Advertisement
E-Paper

নববর্ষের ভিড় উপচে পড়ল মোতিঝিলে

হাজারদুয়ারি প্রাসাদ ও সংগ্রহশালা বন্ধ থাকার কারণে বর্ষবরণের সকাল থেকে পর্যটকদের ভিড় উপচে পডেছে প্রকৃতি তীর্থ মোতিঝিল পর্যটন কেন্দ্রে। শুক্রবার হাজারদুয়ারি বন্ধ থাকে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০১৬ ০২:১৯
শুক্রবার মোতিঝিলে ছবিটি তুলেছেন গৌতম প্রামাণিক।

শুক্রবার মোতিঝিলে ছবিটি তুলেছেন গৌতম প্রামাণিক।

হাজারদুয়ারি প্রাসাদ ও সংগ্রহশালা বন্ধ থাকার কারণে বর্ষবরণের সকাল থেকে পর্যটকদের ভিড় উপচে পডেছে প্রকৃতি তীর্থ মোতিঝিল পর্যটন কেন্দ্রে। শুক্রবার হাজারদুয়ারি বন্ধ থাকে। ফলে পর্যটকরা মোতিঝিল পর্যটন কেন্দ্রে ভিড় জমান। জেলাশাসক ওয়াই রত্নাকর রাও জানান, ‘‘গত জুলাই মাসে উদ্বোধন হওয়ার পর থেকে বর্ষবরণের দিন সর্বাধিক সংখ্যক ২০ হাজার ১৭৭ জন পর্যটক ভিড় করেন। এদিন টিকিট বিক্রি, গাড়ি পার্কিং এবং গলফ্ কার্টার গাড়ি ভাড়া নিয়ে প্রায় ৫ লক্ষ টাকারও বেশি আয় হয়েছে।’’ লালবাগ-সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে চলছে পিকনিক।

তার আগে বর্ষশেষের রাতের উৎসবে সামিল হন সাধারণ মানুষ থেকে জেলা পুলিশ প্রশাসনের কর্তারা। জেলা পুলিশ প্রশাসনের তরফে বহরমপুর লাগোয়া সারগাছি এলাকায় একটি বেসরকারি পার্ক ভাড়া করে বর্ষশেষের রাতের উৎসবে সামিল হন। সবুজ ঘাসে ঢাকা মাঠের মধ্যে অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করে সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও চলে। দক্ষিণী ভাষায় সঙ্গীত পরিবেশন করেন মুর্শিদাবাদের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (লালবাগ) কে কান্নন। ঝুমুর গান করেন জলঙ্গির ওসি বিশ্ববন্ধু চট্টরাজ। একের পর এক আধুনিক বাংলা গান গেয়ে চমকে দেন জিয়াগঞ্জের ওসি তুহিন বিশ্বাস। কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর কবিতা আবৃত্তি করেন বেলডাঙার ওসি অরুপ রায়ের স্ত্রী সীমা রায়। ওই দম্পতির পাঁচ বছরের সন্তান অন্তরীপ রায় ‘কোলাবেরী ডি’ গেয়ে মঞ্চ মাতিয়ে দেয়। ভুরিভোজে ছিল ভেজ-চিকেন-প্যান ফ্রায়েড মোমো, বিভিন্ন ধরণের কাবাব, হট স্যালাড, সাদা ভাত, মাটন, রাজস্থানী চিকেন, মশলা রুটি। উৎসব চলেছে গভীর রাত পর্যন্ত।

এদিকে বড়দিন থেকে বর্ষশেষের রাত—উৎসবের মেজাজ ধরে রাখতে সেজে উঠেছে বহরমপুরের বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁ। রঙ-বেরঙের এলইডি আলো দিয়ে সাজানো হয়েছে। বর্ষশেষ ও বর্ষবরণ উৎসবের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে মেনু তালিকাতেও ছিল নতুনত্বের স্বাদ। বৃহস্পতিবার দিনের আলো নিভতেই বর্ষশেষের উৎসবে গা ভাসাতে পুর-নাগরিকদের ভিড় ছিল নতুন সাজে সেজে ওঠা হোটেল-রেস্তোরাঁগুলিতে। সেখানে সন্ধ্যা থেকে রাত গভীর পর্যন্ত চলেছে হুল্লোড়। পুরবাসিন্দাদের মধ্যে বর্ষশেষের উষ্ণতার আমেজ ছড়িয়ে দিতে হোটেলে ঢোকার মুখে সবুজ চিকন ঘাসে ঢাকা বাহারি ফুলের বাগানের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে হুল্লোড়বাজির আয়োজন ছিল বহরমপুর সম্রাট হোটেলে। হোটেলের ছাদে সাজানো ছিল আলোর বাজি। রাত ১২টা বাজতেই একের পর এক আলোর বাজির রোশনাইয়ে ভরে ওঠে হোটেল চত্বর। হোটেল মালিক অমিত সরকার জানান, ‘‘বছরের শেষ দিন সেলিব্রেট করার জন্য একটু অন্যরকম কিছু ভাবছিলাম। তার পরেই ঠিক হয় মুর্শিদাবাদ বেড়াতে আসা আবাসিক ও রেস্তোরাঁর অতিথিদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বর্ষশেষের রাত আনন্দ-হুল্লোড় করে কাটানোর।’’ বর্ষশেষের উৎসব উপলক্ষে নতুন রন্ধনশৈলী ‘খাপসা চিলি রাইস চিকেন’ ও ‘ডাল মিট্ (মাটন)’ অতিথিদের তারিফ পেয়েছে। বর্ষশেষের রাতের উন্মাদনা ছড়াতে রাতের খাবারের মেনু হিসেবে বেছে নেওয়া হয় শুরুতেই সিরাজ মকটেল। ছিল বিভিন্ন কাবাবের সমাহার ‘মিক্সড্ প্ল্যাটার’।

