একই পাড়ায় বাড়ি দু’জনের। বয়সের ব্যবধান থাকলেও বন্ধুত্বে অসুবিধা হয়নি। একই বাইকে দু’জনে ঘুরতেন। বৃহস্পতিবার ভোরে কল্যাণীর এক নম্বর ওয়ার্ডের একটি কারখানার মূল ফটকের পাশে সেই সুশান্ত মণ্ডল (২৬) ওরফে ভানু এবং দীপঙ্কর ঘটকের (১৮) কোপানো ও গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধার করল পুলিশ। এক সিভিক ভলেন্টিয়ার প্রথমে দেহ দু’টি দেখতে পান। তিনিই খবর দেন থানায়। পরে দেহ চিহ্নিত করেন বাড়ির লোক। বিদ্যাসাগর কলোনির লোকজনে ও পুলিশ সূত্রে উঠে আসছে এই ঘটনার সঙ্গে মাটি মাফিয়াদের যোগাযোগের গল্পও।
কল্যাণীর কুখ্যাত দুষ্কৃতী এবং মাটি মাফিয়া তপা ভৌমিক বেশ কিছু শাগরেদ তৈরি করেছিল। কল্যাণীর আশপাশের অনেকটা এলাকা জুড়ে তাদের রাজত্ব ছিল। তাদের মধ্যে দু’জন সংশোধনাগারে বেশ কিছু দিন কাটিয়ে এখন বাইরে আর বাকি কয়েক জন পলাতক। সংশোধনাগার থেকে বাইরে এসেছে তপার এমন এক শাগরেদের সঙ্গে সুশান্ত ওরফে ভানুর ওঠাবসা ছিল। তার কথাতেই নির্মাণকর্মীর কাজ ছেড়ে মাছের খাবারের ব্যবসা শুরু করেন ভানু, সেই সঙ্গে দাদাগিরিতেও বেশ হাত পাকিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। বেশ কিছু ‘শিষ্য’ও জুটে গিয়েছিল তাঁর যাঁদের মধ্যে প্রধান ছিলেন দীপঙ্কর।
কল্যাণী শিক্ষায়তন স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির এই পড়ুয়াকে ইদানিং প্রায় সব সময় ভানুর সঙ্গে দেখা যেত বলে খবর। অভিযোগ, কথায়-কথায় ভানু লোক জনের উপর চড়াও হতেন, প্রকাশ্যে মারধর করতেন। স্থানীয় মানুষের রাগ বাড়ছিল ভানু আর তার সঙ্গীদের উপর। বুধবার ভানু রাত ১০টা নাগাদ বাড়ি ফেরেন। বাড়ির লোকের কথায়, সেই সময় অপরিচিত দু’জন মোটরবাইকে চেপে এসে ভানুকে ডাকেন। ভানু বের হননি। পরে পানমশলা কেনার জন্য বাড়ি থেকে বেরোন, সঙ্গে নেন দীপঙ্করকে। তাঁরা এলাকার একটি পানের দোকানে যান। সেখানে কয়েক জনের সঙ্গে দু’জনের ঝামেলা বাধে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, কয়েক জন যুবক ধাওয়া করেন ওই দু’জনকে। দু’জনের কেউই রাতে বাড়ি ফেরেননি। সকালে দু’জনের দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশের সন্দেহ, ভানুর কোনও বিরোধী গোষ্ঠীর লোক এর মধ্যে থাকতে পারে। যে ভাবে দু’জনকে থেঁতলে, কুপিয়ে, গুলি করা হয়েছে তাতে পুলিশের অনুমান, এর পিছনের অন্তত চার থেকে পাঁচ জন রয়েছে এবং তাদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে।
পুলিশ সুপার রূপেশ কুমার বলেন, ‘‘এক জনকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে। জেরা করা হচ্ছে। আশা করি দ্রুত কিনারা হবে।’’ বছর দু’য়েক আগে বিয়ে হয়েছে সুশান্তর। এক বছরের মেয়ে রয়েছে। ছোট্ট ঈশিতা অবশ্য এ সব কিছুই বুঝতে পারছে না। দীপঙ্কর ছোট থেকেই বড় হয়েছেন মামার বাড়িতে। বারান্দায় বসে বসে কাঁদছিলেন তাঁর ঠাকুমা। বলছিলেন, ‘‘ দীপঙ্করের শখ ছিল, পড়াশোনা শিখে, চাকরি করে সংসারের হাল ফেরানোর। কিন্তু তার আগেই অকালে চলে গেল।’’