অসুস্থ বৃদ্ধ বাবার ওষুধ, স্ত্রী ও দু’ছেলেমেয়ে পাঁচ জনের নুন আনতে পান্তা ফুরনোর অবস্থা। কিন্তু টানা লকডাউনে সব হিসেব বেমালুম পাল্টে গিয়েছে রতন মণ্ডলের সংসারে। বড়ঞা গ্রামের বাসিন্দা রতনের সংসারে কী চলছে সে খোঁজ আর ক’জনই বা রাখেন।
সকালে বড়ঞা থানার সামনে তেলেভাজা দোকান করেন। নিয়মিত যাঁরা আসতেন, কে কী খেতে ভালবাসেন সবটাই তাঁর জানা। কেউ ঝাল বেশি খেতে পছন্দ করেন, তো কেউ মুড়ির সঙ্গে আলুর একটি চপ সঙ্গে একটি বেগুনি ও একটি কাঁচালঙ্কা ভাজা। কিন্তু সব হিসেব পাল্টে গিয়ে নিজের সংসারে দু’বেলা দু’মুঠো খাবাবের ব্যবস্থা করতেই হিমশিম খেতে
হচ্ছে রতনকে।
মাস দু’য়েক আগে মোটরবাইক দুর্ঘটনায় জখম হন বৃদ্ধ বাবা। তাঁর চিকিৎসার করাতে হয়েছে ওই তেলেভাজার দোকান থেকেই। কচিকাঁচা দুই ছেলেমেয়ের খাবারের ব্যবস্থা করতে হয়েছে রতনকেই। দাদা মিলন মণ্ডল সকালে বাসে বাসে চকোলেট, বাদাম, চানাচুর বিক্রি করেন। দাদার সংসারের অনেকখানিই রতনকে টানতে হয়। ফলে এক জনের উপর সাত জন নির্ভর করে। এখন লকডাউনের কারণে ব্যবসা বন্ধ আছে। বাড়ির মধ্যে শুয়ে বসেই দিন কাটাতে হচ্ছে রতনকে। বাড়ির বারান্দায় বসে বিড় বিড় করে রতনকে বলতে শোনা গেল, “বসে থেকে কী সংসার চলে? আজ খেয়ে কাল কী খাব সেই চিন্তা করতে হয় আমাকে।”
আনাজের বাজারের দিকে যেতে পারেন না। আলু সিদ্ধ আর ভাত খেয়েই দিন গুজরান করছেন রতনের পরিবারের লোকজন। রতন বলেন, “তেলেভাজার দোকান থেকে কত আয় হয় বলুন তো! যে টুকু জমানো টাকা ছিল সব শেষ হয়ে গিয়েছে এখন লকডাউন যদি আরও কিছু দিন চলে, তা হলে কী করে ছেলেমেয়েদের মুখে খাবার দেব সেটাই বুঝতে পারছি না।” দাদা মিলন বলেন, “ভাই আমার থেকে বেশি উপার্জন করে। বাবার ওষুধ থেকে সকলের প্রয়োজনীয় জিনিস ভাই কিনত। এখন কী হবে?’’