পড়ুয়াদের পাসকোর্সে ভর্তি করানো-সহ তিন দফা দাবিতে লালগোলা কলেজের টিচার-ইন-চার্জ সোমনাথ চক্রবর্তীকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ঘেরাও করে রাখল তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সমর্থকেরা। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটে থেকে শুরু হয় ঘেরাও। টিএমসিপি-র দাবি— যাঁরা অনার্স পাননি, তাঁদের পাসকোর্সে ভর্তি নিতে হবে এবং যাঁরা ফর্ম ফিলাপ করতে পারেননি তাঁদেরও ভর্তি নিতে হবে। সংগঠনের লালগোলা ব্লক সভাপতি মইনুল হকের অভিযোগ, ‘‘ছাত্র পরিষদ ও এসএফআই পরিচালিত ছাত্র সংসদের মেয়াদ ফুরিয়েছে বেশ কয়েক মাস আগে। তারপরও তাদের অবৈধ ভাবে ছাত্র সংসদের কার্যালয় ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে।’’ এই তিন দফা দাবিতেই ঘেরাও বলে জানিয়েছে টিএমসিপি।
পাস কোর্সে ভর্তির কাউন্সেলিং শেষ হয়েছে গত ১১ জুলাই। ভর্তি হয়েছেন ১০৩৫ জন। কলেজ সূত্রের খবর, আরও প্রায় ২০০ জনকে ভর্তির দাবিতে এই ঘেরাও। টিচার-ইন-চার্জ সোমনাথ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘ওই ছাত্র সংসদের দাবির বিষয়টি কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ইন্সপেক্টর অব কলেজকে (আইসি) জানানো হয়েছে।’’ আগামী ২২-২৫ জুলাই ফের ভর্তি নেওয়া হবে বলে সোমনাথবাবুকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জানানো হয়েছে। সেই বিষয়ে দু-এক দিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। এ কথা সোমনাথবাবু আন্দোলনকারীদের জানালেও ঘেরাও তুলে নেওয়া হয়নি। টিএমসিপি নেতা মইনুল বলেন, ‘‘কবে ভর্তি নেওয়া হবে তার নির্দিষ্ট দিন ঘোষণা না করা পর্যন্ত ঘেরাও তোলা হবে না!’’ শেষমেষ সাড়ে সাতটা নাগাদ ঘেরাও ওঠে।
টিচার-ইন-চার্জ জানান, কলেজের সংবিধান অনুসারে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দিন ঘোষণার ১০ দিন আগে পূর্বতন ছাত্র সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়। এ কারণে মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও ছাত্র পরিষদ ও এসএফআই পরিচালিত ছাত্র সংসদ তার কাজ করছে।