মঞ্চের পাশেই চাল, ডাল ফুটিয়ে নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে খাবারের আয়োজন করছিলেন ওঁরা। ওঁরা মানে পার্শ্ব শিক্ষকেরা। ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে সল্টলেকের বিকাশ ভবনের কাছে গত সাত দিন ধরে চলছে তাঁদের ধর্না-অবস্থান। বিক্ষোভরত শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, দোল থাকায় এ দিন সল্টলেকের প্রায় সব খাবারের দোকান বন্ধ ছিল। কিন্তু, সেই পরিস্থিতিতেও তাঁরা অবস্থান চালিয়েছেন। এ বারের দোল তাঁদের কাছে বিবর্ণ।
এ দিনের ধর্না-অবস্থানে থাকা এক পার্শ্ব শিক্ষিকা মীনাক্ষী বিশ্বাস বলেন, ‘‘দোলের রং তো শুধু বাইরে নয়, মনের ভিতরেও থাকা দরকার। আমাদের মনে কোনও রং নেই। আজ ৫০ জনেরও বেশি পার্শ্ব শিক্ষক বাড়ি ফিরিনি। সাধারণত আমরা দুপুরের খাবার সল্টলেকেরই রাস্তার কোনও হোটেলে খেয়ে নিই। আজ তো তারও উপায় নেই।’’
বিকাশ ভবনের চার দিক এ দিন ছিল শুনশান। তার মধ্যেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসে ছিলেন অরুণ মেটে, তনুশ্রী সাহা, জীবন মণ্ডল, অমিত দাস, সোমনাথ আচার্যেরা। তাঁরা
জানান, গত আট বছরে পার্শ্ব শিক্ষকদের ভাতা বেড়েছে মাত্র এক হাজার টাকা। এই টাকা তাঁদের কাছে ভিক্ষাসম। তাই তাঁরা এই বর্ধিত এক হাজার টাকা ফেরত দিতে চান। অমিত, জীবনেরা বলছেন, ‘‘প্রাথমিকের পার্শ্ব শিক্ষকদের ভাতা এখন ১০ হাজার টাকা, উচ্চ প্রাথমিকের পার্শ্ব শিক্ষকদের ভাতা ১৩ হাজার। এই টাকায় কি সংসার চালানো সম্ভব?’’
মীনাক্ষী জানাচ্ছেন, ২০১৬ সালের এসএসসি-র প্যানেলে থাকা ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হওয়ার পরে স্কুলে তাঁদের কাজের চাপ আরও বেড়েছে। এক-এক জন পার্শ্ব শিক্ষককে অনেক বেশি সংখ্যায় ক্লাস নিতে হচ্ছে। তনুশ্রী, সোমনাথদের প্রশ্ন, ‘‘লক্ষ্মীর ভান্ডারে প্রাপ্য টাকা যদি ৫০০ টাকা বাড়তে পারে, তা হলে দীর্ঘ আট বছর অপেক্ষা করার পরে আমাদের ভাতা কেন মাত্র এক হাজার টাকা ভাতা বাড়বে?’’ এর মধ্যে আবার চলতি মাসে এখনও তাঁদের ভাতা হয়নি বলে জানান বিক্ষোভকারীরা।
পার্শ্ব শিক্ষক ঐক্য মঞ্চের সভাপতি ভগীরথ ঘোষ বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০০৯ সালে বলেছিলেন, তিনি ক্ষমতায় এলে অন্যতম প্রধান কাজ হবে পার্শ্ব শিক্ষকদের স্থায়ীকরণ। তা এখনও হয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর সেই বক্তব্যের ভিডিয়ো আমরা মঞ্চে প্রতিদিন চালাচ্ছি। এ ভাবেই আমাদের দোল কাটল। চাকরির স্থায়ীকরণ, বেতন কাঠামো তৈরি, বেতন বৃদ্ধির দাবি যে দিন মিটবে, সে দিন আমরা দোল খেলব। আগামী ৫ মার্চ আমাদের দাবি নিয়ে কালীঘাট অভিযান হবে। দোলের দিনে তারই প্রস্তুতি নিলাম।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)