্য বরাদ্দ মন্ত্রীর ঘরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তিনি ওই আধিকারিকদের জানান, মুখ্যমন্ত্রী এখনও দফতরের দায়িত্ব বণ্টন করেননি। তাই তাঁর কোনও মন্ত্রীর ঘরে যাওয়াটা ঠিক নয়। কর্মীরা জানান, তাঁকে সংবর্ধনা জ্ঞাপনের জন্য অন্য কোনও মঞ্চ বা ঘর তৈরি নেই। তাই তাঁকে মন্ত্রীর জন্য তৈরি ঘরেই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানেই তাঁকে সংবর্ধিত করেন পরিবহণ দফতরের আধিকারিক ও কর্মীদের একাংশ। মন্ত্রীর চেয়ারে তাঁকে বসতে অনুরোধ করা হয়। অনুরোধ রাখতে, কয়েক সেকেন্ডের জন্য মন্ত্রীর আসনেও বসেন তিনি। সেই সময় বেশ কিছু ছবিও তোলেন পরিবহণ দফতরের কর্মীরা। তার পরেই সেখান থেকে বেরিয়ে নিজের গন্তব্যে রওনা দেন শ্রীরামপুরের বিজেপি বিধায়ক।

তিনি পরিবহণ দফতর থেকে বেরিয়ে আসার অল্প সময়ের মধ্যে সংবর্ধনা জ্ঞাপনের ছবি ভাইরাল হতে শুরু করে। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশাসনের অন্দরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। দফতর বণ্টনের আগে কী ভাবে একজন প্রতিমন্ত্রী কোনও দফতরে গিয়ে মন্ত্রীর চেয়ারে বসতে পারেন? এ বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে ভাস্কর বলেন, ‘‘আমার গাড়ি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের জন্য আমি পরিবহণ দফতরে গিয়েছিলাম। সেখানে পরিবহণ সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজের সমস্যার কথা বলতেই দ্রুত উদ্যোগী হয়ে তাঁরা আমার সমস্যার সমাধান করে দেন। এর পরেই ওখানকার কর্মীরা আমার কাছে এসে বলেন, ‘আপনাকে সংবর্ধনা জানাতে চাই’। তাতে আমি সম্মতি দিই। সেই সময় আমাকে একটি ঘরে নিয়ে যাওয়া হলে বুঝতে পারি সেটি মন্ত্রীর জন্য বরাদ্দ ঘর।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আমি তাঁদের জানাই এখনও মুখ্যমন্ত্রী আমাকে কোনও দায়িত্ব দেননি। তাই কোনও মন্ত্রীর ঘরে যাওয়া বা বসা ঠিক নয়। উপস্থিত আধিকারিক ও কর্মীদের জোরাজুরির কারণেই আমাকে কয়েক সেকেন্ডের জন্য ওই আসনে বসতে হয়েছিল। সেই সময় ছবিগুলো তোলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমি পরিবহণ দফতরের আধিকারিক ও কর্মীদের অনুরোধ ফেলতে পারিনি। আশা করি আমার উত্তরের পর আর কোনও বিতর্ক হবে না।’’

প্রসঙ্গত, যে ঘরে মন্ত্রীকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সেটি পূর্বতন সরকারের পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী তথা বিষ্ণুপুরের বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের জন্য বরাদ্দ ছিল। এ বারের ভোটে তৃণমূলের পরাজয়ের মাঝেও জিতেছেন দিলীপ। তবে বিতর্কিত বক্তৃতা করে আপাতত শ্রীঘরে। জমানা বদলের সঙ্গে সঙ্গে সেই ঘর থেকে দিলীপের নেমপ্লেট সরানোর পাশাপাশি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। পরিবর্তে নতুন মন্ত্রীর আগমনের কথা মাথায় রেখে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্যপাল আর এন রবির ছবি দিয়ে নতুন করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে ওই ঘরটি। নতুন এই ঘরটিতে কোন মন্ত্রী বসবেন তা জানা যাবে শুক্রবার।

BJP MLA Viral Post
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy