মেঘভাঙা বৃষ্টি। আর তার জেরে হড়পা বান। শনিবার প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত পাহাড়। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দুধিয়া সেতু। ফলে দার্জিলিঙের সঙ্গে সমতলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটেছে।
শনিবার বিকেল থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়েছে পাহাড়ে। বৃষ্টি হচ্ছে সমতলেও। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের একাধিক নদীর জলস্তর বাড়তে শুরু করে। বালাসন-সহ তিস্তার জল সন্ধ্যার পর থেকেই বাড়ে। জানা গিয়েছে, বালাসন নদীতে হড়পা বান এসেছে।
জলের স্তর বেড়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুধিয়ার নবনির্মিত হিমপাইপের সেতু৷ সূত্রের খবর, রাতে সেতুর একাংশের ক্ষতি হয়েছে। কাজেই সেই সেতু দিয়ে মিরিক হয়ে দার্জিলিঙে যাওয়ার রাস্তা আপাতত বন্ধ৷ ওই সেতু ঠিক কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা এখনও অনুমান করা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন:
আরও জানা গিয়েছে, বালাসন নদীতে হড়পা বান আসায় দুধিয়া সংলগ্ন এলাকায় কয়েক জন আটকে পড়েন। বিষয়টি নজরে আসতেই উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন স্থানীয়েরাই। কোনওক্রমে সকলকেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
গত বছরের অক্টোবর মাসে প্রবল বৃষ্টির কারণে বিপর্যয় নেমে এসেছিল পাহাড়ে৷ মিরিক-সহ কার্শিয়াং এবং দার্জিলিঙের অনেক এলাকা ধসের কবলে পড়েছিল। অনেকের মৃত্যু হয়। নিখোঁজ হন অনেকেই। সেই সময়ই দুধিয়ার প্রধান সেতুর তিন নম্বর পিলার বালাসনের জলের তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উত্তরবঙ্গের বিপর্যয়ের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নির্দেশেই তড়িঘড়ি বালাসনের উপর হিমপাইপ দিয়ে বিকল্প সেতু তৈরি করা হয়। তবে শনিবার বৃষ্টির কারণে ওই সেতু বিপর্যস্ত। আপাতত মিরিক হয়ে যোগাযোগ বন্ধ থাকলেও রোহিনী রোড থেকে কার্শিয়াং হয়ে দার্জিলিঙে যাওয়ার রাস্তা খোলা রয়েছে।