Advertisement
E-Paper

নবীনবরণ নিয়ে কলেজের অচলাবস্থা কাটল না

অচলাবস্থা জিইয়েই রইল। নবীন বরণের টাকা পুরনো ছাত্র সংসদের মাধ্যমেই খরচ করতে হবে। তাছাড়া নবীন বরণের আয়োজনে পুরনো ছাত্র সংসদই পুরো ক্ষমতা ভোগ করবে। কলেজ কর্তৃপক্ষ এই দাবি মানতে না চাওয়ায় মঙ্গলবার কৃষ্ণনগর উইমেন্স কলেজে টিএমসিপির ছাত্রীরা ভাঙচুর চালায়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ ডিসেম্বর ২০১৫ ০২:৪৮
অধ্যক্ষের নোটিস। কৃষ্ণনগর উইমেন্স কলেজে তোলা নিজস্ব চিত্র।

অধ্যক্ষের নোটিস। কৃষ্ণনগর উইমেন্স কলেজে তোলা নিজস্ব চিত্র।

অচলাবস্থা জিইয়েই রইল। নবীন বরণের টাকা পুরনো ছাত্র সংসদের মাধ্যমেই খরচ করতে হবে। তাছাড়া নবীন বরণের আয়োজনে পুরনো ছাত্র সংসদই পুরো ক্ষমতা ভোগ করবে। কলেজ কর্তৃপক্ষ এই দাবি মানতে না চাওয়ায় মঙ্গলবার কৃষ্ণনগর উইমেন্স কলেজে টিএমসিপির ছাত্রীরা ভাঙচুর চালায়। বুধবার কলেজের অধ্যক্ষা হাজির না থাকায় এ ব্যাপারে ছাত্রীদের সঙ্গে কলেজ কর্তৃপক্ষের কোনও আলোচনা হয়নি। ফলে সমস্যা এ দিনও থেকে গেল। এদিকে ১১ ডিসেম্বর নবীনবরণ উৎসব। এখনও জট না কাটায় আদৌ ওই উৎসব নির্ধারিত দিনে হবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ দানা বেঁধেছে পড়ুয়াদের মনে।

কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ কোনও কলেজে ছাত্র সংসদের ভোট হয়নি। ফলে নতুন করে ছাত্র সংসদও তৈরি হয়নি। কলেজের পুরনো সংসদ দাবি করে, তাদের মাধ্যমে নবীনবরণ করতে হবে। উৎসবের টাকাও পুরনো সংসদের মাধ্যমেই খরচ করতে হবে। এই দাবি কলেজ কর্তৃপক্ষ মানতে নারাজ। এ নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই দুই তরফের মধ্যে বিস্তর টানাপড়েন চলছিল। শেষমেশ সোমবার বিকেলে অধ্যক্ষা মানবী বন্দ্যোপাধ্যায় কলেজে ছাড়ার আগে পুরনো ছাত্র সংসদকেই নবীনবরণ উৎসব করার লিখিত অনুমতি দিয়ে গিয়েছিলেন। সঙ্গে টাকাও বরাদ্দ করেছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবার সংসদের নেতৃত্ব স্থানীয় ছাত্রীরা কলেজে এসে কোষাধ্যক্ষ জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত-র সঙ্গে দেখা করেন। জ্যোতিপ্রকাশবাবু তাঁদের জানান, অধ্যক্ষা সকালে ফোন করে টাকা দিতে নিষেধ করেছেন। সে কথা শোনার পরই ছাত্রীরা কলেজে ভাঙচুর চালায়। মানবীদেবী অবশ্য সে দিন আলোচনাচক্রে অংশ নেওয়ার জন্য বর্ধমানে গিয়েছিলেন।

বুধবারও তিনি কলেজে আসেননি। এ দিন কলেজের গেটে তিনি একটি নোটিস ঝুলিয়ে দিয়েছেন। সেই নোটিসে তিনি নবীনবরণ হবে কিনা, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু উল্লেখ করেননি। তবে ভাঙচুরের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এ দিন টিএমসিপির নেত্রী সাবিরা খাতুন বলেন, ‘‘অধ্যক্ষা কিন্তু নোটিসে স্পষ্ট করে কিছু উল্লেখ করলেন না। আমরা কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা চাইছে নবীনবরণ হোক। আমরা ভেবেছিলাম অধ্যক্ষার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করব। কিন্তু উনি গেটে নোটিস ঝুলিয়ে কলেজে এলেন না।’’

সবিস্তার পড়তে ক্লিক করুন।

এ দিন মানবীদেবী কলেজে না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে শুরু করে শিক্ষাকর্মীদের একাংশ। তাঁদের কথায়, ‘‘মানবীদেবী ছাত্রীদের সঙ্গে আলোচনা না করে আসলে সমস্যাটাকেই জিইয়ে রাখলেন। শেষ পর্যন্ত নবীনবরণ উৎসব না হলে কিন্তু কলেজের পরিবেশটাই নষ্ট হয়ে যাবে।’’ কলেজের এক শিক্ষকের কথায়, ‘‘ছাত্রীদের সঙ্গে কলেজ কর্তৃপক্ষের অবিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি হলে, তার প্রভাব কিন্তু পঠনপাঠনেও পড়বে।’’ এ দিন অবশ্য মানবীদেবীকে একাধিক বার ফোন করা হলেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা যায় নি। একবার একজন ফোন ধরে মৃদু স্বরে জানান, অধ্যক্ষা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনারে রয়েছেন। অচলাবস্থা প্রসঙ্গে কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি তথা রাজ্যের কারিগরি শিক্ষা দফতরের মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস বলেন, ‘‘নবীনবরণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত অধ্যক্ষাই নেবেন। এই বিষয়ে পরিচালন সমিতি কোনও হস্তক্ষেপ করবে না।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy