Advertisement
E-Paper

বিধাননগরও খোয়াল তৃণমূল! মেয়র কৃষ্ণার ইস্তফা, রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই আর নিয়ন্ত্রণে ছিল না পুরসভা

মেয়র হিসাবে আরও প্রায় আট মাসের মেয়াদ বাকি ছিল কৃষ্ণার। ২০১৯ থেকে ২০২২, তার পর ২০২২ থেকে ২০২৬-এর ৪ জুন পর্যন্ত দু’দফায় বিধাননগরের মেয়র পদে ছিলেন কৃষ্ণা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬ ১৩:৪৫
কৃষ্ণা চক্রবর্তী।

কৃষ্ণা চক্রবর্তী। —ফাইল চিত্র।

ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেন বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী। ফলে কলকাতা লাগোয়া এই পুরনিগমের নিয়ন্ত্রণও হাতছাড়া হল তৃণমূলের। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিধাননগর পুরনিগমের কমিশনারের কাছে ইস্তফাপত্র তুলে দেন কৃষ্ণা। জানা গিয়েছে, রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং দফতরের সচিবের কাছেও পদত্যাগপত্রের কপি পাঠিয়েছেন কৃষ্ণা।

মেয়র হিসাবে আরও প্রায় আট মাসের মেয়াদ বাকি ছিল কৃষ্ণার। ২০১৯ থেকে ২০২২, তার পর ২০২২ থেকে ২০২৬-এর ৪ জুন পর্যন্ত দু’দফায় বিধাননগরের মেয়র পদে ছিলেন কৃষ্ণা। ২০১৯-এর আগে বিধাননগরের মেয়র ছিলেন সব্যসাচী দত্ত। তার পর সব্যসাচীকে সরিয়ে কৃষ্ণাকে মেয়র পদে নিয়ে আসে তৃণমূল। সব্যসাচী বর্তমানে বিধাননগর পুরনিগমের চেয়ারম্যান।

বৃহস্পতিবার নিজের দফতর থেকে বেরোনোর সময় কৃষ্ণা বলেন, “সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করছি।” পরে অবশ্য তিনি বলেন, “আমি যে ভাবে কাজ করতে চাইছিলাম, সে ভাবে পারছিলাম না। বোর্ড মিটিং হচ্ছিল না, কাউন্সিলররা আসছিলেন না। আধিকারিকেরাও ব্যস্ত থাকছিলেন। আমি মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারব না।” তবে গত ১৬ বছরের মতো এখনও কাউন্সিলর হিসাবে তিনি কাজ চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন কৃষ্ণা। ভালবাসা দেওয়ার জন্য বিধাননগরবাসীকে ধন্যবাদও জানান কৃষ্ণা। গাড়িতে ওঠার সময় খানিক আবেগতাড়িত হয়ে পদত্যাগী মেয়র বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মায়ের মতো।”

পদত্যাগ নিয়ে অবশ্য কৃষ্ণাকে কটাক্ষ করেছেন বিধাননগরের বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “উনি (কৃষ্ণা) টাকার গদিতে বসেছিলেন। বিধাননগরে ম্যাডামের ১৮-১৯টা সম্পত্তির কথা জানতে পেরেছি। সেগুলো প্রকাশের আগে উনি লজ্জায় আড়ালে চলে গেলেন।”

কৃষ্ণা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত। এক সময় যুব কংগ্রেস করতেন। সেই সূত্রেই তাঁর মমতার সঙ্গে আলাপ। ১৯৯৮ সালে মমতা কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে তৃণমূল গঠন করলে নতুন দলে যোগ দেন কৃষ্ণা। রাজনীতির সূত্রেই কৃষ্ণার প্রেম এবং পরে প্রণয় সমীর চক্রবর্তীর সঙ্গে, যিনি বুয়া নামে সমধিক পরিচিত। ২০১২ সালে কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে যোগ দেন সমীর। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পান্ডুয়া আসনে তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে বিজেপির কাছে পরাজিত হন সমীর।

বুধবারই তৃণমূল সূত্রে জানা যায়, কলকাতার মেয়র পদ ছাড়তে চেয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ জানান, নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অনুমতি নিয়েই ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ফিরহাদ। যদিও ফিরহাদ নিজে এ নিয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেননি। এর আগে রাজ্যের আর এক পুরনিগম চন্দননগরও হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূলের। সেখানকার মেয়র রাম চক্রবর্তী পদত্যাগ করেছেন। এখন সেখানে প্রশাসক বসানো হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় তৃণমূল‌ের জনপ্রতিনিধিদের পদত্যাগের হিড়িক চলছে। সেই চালিকায় নতুন সংযোজন বিধাননগরের মেয়র।

Krishna Chakraborty Bidhannagar
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy