Advertisement
E-Paper

কিশোরীকে বাড়ি ফিরিয়ে সুমন্ত এখন ‘ভিআইপি’

দু’দিন আগেও তিনি ছিলেন ‘কমন ম্যান’। রেস্তোরাঁর আর পাঁচ জন কর্মীর মতোই কাজ করতেন। কিন্তু সেই চেনা ছবিটা বদলে গিয়েছে শুক্রবার সকাল থেকে। কেউ এসে যেচে আলাপ করেছেন। কেউ বলেছেন, ‘‘খুব ভাল করেছেন ভাই। আজকাল আপনার মতো ছেলে সত্যিই দুর্লভ।’’

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০১:৩০
দিনভর তাঁকে ঘিরে থাকল উচ্ছ্বাস। — গৌতম প্রামাণিক

দিনভর তাঁকে ঘিরে থাকল উচ্ছ্বাস। — গৌতম প্রামাণিক

দু’দিন আগেও তিনি ছিলেন ‘কমন ম্যান’। রেস্তোরাঁর আর পাঁচ জন কর্মীর মতোই কাজ করতেন। কিন্তু সেই চেনা ছবিটা বদলে গিয়েছে শুক্রবার সকাল থেকে। কেউ এসে যেচে আলাপ করেছেন। কেউ বলেছেন, ‘‘খুব ভাল করেছেন ভাই। আজকাল আপনার মতো ছেলে সত্যিই দুর্লভ।’’

তাঁর সহকর্মীরা তো বটেই, রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষও তাঁর এই কাজের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। শুক্রবার খবরের কাগজে প্রকাশিত নিজের ছবি ও খবর দেখিয়ে বহরমপুরের একটি রেস্তোরাঁর ফ্লোর ম্যানেজার সুমন্ত লেট ওরফে সুমন বলছেন, ‘‘ফোন, মেসেজ, অভিনন্দনের তোড়ে নিজেকে ভিআইপি মনে হচ্ছে। বিশ্বাস করুন, আমি যা করেছি সেটা যে কেউই করত। ওইটুকু মেয়ে। ঝোঁকের মাথায় এমন করে ফেলেছিল। আমি শুধু ওকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি।’’

বুধবার বাড়ি ছেড়েছিল বরাহনগরের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীটি। বছর বারোর মেয়েটির সঙ্গে ন’মাস আগে দার্জিলিংয়ের একটি হোটেলে পরিচয় হয়েছিল সুমন্তর। তার পরে দু’জনের বন্ধুত্ব। সেই সুবাদেই মেয়েটি পালিয়ে এসেছিল তাঁর কাছে। মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে মা বরাহনগর থানায় অভিযোগ জানান। পুলিশের সহায়তায় ওই ছাত্রীকে তার বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেন সুমন্ত। সংবাদমাধ্যমে সেই খবর প্রকাশিত হতেই রামপুরহাটের বড়জোলের বছর চব্বিশের সুমন্তকে দেখতে এ দিন সন্ধ্যার পর থেকে রেস্তোরাঁতে অনেকেই ভিড় জমান। রঘুনাথগঞ্জের একটি পরিবার দুপুরে খেতে এসে তাঁর ‘ভাল কাজের’ প্রশংসা করে যান। দার্জিলিংয়ের একটি হোটেল থেকে গত ২৬ জানুয়ারি বহরমপুরের ওই রেস্তোরাঁতে খাবার পরিবেশন করার কাজে যোগ দেন সুমন্ত। কিন্তু তাঁর কাজের দক্ষতা এবং অতিথিদের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহারের জন্য অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁকে ফ্লোর ম্যানেজার করে দেন রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

রেস্তোরাঁ মালিকদের অন্যতম অরিন্দম মণ্ডল বলছেন, ‘‘রেস্তোরাঁতে কাজ করার সময়ে ওই ছাত্রীর ফোন আসে। তার পরেই বুধবার বিকেলে বহরমপুর থেকে বাস ধরে রামপুরহাট চলে যায় সুমন্ত। সারা রাত থানায় কাটিয়ে ফের বৃহস্পিতবার সকালের বাস ধরে বহরমপুরে নেমে সরাসরি রেস্তোরাঁতে এসে হাজির হয় এবং রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ডিউটি করে। ওর কাজের প্রতি যা নিষ্ঠা তার প্রশংসা করতেই হয়।’’ সুমন্ত বলছেন, ‘‘এ দিন সকালে দিঘাতে আমি আগে যে হোটেলে কাজ করতাম, সেখানকার এক বন্ধুর ফোন পেয়ে ঘুম ভাঙে। তার পর থেকে ফোন ও মেসেজের উত্তর দিতে গিয়ে হাঁফিয়ে উঠেছি।’’ এ দিন বিকেলে ওই ছাত্রীর মা ফোন করে সুমন্তের খোঁজ-খবর নিয়েছেন। ফের একবার কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মেয়েকে বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy