Advertisement
E-Paper

কাজ শেষ হয়নি, সংশয় অনুমোদনে

এক বছরে দু’বার পরিদর্শনে এসে কলেজের পরিকাঠামো দ্রুত শেষ করার কথা বলেছিল মেডিক্যাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (এমসিআই)। অগস্ট-সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে আশ্বাসও দিয়েছিল কল্যাণী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কয়েক’টি নির্মাণকাজ শুরু হলেও টাকা না পাওয়ায় মাঝপথে কাজ বন্ধ করে পালিয়েছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ ডিসেম্বর ২০১৫ ০৩:০৫

এক বছরে দু’বার পরিদর্শনে এসে কলেজের পরিকাঠামো দ্রুত শেষ করার কথা বলেছিল মেডিক্যাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (এমসিআই)। অগস্ট-সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে আশ্বাসও দিয়েছিল কল্যাণী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কয়েক’টি নির্মাণকাজ শুরু হলেও টাকা না পাওয়ায় মাঝপথে কাজ বন্ধ করে পালিয়েছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। ফলে, অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে, হাতছাড়া হতে পারে কল্যাণীর মেডিক্যাল কলেজের অনুমোদন। কারণ, ওই মাসেই ফের পরিদর্শনে আসবে এমসিআই।

কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হল?

টাকা না পাওয়া নিয়ে তাঁদের গাফিলতি নেই বলে দাবি মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষের। কারণ নির্মাণকাজ করছে কেএমডিএ। যে ঠিকাদারি সংস্থাকে কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, কেএমডিএ-এর কাজ থেকে তারা টাকা পায়নি। ফলে মাঝপথে কাজ বন্ধ করে নির্মীয়মাণ ভবনে তালা ঝুলিয়েছে তারা। তা হলে কি মেডিক্যাল কলেজ কেএমডিএ-কে টাকা দেয়নি? কেএমডিএ সূত্রে জানা গিয়েছে, তারা মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে টাকা পেয়েছে। কিন্তু কেএমডিএ-এর অভ্যন্তরীণ গোলমালের কারণেই ওই ঠিকাদারি সংস্থাকে টাকা মেটানো যায়নি।

কেএমডিএ-র রিয়েল এস্টেট ডিভিশনের ইঞ্জিনিয়ররা কবুল করছেন, তাঁদের গাফিলতিতেই ঠিকাদারি সংস্থাকে টাকা দেওয়া যায়নি। যদিও তা মানতে রাজি নন ডিভিশনের চিফ ইঞ্জিনিয়ার দেবাশিস মান্না। তাঁর দাবি, সব ঠিক আছে। তা হলে কেন কাজ শেষ হল না? তার সদুত্তর মেলেনি। এই অবস্থায় হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান তথা খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে। মন্ত্রী কেএমডিএ-কে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ওই ঠিকাদারি সংস্থা যদি নির্মীয়মাণ ভবনের তালা না খোলে, তা হলে তাদের কালো তালিকাভুক্ত করার হুমকিও দিয়ে রাখছেন তিনি। প্রসঙ্গত, কল্যাণী মেডিক্যাল কলেজ এমবিবিএস-এ একশো আসনে পঠন-পাঠনের ছাড়পত্র পেয়েছে। মেডিক্যাল কলেজের হাসপাতাল হিসেবে জওহরলাল নেহরু মেমোরিয়াল হাসপাতালটি শয্যা সংখ্যার দিক থেকে যোগ্যতার শর্ত পূরণ করেছে। তবে, ৫৫০ শয্যার এই হাসপাতালটিতে এমসিআই আরও কিছু বিভাগ যোগ করতে বলেছিল। যেমন, সদ্যোজাতদের জন্য বিশেষ সুবিধাযুক্ত বিভাগ, চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য কিছু সুবিধা চালু করা। এ ছাড়াও, তাদের পরামর্শ ছিল একটি পৃথক শৌচাগার, সব সুবিধাযুক্ত একটি সেমিনার হল। ছাড়পত্র পাওয়ার নিয়মের মধ্যেই রয়েছে এগুলি।

গত বছর এই মেডিক্যাল কলেজে পরিদর্শনে এসে এমসিআই দ্রুত শর্ত পূরণ করতে বলেছিল। তখনই মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, নিয়ম মেনে যত দ্রুত সম্ভব তারা নির্মাণকাজ শেষ করে ফেলবে। তারপরে কাজ শুরু হয়। গত অগস্টে ফের পরিদর্শনে আসে এমসিআই। ততদিনে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে ঠিকাদারি সংস্থা। সেই সময় পরিদর্শক দলকে মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ ‘খুব তাড়াতাড়ি কাজ শেষ হয়ে যাবে’ এই বলে আশ্বস্থ করেন।

তারপর কেটে গিয়েছে প্রায় তিন মাস। কিন্তু কাজ এগোয়নি। দিন কয়েক আগে মেডিক্যাল কলেজে রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে কেএমডিএ-র কর্তাদেরও ডাকা হয়েছিল। সেখানে রাজ্য স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিকিৎসক ভবতোষ বিশ্বাস বলেন, ‘‘এমসিআই-এর কাছ থেকে সময় নিয়েছি, যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করব। সে জন্য টাকাও দিয়েছি। প্রয়োজনে আরও দেব। কিন্তু, কাজ শেষ করে ফেলতে হবে। না হলে অনুমোদন বাতিল হয়ে যাবে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy