বাম আমলে একবার চেষ্টা করা হয়েছিল। পায়রাডাঙায় নদীর বুকে জেগে ওঠা মঙ্গলদ্বীপকে সাজিয়েগুজিয়ে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার। প্রাথমিক ভাবে বেশ কয়েকটি উদ্যোগও নেওয়া হয়। কিন্তু ২০০০ সালে বন্যায় সব ভেসে যায়। বন্ধ হয়ে যায় পর্যটনকেন্দ্র গড়ার কাজ। ফের সেই দ্বীপকে ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা পরিকল্পনা করছে বর্তমান সরকার। ইতিমধ্যেই মাটি সমতল করার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না বিরোধীরা। তাদের দাবি, আগামী বিধানসভা ভোটকে লক্ষ্য করে এলাকার লোকজনের মনে টানতে এমনটা করছে শাসক দল।
রানাঘাট-১ নম্বরের বিডিও অনুপম চক্রবর্তী বলেন, ‘‘৩৫ বিঘার মতো জমিতে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে ১০০ দিনের প্রকল্প দিয়ে জমি সমতলের কাজ শুরু হয়েছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘পিকনিক স্পট, রাতে থাকার জন্য কটেজ, স্পিড বোড, শিশুদের মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা, সোলার লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একটা ওয়াচ টাওয়ারের ভাবনাচিন্তাও রয়েছে।’’
এর আগে বাম আমলে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছিল। মঙ্গলদ্বীপকে ঘিরে এলাকার মানুষ অনেক স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে কাজে শেষ হয়নি। প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক অলোককুমার দাস জানান, ক্ষমতায় থাকার সময় পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছিল। গাছ লাগানো হয়েছিল। শৌচাগার গড়া হয়। দ্বীপে পৌঁছনোর জন্য নৌকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু ২০০০ সালের বন্যায় সব শেষ হয়ে যায়। তারপর আর সেভাবে কিছু করা হয়নি। তবে সরকাররের এই উদ্যোগ নিয়ে তিনি সন্দিহান। তাঁর দাবি, ‘‘অন্যান্য প্রকল্পের মতো এই প্রকল্পও মুখ থুবড়ে পড়বে।’’
এলাকার বাসিন্দা রাম হালদার বলেন, ‘‘সেই সময় কত গল্প শোনানো হয়েছিল। এলাকার যুবকদের কর্মসংস্থানের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু কিছুই হয়নি। তাই এ বারেও সন্দেহ থেকে যাচ্ছে।’’
পায়রাডাঙা রেলস্টেশন থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে ভাগীরথী ও চূর্ণি নদীর তীরে জেগে উঠেছে কমবেশি হাজার বিঘার চর। লোকমুখে যা মঙ্গলদ্বীপ নামে পরিচিত।
এখন মঙ্গলদ্বীপে আম, কলার মতো কিছু গাছ রয়েছে। স্থানীয় কয়েক জন চাষি সর্ষে-সহ নানা ধরনের চাষ করেছেন। ন’পাড়া-মুশুন্ডা গ্রাম পঞ্চায়েতের গোঁসাইচরের বাসিন্দা প্রভাতকুমার বিশ্বাস বলেন, ‘‘২০০০ সালের বন্যার পর ভাবা যায়নি, এই জমিতে চাষ করা যাবে। অনেক কষ্টে সেই জমিকে আমরা চাষযোগ্য করে তুলেছি।’’ তিনি জানান, এ বার ৪ বিঘা জমিতে উচ্ছে, ঝিঙে, পটল চাষ করেছেন। আনুলিয়ার পুরাতন শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা বাবলু বিশ্বাস বলেন, ‘‘এক সময় এখানে কেউ আসত না। বন জঙ্গলে ভরে গিয়েছিল। সেই জমি পরিষ্কার করে চাষ শুরু করেছিলাম।’’ তিনি জানান, প্রায় ১০ বিঘা জমিতে কলা, ঝিঙে, মটরশুটি চাষ করেছেন। তাঁরা বলেন, ‘‘এখানে পর্যটন কেন্দ্র হবে বলে কেউ কিছু জানাননি। লোক-মুখে শুনতে পারছি। এ জন্য অনেকে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। আমরা চাই ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকার বিকল্প ব্যবস্থা করুক।’’ পায়রাডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান তৃণমূলের মঞ্জু তালুকদার বলেন, ‘‘কয়েকজন চাষি সমস্যায় পড়বেন ঠিকই তবে এ নিয়ে কোনও ভাবনা-চিন্তা নেই।’’