অন্য দিকে বহরমপুরের ঝাঁ-চকচকে ‘১৬ আনা বাঙালি’ রেস্তোরাঁ বর্ষশেষের দুপুরে মোচার কোপ্তা, আলু এঁচোড় চিংড়ি, দই পটল, দই বেগুন, দেশি চিকেন কষা, চিংড়ি মালাইকারির মত বাঙালিয়ানা খাবারের ঐতিহ্য ধরে রাখলেও উৎসবের রাতের জন্য বেছে নেওয়া হয় মাটন আইসল্যান্ড কাবাব, মুগ চাটনি নাইডু, মোতি পোলাও, সিজলার, স্টেয়ার ফ্রাই চিকেন, মাটন সৌদি, চিকেন পাতিয়ালা, চিকেন পাহাড়ি মশালা, মাটন পাহাড়ি মশালা, মাটন-চিকেন চাঁদনি কাবাব, চিকেন কস্তুরি, জানান রেস্তোরাঁ মালিকদের অন্যতম অরিন্দম মণ্ডল।

তবে বর্ষশেষের রাতের অতিথিদের আপ্যায়নে যাতে কোনও ত্রুটি না থাকে, এ জন্য ফুল, বেলুন ও আলোকসজ্জায় সেজে উঠেছে বহরমপুরের সমস্ত ছোট-বড় হোটেল-রেস্তোরাঁ। বহরমপুরের এমনই এক রেস্তোরাঁ মালিক শৈবাল রায় বলেন, ‘‘ফিউশন ফুডের রকমারি রান্না নিয়ে প্রথম বহরমপুরের হাজির হলো ‘গসিপ মোর’। বর্ষ বরণ রাতে ইন্দো-চাইনিজ ফিউশনে তৈরি সুইট তন্দুর লেগ, ইংলিশ-পাক ফিউশনে ল্যাম্ব কাবাব ইন ব্রাউন শস, ইন্দো কন্টিনেন্টাল ফিউশন সুইট রোল, ইন্দো-আফগান ফিউশন মাটন কিমা কাবাব।’’

বহরমপুর সানসাইন হোটেল কর্তৃপক্ষ আবার বর্ষশেষের রাতে অতিথিদের লবস্টার খাইয়েছে, তেমনি বর্ষশেষের আবাগে গা ভাসাতে পিছিয়ে নেই ‘মির্চ মশালা’ রেস্তোরাঁ। তার কর্ণধার সৌমেন সরকার বলেন, ‘‘তন্দুরের উনুনে বিশেষ ভাবে তৈরি টার্কি রান্না করে খাওয়ানো হয় উৎসবের রাতে।’’ তবে উৎসবের আনন্দ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উপভোগ করার জন্য হোটেল ফেম সৃজনশীল নৃত্য, ‘ক্যাট ওয়াক শো’ ও ডিজে দিয়ে সাজায় তাদের বর্ষশেষের অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা। হোটেল ম্যানেজার প্রলয় তেওয়ারি জানান, ‘‘কলকাতা থেকে শিল্পীদের নিয়ে আসা হয়েছে। ২৪ রকম খাবারের পদ দিয়ে দম্পতি পিছু ৩৫০০ হাজার পানীয় সহ। পানীয় ছাড়া ২৫০০ টাকা এবং কোনও মহিলা বা পুরুষ একা এলে তাদের জন্য দেড় হাজার টাকার কুপন করা হয়।’’ ভিড়ও ছিল তাক লাগানো।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy