Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৩ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

তৃণমূলের দ্বন্দ্ব উস্কে দিলেন মুকুল

নিজস্ব সংবাদদাতা
সবং ০৩ ডিসেম্বর ২০১৭ ০১:৩৩
বিজেপি-র কর্মিসভায় মুকুল রায়। ছবি: দেবরাজ ঘোষ

বিজেপি-র কর্মিসভায় মুকুল রায়। ছবি: দেবরাজ ঘোষ

কংগ্রেস, তৃণমূল ও সিপিএম প্রার্থীর নাম ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। সে দিক থেকে সবং উপ-নির্বাচনে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে বিজেপি। কারণ, শনিবার পর্যন্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি গেরুয়া। কাল, সোমবার মনোনয়ন জমার শেষ দিন। তার আগে সবংয়ের মাটিতে এসে তৃণমূল-ত্যাগী সাংসদ মুকুল রায় কর্মিসভা করলেও প্রার্থীর নাম নিয়ে উচ্চবাচ্য করেননি। বিজেপি প্রার্থী হিসেবে যাঁর নাম উঠে আসছে, সেই লকেট চট্টোপাধ্যায়ও আসেননি। ফলে, জল্পনা শুরু হয়েছে।

শনিবার সবং কলেজ সংলগ্ন গেস্ট হাউজে বিজেপি-র কর্মী বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন মুকুল রায়। বিজেপি সূত্রের খবর, রুদ্ধদ্বার এই বৈঠকে দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করার চেষ্টা করেছেন মুকুল। এমনকী জয়ের আশাও জাগিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে উস্কে দিয়েছেন মানস ভুঁইয়ার স্ত্রীকে প্রার্থী করা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে নতুন-পুরনো বিবাদ। পরে মুকুল সাংবাদিকদের বলেন, “কংগ্রেস কর্মীরা মনেপ্রাণে মানস ভুঁইয়ার স্ত্রীকে প্রার্থী বলে মানতে পারছেন না। তৃণমূলের কর্মীরাও এই প্রার্থীকে মেনে নিতে পারছেন না। তাই নির্বাচনে অস্বাভাবিক পরিবর্তনের হাওয়া দেখা যাচ্ছে।’’ মুকুলের আরও যুক্তি, সবংবাসী বরাবর শাসক দলের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। দলীয় কর্মী জয়দেব জানা খুনের পরেও জিততে পারেনি তৃণমূল। এই সব অঙ্কেই সবং ভোটে বিজেপি-র জয়ের আশায় মুকুল।

২১ ডিসেম্বর সবংয়ে উপ-নির্বাচন। তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন সদ্য দলে রাজ্যসভার সাংসদ মানসবাবুর স্ত্রী গীতারানি ভুঁইয়া। আর সিপিএম প্রার্থী রিতা মণ্ডল জানা ও কংগ্রেস প্রার্থী হয়েছেন চিরঞ্জিত ভৌমিক। তিনজনই ইতিমধ্যে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এ দিন সবং হাইস্কুলের মাঠে সুব্রত বক্সীর উপস্থিতিতে কর্মিসভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে সুব্রতবাবু বলেন, “সবংয়ের নির্বাচন প্রমাণ করবে বাংলার মাটিতে কোনও বিরোধী রাজনৈতিক দলের জায়গা নেই। এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যাবে যে আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে ঘরে ঘরে বিরোধী দলের প্রার্থী খুঁজতে গেলে লন্ঠন নিয়েও খুঁজে পাবেন না।’’ তবে প্রার্থী ঘোষণা না হলেও নির্বাচনী ময়দানে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ বিজেপি। প্রার্থীর নামের জায়গা ফাঁকা রেখেই দেওয়াল লিখন শুরু করেছে তারা।

Advertisement

মানস-জায়া প্রার্থী হওয়ায় তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভ রয়েছে। এতে জেলা কর্মাধ্যক্ষ অমূল্য মাইতি, তৃণমূলের ব্লক সভাপতি প্রভাত মাইতির মতো পুরনো নেতারা ক্ষুব্ধ বলেই খবর। এ দিন সুব্রত বক্সীও নতুন-পুরনো বিবাদকে দূরে সরিয়ে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন। মঞ্চে অমূল্য মাইতিকে সঞ্চালকের ভূমিকায় দেখাও গিয়েছে। তবে তৃণমূলের একসময়ের ‘ক্রাইসিস ম্যানেজার’ মুকুলকে বলতে শোনা যায়, “অমূল্য মাইতি মুখে এক কথা বলছেন। কান পাতলে অন্য কথা বলছেন। বিকাশ ভুঁইয়ারও ক্ষোভ রয়েছে। ওঁদের দু’জনের উপর নজরদারি চলছে। তা ছাড়া, অনুকূল পরিবেশে ভোট হচ্ছে। বিজেপির জয় কেউ আটকাতে পারবে না।’’

মুকুলকে বিঁধতে ছাড়েননি মানসবাবু। তৃণমূলের কর্মিসভায় তিনি বলেন, “এক নেতা সবংয়ে এসে ১১০জনকে নিয়ে বৈঠক করেছেন। তিনি এখন বিজেপির পতাকা নিয়ে ভাড়াটের সৈনিকের কাজ করছেন। আমার ভাই বিকাশ, অমূল্যকে নিয়ে কথা বলছেন। লজ্জা করে না মেদিনীপুরের বিপ্লবী চেতনাকে আঘাত করতে!” আর সুব্রত বক্সীর আহ্বান, “আপনাদের সঙ্গে রেখে কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালিত রাজনৈতিক দলকে প্রতিহত করতে চাই। ধ্বংস হয়ে যাওয়া কংগ্রেস-সিপিএমকে আরও মাটির তলায় ঢুকিয়ে দিতে চাই।’’

এই পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসের আবহ দেখছে বিজেপি। সবং সন্ত্রস্ত দাবি করে মুকুল এ দিন বলেন, “বাড়ির ভিতর থেকে হাত নাড়ছেন, কিন্তু বেরিয়ে এসে কথা বলতে পারছেন না। চার দিকে বাতাসে বারুদের গন্ধ রয়েছে।’’

আরও পড়ুন

Advertisement