প্রতি দিনই পাচারের কোনও না কোনও নতুন পদ্ধতি খুঁজে বার করছে মাদক কারবারিরা। এ বার সাবান কেসে মাদক পুরে পাচারের ছক কষেছিল পাচারকারীরা। দুই মাদকপাচারকারীকে গ্রেফতার করে ওই কেসের ভিতরে থাকা প্রায় ১১৯ গ্রাম হেরোইন বাজেয়াপ্ত করেছে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ।
প্রাথমিক তদন্তের পরে গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিতে সাবানের মাঝে মাদকের পুরিয়া রেখে তা ভরা হত সাবানের কেসে। এর পর তা ক্যারিয়ারদের দিয়ে দেওয়া হত নির্দিষ্ট জায়গায় পৌছে দেওয়ার জন্য। ধৃত দু’জন ওই মাদক অসম থেকে নিয়ে এসেছিল। ন’টি সাবান কেসের মধ্যে থেকে ওই মাদক উদ্ধার করা হয়েছে বলে গোয়েন্দারা জানান। ধৃতদের বিরুদ্ধে বহরমপুর থানায় মাদক আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।
গোয়েন্দারা জানান, কিছু দিন ধরেই তাঁরা খোঁজ পাচ্ছিলেন যে ট্রেনে মাদক আনা হচ্ছে মুর্শিদাবাদ-সহ বিভিন্ন এলাকায়। সেই মতো বহরমপুর-সহ বিভিন্ন জায়গায় নজরদারি শুরু করেন রাজ্য পুলিশের এসটিএফের তদন্তকারীরা। দুই মহিলাকে আটক করে প্রথমে কিছু না মিললেও ন’টি বিভিন্ন রঙের সাবান কেস দেখে সন্দেহ হয় তদন্তকারীদের। তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে আসে পুরিয়া, যাতে ভরা ছিল হেরোইন-জাতীয় মাদক।
পুলিশ সূত্রের খবর, ধৃত দুই মাদক পাচারকারীর নাম ইসমেত্রা খাতুন এবং সাগড়া খাতুন। দু’জনেরই বাড়ি মুর্শিদাবাদে। শুক্রবার ভোরে বহরমপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তারা অসম থেকে ওই মাদক নিয়ে এসেছিল ট্রেনে, পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল জলঙ্গিতে। এক গোয়েন্দা কর্তা জানান, ধৃতেরা মাদক পাচারের ক্যারিয়ার। সামান্য টাকার টোপ দিয়েই মাদক কারবারিরা ক্যারিয়ার হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে ওই এলাকার মহিলাদের। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, ধৃতদের ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল ওই মাদক অসম থেকে মুর্শিদাবাদে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। এর আগেও তারা ট্রেনে মাদক নিয়ে রাজ্যে এসেছে বলে গোয়েন্দা সূত্রের দাবি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)