অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়াকে কেন্দ্র করে শান্তিপুরে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিক্ষোভের মুখে পড়ছেন জনপ্রতিনিধিরা। এই পরিস্থিতিতে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার বিষয়েও ভাবতে শুরু করেছেন তৃণমূলের পুরপ্রতিনিধিরা।
সম্প্রতি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়া নিয়ে শান্তিপুরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের পুরপ্রতিনিধি ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। এর আগে শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডে বেহাল রাস্তার প্রতিবাদে এলাকাবাসীরা পুরপ্রতিনিধি ও তাঁর স্বামীকে কয়েক কিলোমিটার ভাঙা রাস্তা হাঁটিয়ে নিয়ে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। রবিবারেও শহরের দুই পুরকর্মীর বাড়ির সামনে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভে শামিল হন বহু মহিলা।
শান্তিপুর পুরসভার ২৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২২টিতে তৃণমূল এবং ২টিতে বিজেপির কাউন্সিলর রয়েছেন। একাংশ তৃণমূল পুরপ্রতিনিধিদের দাবি, অন্নপূর্ণা যোজনায় কারা টাকা পাবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা পুরসভার নয়। উপভোক্তা নির্বাচন থেকে শুরু করে যাবতীয় সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের স্তরেই হয়। অথচ, সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের।
এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের পুরপ্রতিনিধিরা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেন। বৈঠকে একাংশ দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পক্ষেই মত দেয় বলে দলীয় সূত্রে খবর।
এক তৃণমূল পুরপ্রতিনিধির কথায়, ‘‘অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা কারা পাবেন, তা পুরসভা ঠিক করেনি। কিন্তু সমস্ত অভিযোগ আমাদের ঘাড়ে এসে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়াই হয়তো একমাত্র পথ।’’
আর এক পুরপ্রতিনিধি বলেন, ‘‘বহু সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসনকে সহযোগিতা করেছি। কিন্তু যে সব বিষয়ে পুরসভার কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই, সেই দায়ও এখন আমাদের উপর চাপানো হচ্ছে।’’
তাঁদের একাংশের দাবি, পরিস্থিতি প্রশাসনের নজরে আনার পাশাপাশি প্রয়োজনে ইস্তফার পথেও হাঁটার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)