E-Paper

আগে ভোট দিয়েও নাম বাদ, শুনানিতে হয়রানি

রানাঘাট শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ২৪৪ নম্বর বুথের বাসিন্দা কণিকা মৌলিক। স্বামী সত্যরঞ্জনের মৃত্যু হয় ২০০৪ সালে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৪০
কণিকা। রানাঘাটে।

কণিকা। রানাঘাটে। নিজস্ব চিত্র ।

ডিরেক্টর অব স্টেট আর্কাইভ থেকে সংগৃহীত ১৯৬৬ সালের ভোটার তালিকার নিয়ে এসআইআর-এর শুনানিতে হাজির হলেন বৃদ্ধা। তার পরেও সেই নথি গণ্য হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর। ওই ঘটনায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় চরম ভোগান্তি ও হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন ৭৯ বছরের বৃদ্ধা কণিকা মৌলিক এবং তাঁর পরিবার। ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে ভোট দিয়ে আসছেন তিনি। তার পরেও ফের নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার কথা শুনে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছেন বৃদ্ধা।

রানাঘাট শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ২৪৪ নম্বর বুথের বাসিন্দা কণিকা মৌলিক। স্বামী সত্যরঞ্জনের মৃত্যু হয় ২০০৪ সালে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৬৬ সাল থেকে তিনি নিয়মিত ভোট দিয়ে আসছেন। ১৯৯৯ ও ২০০১ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম থাকলেও ২০০২ সালে নোটিস ছাড়াই তা বাদ পড়ে। পরে ২০০৫ সালে ফের নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম তোলেন কণিকা। অথচ, এত দিন পরে একই সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে।

শনিবার রানাঘাট মহকুমাশাসকের দফতরে শুনানিতে বৃদ্ধা জমির দলিল-সহ বাবা ও শ্বশুরের একাধিক নথি পেশ করেন। এমনকি, ডিরেক্টর অব স্টেট আর্কাইভ থেকে সংগৃহীত ১৯৬৬ ও ১৯৭১ সালের উত্তর ২৪ পরগনার বীজপুর বিধানসভার ভোটার তালিকায় নিজের নামের শংসাপত্রও দেখান। রানাঘাট ব্রজবালা বালিকা বিদ্যালয় থেকে সপ্তম শ্রেণি পাশের নথিও জমা দেওয়া হয়। এত নথি দেখানোর পরেও তাঁকে আগামী বছর নতুন করে ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

কণিকার বড় ছেলে শোভন বলেন, “মা সারাজীবন ভোট দিয়েছেন। সব প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও আবার ফর্ম ভরতে বলা হচ্ছে। এটা স্পষ্ট হয়রানি ছাড়া কিছু নয়।” এই প্রসঙ্গে রানাঘাট পুরসভার পুরপ্রধান তথা তৃণমূল নেতা কোশলদেব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বয়স্ক নাগরিকের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। যিনি এত বছর ভোট দিয়ে এসেছেন, তাঁর কাছে ফের নতুন করে আবেদন চাওয়া মানে অকারণ হয়রানি। বিষয়টি প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”

আর রানাঘাটের মহকুমাশাসক মহম্মদ সবুর খান রবিবার বলেন, ‘‘২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম ছিল কিনা, এটাই আমাদের কাছে প্রযোজ্য। তার আগে ভোটার তালিকায় নাম থাকতেও পারে। তা ছাড়া, ২০০২-এর তালিকার নাম না থাকলে অন্য কোন কোন নথি দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করা যাবে, সেই সংক্রান্ত একটি গাইডলাইন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আমরা চাইলেও তার বাইরে যেতে পারি না।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Ranaghat

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy