E-Paper

তাঁতের সঙ্কট তুলে ধরে ময়দানে সব প্রার্থীরাই

এই প্রেক্ষাপটে শান্তিপুরে সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাই তাঁতশিল্পকে নির্বাচনী প্রচারের বিষয় হিসেবে তুলে ধরছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ০০:৪৭
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

রাজ্যের বয়নশিল্পের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র শান্তিপুরে ভোটের আগে তাঁতশিল্পকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। এলাকার লক্ষাধিক মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু বর্তমানে বিপণনের সমস্যা, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং অতিমারির ধাক্কা— সব মিলিয়ে চাপে পড়েছে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প। সেই সঙ্কট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজছেন শিল্পীরা।

এই প্রেক্ষাপটে শান্তিপুরে সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাই তাঁতশিল্পকে নির্বাচনী প্রচারের বিষয় হিসেবে তুলে ধরছেন। তৃণমূল, বিজেপি ও সিপিএম— প্রত্যেকেই শিল্পীদের কাছে পৌঁছে তাঁদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা চালাচ্ছেন। যদিও তাঁতশিল্পীদের একাংশের বক্তব্য, কেন্দ্র বা রাজ্য, যেই সরকারই আসুক না কেন, তাঁদের মূল দাবি শিল্পের পুনরুজ্জীবন।

ইতিমধ্যেই মাঠে নেমে পড়েছেন প্রার্থীরা। বিজেপি প্রার্থী স্বপন দাস শান্তিপুরের তাঁত কাপড়ের হাটে গিয়ে শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে প্রচার চালাচ্ছেন। সিপিএম প্রার্থী সৌমেন মাহাতোও তাঁতশিল্পীদের মধ্যে প্রচারে সক্রিয়। অন্য দিকে তৃণমূলের প্রার্থী ও বিদায়ী বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী নিজস্ব সংগঠনকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় প্রচার জোরদার করেছেন।

তাঁতশিল্পীদের মতে, বিপণনের অভাব এবং কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি— এই দুই বড় সমস্যার সমাধানই এখন সবচেয়ে জরুরি। এই সমস্যার সমাধানের পথ যে দল বিশ্বাসযোগ্য ভাবে তুলে ধরতে পারবে, তারদিকেই ঝুঁকতে পারে তাঁত মহল। ফলে এই বৃহৎ ভোটব্যাঙ্ক আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলেও বড় ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

বিজেপি প্রার্থী স্বপন দাসের দাবি, “দীর্ঘ দিন ক্ষমতায় থেকেও তৃণমূল সরকার তাঁতশিল্পীদের অবস্থার উন্নতি করতে পারেনি। কেন্দ্রীয় সরকার এই শিল্পের উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ করেছে, সেগুলিই মানুষের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে।” সিপিএমের সৌমেন মাহাতো আবার দাবি করেন, “বাম আমলে তাঁত শিল্পীদের জন্য একাধিক প্রকল্প নেওয়া হলেও বর্তমান সরকারের আমলে তা ধাক্কা খেয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও কাটমানির প্রভাব পড়েছে। উন্নয়নের নামে শুধু তৃণমূল নেতাদের পকেট ভরেছে।”

তৃণমূলের প্রার্থী ব্রজকিশোর গোস্বামীর পাল্টা দাবি, “বিজেপি বা বাম— কেউই বাস্তবে তাঁত শিল্পের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা নেয়নি। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই তাঁত শিল্পীদের উৎপাদিত সামগ্রীর বিপণনের ক্ষেত্রে উদ্যোগী হয়েছে। মানুষ তা দেখছেন।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

tant Santipur

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy