পরিবর্তন হল বটে। তবে সবটাই রাজনৈতিক। বাম জমানা বা হালে, কোনও আমলেই বদল এল না মঙ্গলদ্বীপে।
মাস ছয়েক আগে জেলা প্রশাসন জানায়, রানাঘাটের মঙ্গলদ্বীপকে ঢেলে সাজানো হবে। কিন্তু সে সব নেহাতই কথার কথা। বাস্তবে মঙ্গলদ্বীপের ভাগ্যের কোনও বদল হল না। পর্যটকদের কাছে আজও ব্রাত্য হয়েই থাকল নদী তীরবর্তী মঙ্গলদ্বীপ। মাস ছয়েক আগে ভাগীরথী ও চূর্ণীর সংযোগস্থলে মঙ্গলদ্বীপকে সাজানোর কথা বলা হয়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত পায়রাডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে কিছু গাছ লাগানো হয়েছে ওই দ্বীপে। আর কিছুই হয়নি। প্রশাসন জেলার বেশ কয়েকটি এলাকাকে পর্যটন মানচিত্রে জায়গা দেওয়ার ঘোষণা করে। ২০১৫ সালের ১১ ডিসেম্বর মঙ্গলদ্বীপে জেলা প্রশাসন বৈঠক করেছিল। জেলাশাসক, মহকুমাশাসক, বিভিন্ন ব্লকের বিডিও এবং জেলা পরিষদের সভাধিপতি ওই বৈঠকে হাজির ছিলেন। সে দিনই বলা হয়, মঙ্গলদ্বীপে পর্যটকদের মনোরঞ্জনের সব রকমের বন্দোবস্ত করা হবে। পার্ক বানানো হবে। শীতকালীন পিকনিক স্পট হিসেবে গড়ে তোলা হবে মঙ্গলদ্বীপকে।
কিন্তু সে সব কেবল ঘোষণার স্তরেই রয়ে গেল। স্থানীয় বাসিন্দা লক্ষণ বিশ্বাস বলেন, ‘‘মঙ্গলদ্বীপের ভাগ্যটাই খারাপ। বাম আমলেও এখানে কিছু হল না। শুনেছি রাজ্যে অনেক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠছে। কিন্তু মঙ্গলদ্বীপ সেই পর্যটন মানচিত্রে ঠাঁই পেল না। মঙ্গলদ্বীপ যে তিমিরে ছিল আজও সেই একই তিমিরেই রয়ে গেল।’’ একই কথা শুনিয়ে কানাই মণ্ডল বলেন, ‘‘মঙ্গলদ্বীপকে কেন্দ্র করে আমরা অনেক স্বপ্ন দেখেছিলাম। বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ আসবেন। ভাল ব্যবসা হবে। বেকার ছেলেদের কর্মসংস্থান হবে। দু-দশক পার হয়ে গেলেও এখনও কিছুই হল না।’’
পায়রাডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান তৃণমূলের মঞ্জু তালুকদার বলেন, ‘‘মঙ্গলদ্বীপকে সাজানোর কাজ শুরু হয়েছে। আমরা ওখানে গাছ লাগিয়েছি। এছাড়াও ইট পেতে রাস্তা তৈরি করেছি। অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। ধীরে ধীরে তা বাস্তবায়িত হবে।’’ পূর্ব রেলের শিয়ালদহ–রানাঘাট শাখায় পায়রাডাঙ্গা রেল স্টেশন থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে ভাগীরথী নদীর তীরে শিবপুর গ্রাম। এখান থেকে নৌকায় পৌঁছতে হয় মঙ্গলদ্বীপে। দীর্ঘ প্রায় চল্লিশ আগে সেখানে জেগে ওঠে চর। লোকমুখে যার নাম হয় মঙ্গলদ্বীপ। এক সময় এলাকার মানুষ জেগে ওঠা ওই চরে চাষ করতেন।
১৯৯৫ সাল নাগাদ বাম জামানায় এখানে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার ভাবনা শুরু হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে সেখানে গাছ লাগানো হয়েছিল। পানীয় জলের কয়েকটি কল বসানো হয়। শৌচাগার তৈরি করা হয়। পরিকল্পনা ছিল, এখানে পিকনিকের জায়গা হবে। থাকবে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। শিশুদের মনোরঞ্জনের সব রকমের ব্যবস্থা করা হবে। রাতে পর্যটকদের থাকার জন্য রিসোর্ট বানানোর কথাও তখনও ভাবা হয়েছিল। অভ্যাগতদের জন্য বোটিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। এমনকী রোপওয়ের ব্যবস্থা করা হবে।
২০০০ সালের বন্যায় সব শেষ হয়ে যায়। দ্বীপের চারিদিকে লাগানো গাছগুলো নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। পানীয় জলের কলও ভেঙে যায়। চারিদিকে বালি জমে যায়। তার পর আর কেউ ওই দ্বীপের দিকে নজর দেয়নি। কিছুদিন পর সেই জায়গা পরিষ্কার করে আবার শুরু হয় চাষাবাদ। রানাঘাট ১ ব্লকের বিডিও অনুপম চক্রবর্তী বলেন, “একশো দিনের টাকায় প্রাথমিক পর্যায়ে ওই দ্বীপকে সাজানোর কাজ শুরু হয়েছে। বাকি কাজের জন্য পর্যটন দফতরের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। টাকা পেলে বাকি কাজ শুরু হবে।’’ এমন প্রতিশ্রুতি এলাকার লোকজন
অনেক শুনেছেন। তাই না আচাইলে বিশ্বাস নেই।