তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য সভাপতির পদ ছাড়ার ঘোষণা করে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চার জন্ম দিলেন ইটাহারের বিধায়ক মোশারফ হোসেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে তৃণমূলের অন্দরেই শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সোমবার বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের দিন তাঁকে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে দেখা যেতে পারে।
পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মোশারফ বলেন, “কয়েক দিন আগে সংবাদমাধ্যমের খবরে জানতে পারি আমাকে তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য সভাপতি করা হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে আমি কোনও সরকারি চিঠি পাইনি। তাই আমিও মৌখিক ভাবেই ওই পদ ছাড়ার কথা জানিয়েছি। যদি চিঠি পেতাম, তা হলে লিখিত ভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিতাম।”
এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে ইটাহার কেন্দ্র থেকে দ্বিতীয় বারের জন্য তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়েছেন মোশারফ। দলের তরুণ মুখ হিসেবে গত কয়েক বছরে তাঁর উত্থান ছিল অত্যন্ত দ্রুত। রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘ দিন ধরেই আলোচনা ছিল, তৃণমূলের সংখ্যালঘু সংগঠনের মধ্যে মোশারফের উত্থান অনেকটা উল্কাগতিতে হয়েছে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রবীণ নেতা অমল আচার্যের পরিবর্তে ইটাহার কেন্দ্রে মোশারফকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। নির্বাচনে জয়ের পর বিধানসভায় তাঁর বক্তব্য এবং সাংগঠনিক সক্রিয়তা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নজর কাড়ে। বিশেষ করে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘনিষ্ঠ’ বলেই তাঁকে মনে করা হত।
দলের একাধিক প্রবীণ ও অভিজ্ঞ সংখ্যালঘু নেতাকে পিছনে ফেলে মাত্র তিরিশ বছর বয়সেই তিনি সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব পান। পাশাপাশি তাঁকে সংখ্যালঘু বিত্ত নিগমের চেয়ারম্যান পদও দেওয়া হয়। ফলে সংগঠনের মধ্যে তাঁর গুরুত্ব দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছিল।
আরও পড়ুন:
সেই মোশারফের পদত্যাগ এবং বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ককে ঘিরে যখন রাজ্যের রাজনীতি নতুন সমীকরণের দিকে এগোচ্ছে, তখন মোশারফের এই পদক্ষেপ তৃণমূলের কাছে বড় ধাক্কা হতে পারে বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের।
সোমবারের বাজেট অধিবেশনে মোশারফের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে দীর্ঘ দিনের জল্পনার অবসান হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।