একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় ঘুম ছুটেছে কল্যাণীর।
শুরু হয়েছিল গত রবিবার। তার পরে টানা তিন দিনে তিনটি ডাকাতি নড়িয়ে দিয়েছিল পুলিশকে। বর্ষশেষের রাতেও পুলিশকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াল সেই ডাকাতিই। এ বারের ঘটনা চাকদহের মদনপুরে। গত এক সপ্তাহে কল্যাণী এবং লাগোয়া এলাকায় ডাকাতির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল চার। শনিবারের ডাকাতির ধরনেও আগের তিনটি ঘটনার সঙ্গে প্রচুর মিল রয়েছে। ফলে, প্রশ্ন উঠে গেল, এটাও সেই একই দলের কাজ কি না।
সবে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা। দরজায় কড়া নাড়ার আওয়াজ পেয়ে পরিচারিকা দরজা খুলে দেন। তারপরেই ছ’জন দুষ্কৃতী ঢুকে পড়ে দীপঙ্কর দেবনাথের বাড়িতে। তাদের মুখ ঢাকা ছিল কালো কাপড়ে। চাকদহের মদনপুরের গাঙ্গুলিপাড়ায় দীপঙ্করবাবুর বাড়িতে ঢুকেই দুষ্কৃতীরা জানিয়ে দেয়, কেউ কোনও আওয়াজ করলে মেরে ফেলা হবে। তাদের হাতে ছিল শাবল, ভোজালি। বাড়িতে তখন ছিলেন দীপঙ্করবাবুর স্ত্রী, তাঁদের শিশুকন্যা এবং পরিচারিকা।
দীপঙ্করবাবুর অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা প্রথমেই তাঁকে শাবলের বাড়ি মেরে কাবু করে ফেলে। তার পরে সকলকে একটি ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার আকস্মিকতায় কেঁদে ওঠে দীপঙ্করবাবুর বাচ্চা মেয়েটি। ভোজালি উঁচিয়ে এক ডাকাত হুমকি দেয়, ‘‘মেয়েকে চুপ করা, তা না হলে ওর গলা নামিয়ে দেব।’’ এর পরেই হুকুম আসে ‘‘বাড়িতে সোনা-দানা, টাকা-পয়সা যা আছে সব দিয়ে দে।’’
এর পরেই আলমারি থেকে প্রায় পাঁচ ভরি সোনার গয়না এবং নগদ ন’হাজার টাকা লুঠ করে দীপঙ্করবাবুদের একটি ঘরে বন্ধ করে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। রাতে এলাকায় পুলিশের টহলদারি থাকা সত্ত্বেও এমন ঘটনা বারবার ঘটছে কেন?
গত রবিবার কল্যাণী শহর লাগোয়া সগুনার সাহেববাগানে এক আশ্রমে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সেই আতঙ্ক কাটতে না কাটতে পরদিন সাহেববাগান লাগোয়া কাঠুড়িয়াপাড়ায় একটি বাড়িতে
একই কায়দায় ডাকাতি হয়। দু’টি ক্ষেত্রেই ডাকাতদের মুখ ছিল কালো কাপড়ে বাঁধা, হাতে ছিল শাবল-স্ক্রু ড্রাইভার।
পুলিশের দাবি, তারাও হাত গুটিয়ে বসে নেই। বুধবার রাতে পাঁচ দুষ্কৃতীকে তারা গ্রেফতারও করেছে। তার পরে দু’দিন ডাকাতি না হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল এলাকায়।
কিন্তু তারপরে মঙ্গলবার ফের ডাকাতি হয় চাকদহের মদনপুরে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে এ বার সেই একই কায়দায় ডাকাতি হল মদনপুরে। পুলিশ সুপার শীষরাম ঝাঝারিয়া অবশ্য এ দিনের ঘটনার পরে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।