হাঁটুর ব্যথায় কাবু এখন অনেকেই। সে বয়স ত্রিশ হোক, বা ষাট। কিছু ক্ষণ শুয়ে থাকার পর উঠতে গেলে ব্যথা, বসা থেকে দাঁড়াতে গেলে ব্যথা, সিঁড়ি ভাঙতে গেলেও টনটনিয়ে ওঠে হাঁটু। এমন সমস্যা ঘরে ঘরে। তা ছাড়া খেলতে গিয়ে আঘাত লেগে লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়া, অস্থিসন্ধির যন্ত্রণা, এ সবও খুব ভোগায়। হাড়ের যে কোনও কঠিন ব্যামো সারাতে অস্ত্রোপচার ছাড়া তেমন গতি থাকে না। আর অস্ত্রোপচার মানেই কাটাছেঁড়া, রক্তক্ষরণ। যদিও এখন রোবটিক পদ্ধতি চলে এসে অস্ত্রোপচারকে আরও সহজ ও কম যন্ত্রণাদায়ক করে তুলেছে। তবে রোবটিক সার্জারি সব ক্ষেত্রে হয় না। হাঁটুর বাত, কাঁধের যন্ত্রণা বা আচমকা লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেলে অস্ত্রোপচার হয় গতানুগতিক পদ্ধতিতেই। আর তা যথেষ্টই কষ্টদায়ক। তবে এখন ‘অর্থোস্কোপিক’ পদ্ধতি চলে আসায় সে কষ্ট আর থাকবে না। কাটাছেঁড়া না করেই ভাঙা হাড় জুড়ে দেবেন চিকিৎসকেরা, জোড়া লাগাবেন ছেঁড়া লিগামেন্টও।
অর্থস্কোপিক সার্জারি কী?
মিনিমাল ইনভেসিভ সার্জারি। অর্থাৎ, কোনও রকম কাটাছেঁড়া বা রক্তক্ষরণ না ঘটিয়েই অস্ত্রোপচারের এক পদ্ধতি। এই বিষয়ে অস্থিরোগ চিকিৎসক সুব্রত গড়াই জানালেন, অর্থোস্কোপিক অনেকটা এন্ডোস্কোপির মতোই। সরু নলে লাগানো ক্যামেরা ঢুকিয়ে দেওয়া হয় ক্ষতস্থানের কাছাকাছি। একে বলে ‘অর্থোস্কোপ’। এর পরে কম্পিউটারে চোখ রেখে চিকিৎসকেরা দেখেন, ঠিক কোন জায়গায় হাড় ভেঙেছে, কোথায় ছিঁড়েছে লিগামেন্ট অথবা কেন অস্থিসন্ধিতে যন্ত্রণা হচ্ছে। ক্ষতের সঠিক অবস্থান দেখে নিয়ে খুব সামান্য, প্রায় আধ ইঞ্চির মতো ছিদ্র করে সেখান দিয়ে যন্ত্রপাতি ঢোকানো হয়। পেনসিলের মতো সরু যন্ত্র পাঠিয়ে ছেঁড়া লিগামেন্ট জোড়া দেওয়া হয় বা হাড়ের ক্ষত মেরামত করা হয়। কাজ শেষ হলে ছিদ্রটি সেলাই করে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:
কতটা লাভজনক এই অস্ত্রোপচার?
অর্থোস্কোপিক তাঁদের জন্যই ভাল যাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে বাতের ব্যথায় ভুগছেন। অথবা বয়সজনিত কারণে হাড়ের ক্ষয় হচ্ছে। ফ্রোজ়েন শোল্ডার এবং কনুইয়ের ব্যথা সারাতেও এই অস্ত্রোপচারের পদ্ধতি খুবই কার্যকর। খেলতে গিয়ে লিগামেন্ট বা কার্টিলেজ ছিঁড়ে গিয়েছে যাঁদের, তাঁদের জন্য অর্থোস্কোপিক সার্জারি আদর্শ উপায়। কারণ, একমাত্র এই অস্ত্রোপচারই হাড় বা চামড়া না কেটেই ক্ষতস্থান মেরামত করবে। ফলে শরীরে কোনও দাগ থাকবে না এবং কম সময়েই আরোগ্য লাভ হবে।
অর্থোস্কোপিক সার্জারি নির্ভুল হয়। এতে রক্তপাত কম হয় এবং হাসপাতালেও বেশি দিন থাকতে হয় না। শুধু তা-ই নয়, এই অস্ত্রোপচারে রোগীরা দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফেরত যেতে পারেন।