E-Paper

রক্ত মুছতে গিয়েকেঁদেছিলেন বাবা

গত বছর ২৫ অগস্ট দুপুরে কৃষ্ণনগরে মানিকপাড়ার বাড়ির দোতলায় মাথায় তিনটি গুলি করে খুন করা হয়েছিল ঈশিতাকে।

সুস্মিত হালদার

শেষ আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৪০
আদালতে ঈশিতার বাবা। বুধবার কৃষ্ণনগরে। নিজস্ব চিত্র

আদালতে ঈশিতার বাবা। বুধবার কৃষ্ণনগরে। নিজস্ব চিত্র

খুন হওয়ার দু’এক দিন পর তিনি নিজের হাতে মেয়ের রক্ত পরিষ্কার করেছিলেন। বুধবার কৃষ্ণনগরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা (চতুর্থ) আদালতে দাঁড়িয়ে এ কথা জানাতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন নিহত ঈশিতা মল্লিকের বাবা দুলাল মল্লিক। এ দিন অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী সামশুল ইসলাম মোল্লা জেরার সময়ে দাবি করেন যে থানায় জমা দেওয়া অভিযোগপত্র (এফআইআর) পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করে লেখা হয়েছিল এবং পরে জমা দেওয়া হয়েছিল। দুলাল সে কথা অস্বীকার করেন।

গত বছর ২৫ অগস্ট দুপুরে কৃষ্ণনগরে মানিকপাড়ার বাড়ির দোতলায় মাথায় তিনটি গুলি করে খুন করা হয়েছিল ঈশিতাকে। খুনে অভিযুক্ত, ঈশিতারই প্রাক্তন সহপাঠী দেশরাজ সিংহ তাঁর মাকেও গুলি করার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ, কিন্তু ভাগ্য়ক্রমে গুলি বেরোয়নি। কয়েক দিন পরে উত্তরপ্রদেশে নেপাস সীমান্তের কাছে থেকে দেশরাজকে পাকড়াও করে পুলিশ। তাকে পালাতে সাহায্য করার অভিযোগে তার বাবা, বিএসএফ জওয়ান রঘুবিন্দরপ্রতাপ সিংহ ও মামা কুলদীপ সিংহকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তিন জনেই এ দিন এজলাসে হাজির ছিল।

এর আগে ঈশিতার মা, ভাই, দাদু ও ঠাকুমাকে জেরা করা হয়েছে। এ দিন প্রাক্তন সেনাকর্মী, বর্তমানে ব্যাঙ্কে কর্মরত দুলাল দাবি করেন, সেনায় কাজ করার সুবাদে গুলির আঘাত সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান আছে। তাই তিনি ঈশিতার মাথার ক্ষতকে গুলির আঘাত বলে চিনতে পেরেছিলেন। তবে ঘটনার দিন পুলিশ ওই ঘর থেকে কোনও বুলেটের মাথা উদ্ধার করেনি। পরে, ৭ সেপ্টেম্বর পুলিশ ঈশিতার ঘর লাগোয়া শৌচাগারের ভিতরে বুলেটের মাথাটি খুঁজে পায়। তদন্তকারী অফিসার নিজে শৌচাগারের মেঝে পরীক্ষা করেছিলেন। শৌচাগারটি ছোট হওয়ায় দুলাল নিজে ভিতরে না ঢুকে বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তদন্তকারী অফিসার ও ভিডিয়োগ্রাফার ভিতরে ছিলেন। আইনজীবী যেমন দাবি করছেন, বুলেটের মাথাটি সেখানে আগে থেকে রেখে দেওয়ার অভিযোগও ঠিক নয়। সন্দেহের বশে তাঁরা দেশরাজকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসাননি।

অভিযুক্তের আইনজীবীর প্রশ্নের উত্তরে দুলাল জানান, তাঁর স্ত্রী ঈশিতার মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছিলেন। বায়োমেট্রিক লক থাকায় তাঁরা সেটি খোলেননি, পুলিশের কাছে জমা দেন। ঈশিতার মা আর ভাই যে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে গোপন জবানবন্দি দিয়েছিলেন, আজ, বৃহস্পতিবার তাঁর জেরা হওয়ার কথা রয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Crime Krishnanagar

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy