একটি নয়, চার-চারটি অঞ্চলের ভরসা খোরজুনা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র। বড়ঞা ব্লকের ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের টানা বারো বছর ধরে চিকিৎসকের সঙ্গে পরিচয় ছিল না। করোনাভাইরাস এ হাসপাতালে সেই হারানো চিকিৎসক ফিরিয়ে দিয়ে গেল!
করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিক চাই না-দিক, সেই আধ-মরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এখন সকাল থেকেই লম্বাটে ভিড়। কারণ, ‘ডাক্তার ফিরেছে।’ স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘাড়ে যাতে করোনার আতঙ্ক স্বাস না ফেলতে পারে সে জন্য সেই না-ডাক্তার হাসপাতালে হপ্তায় এক দিন করে চিকিৎসক আসছেন। আর তাঁকে দেখাতে মরিয়া গ্রামবাসীদের ভিড়। অথচ এই হাসপাতালে এক সময় রোগী ভর্তির ব্যবস্থা থেকে চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট থেকে নার্স— ছিল সকলেই। ছিল চিকিৎসকদের সরকারি কোয়ার্টার। কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই সব আবাসনের দরজা-জানলা খুলে নিয়ে গিয়েছে সমাজবিরোধীরা। দেখভালের অভাবে আগাছায় ছেয়েছে আবাসন চত্বর। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শুধু বহির্বিভাগের চিকিৎসাটুকুই হত। এবং তা-ও হত ফার্মাসিস্টের দৌলতে। রোগীদের মুখ রোগের বিবরণ শুনে ওষুধ দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দা নিখিল পাল বলেন, “হাসপাতালে ডাক্তারবাবু ও অন্য কর্মীরা হাসপাতালেই থাকতেন। কোনও কিছু হলে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা করাতে পারতাম। কিন্তু এখন চিকিৎসক আসেন না। তবে হালে এক জন চিকিৎসক আসছেন। করোনা অন্তত এক জন ডাক্রাত ফিরিয়ে দিল!’’
বড়ঞা ব্লক স্বাস্থ্য আধকারিক চয়ন হীরা বলেন, “১৩টি অঞ্চলের মধ্যে একটি গ্রামীণ হাসপাতাল। হাসপাতালেই পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই, তারই মধ্যে খোরজুনা হাসপাতালে একজন চিকিৎসককে গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে পাঠানো হয়েছে, তবে তা এক দিনের জন্য।’’