E-Paper

শুনানি শেষে পরিযায়ীদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা

নদিয়া জেলায় আনম্যাপ ও সন্দেহজনক ভোটার মিলিয়ে মোট প্রায় আট লক্ষ তিন হাজারের মতো ভোটারকে নোটিস দেওয়ার কথা ছিল।

সুস্মিত হালদার

শেষ আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:১৫

—প্রতীকী চিত্র।

এসআইআর-এর শুনানি প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এই মুহূর্তে শুধুমাত্র নতুন করে আবেদন, স্থানান্তরিত ও অভিযোগ সম্পর্কিত আবেদনের শুনানি চলছে। এখন প্রয়োজন অনুযায়ী বেছে-বেছে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

শুনানি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরে দেখা যাচ্ছে, বেশ কয়েক হাজার ভোটার শুনানির নোটিস পাওয়ার পরেও হাজির হননি। এমনকি, দ্বিতীয় বার নোটিস পাঠানোর পরেও শুনানিতে হাজির হননি, এমন ভোটারের সংখ্যা কম নয়। যাঁদের আবার বেশির ভাগই ভিন্ রাজ্য বা বিদেশে পরিযায়ী শ্রমিক হিসাবে কর্মরত। প্রাথমিক ভাবে দেখা যাচ্ছে, ভোটার তালিকা থেকে বড় সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিকের নাম বাদ যেতে চলেছে।

নদিয়া জেলায় আনম্যাপ ও সন্দেহজনক ভোটার মিলিয়ে মোট প্রায় আট লক্ষ তিন হাজারের মতো ভোটারকে নোটিস দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নোটিস বিলি করতে গিয়ে দেখা যায়, এমন অনেক ভোটার আছেন, যাঁদের খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি, নোটিস ধরানোর মতো গোটা পরিবারেরই কোনও সদস্যকে পাওয়া যায়নি। খোঁজ নিয়ে দেখা গিয়েছে, এঁদের বেশির ভাগই পরিযায়ী শ্রমিক এবং ভিন্ রাজ্যে চলে গিয়েছে পরিবারের সব সদস্যই। এই সংখ্যাটা প্রায় সাড়ে আট হাজারের মতো। পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে, নোটিস দেওয়া হলেও প্রায় ৬৬ হাজারের মতো ভোটার শুনানিতে উপস্থিতই হননি। প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, অনুপস্থিত ভোটারদের বেশির ভাগই পরিযায়ী শ্রমিক। তবে সেই তালিকায় পড়ুয়া থেকে শুরু করে সেনা ও আধা সেনা বাহিনীর কর্মীরাও আছেন। দেখা যাচ্ছে, কর্মক্ষেত্রে ছুটি না হওয়ার কারণে অল্প সময়ের মধ্যে তাঁরা শুনানিতে ফিরতে পারলেন না।

এসআইআর শুরুর প্রথম থেকেই পরিযায়ী শ্রমিকদের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কারণ, ছুটি না পাওয়া এবং যাতায়াত বাবদ প্রচুর টাকা খরচ হয়ে যায় বলে অনেকেই কয়েক বছর অন্তর বাড়ি ফেরেন। কেউ কেউ আবার হয়তো কয়েক মাস আগেই ছুটি নিয়ে বাড়ি থেকে ঘুরে গিয়েছেন। শুধুমাত্র এসআইআরে নাম তোলার জন্য ছুটি নিয়ে বাড়ি আসা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ। তা ছাড়া, ভিন্ দেশে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে যাতায়াতে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন, সেটাও সব সময়ে খরচ করা সম্ভব নয়। এঁদের ভোটার তালিকায় নাম থাকার সম্ভবনা নেই, মত প্রশাসনের কর্তাদের।

এর বাইরেও বেশ কিছু ভোটারকে দ্বিতীয় বার শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। প্রথম বার শুনানিতে উপযুক্ত নথি বা প্রমাণ দেখাতে না পারার পরে তাঁদের দ্বিতীয় বার নথি আনার সুযোগ দেওয়া হয়। যাদের মধ্যে প্রায় এক হাজারের মতো ভোটার দ্বিতীয় বার আর শুনানিতে আসেননি। আধিকারিকদের মতে, সংশ্লিষ্ট

নথিপত্র না থাকার কারণেই তাঁরা আর দ্বিতীয় বার আসেননি। জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত বলেন, “এসআইআর-এর শুনানি শেষ হয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করা হচ্ছে।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

SIR Election Commission

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy