Advertisement
E-Paper

মেডিক্যাল জয়েন্টে আঁধার কাটেনি, আজ ফের শুনানি

এগিয়ে আসছে পরীক্ষার দিন। আর মাত্র ১১ দিন আছে হাতে। কিন্তু ১৭ মে নির্ধারিত দিনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে সেই রাজ্য মেডিক্যাল জয়েন্ট প্রবেশিকা আদৌ হবে কি না, তার ফয়সালা হল না বৃহস্পতিবারেও। ফলে বাংলার ৮৫ হাজার পরীক্ষার্থীর সামনে গাঢ়তর হল অন্ধকার।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ মে ২০১৬ ০৩:০০

এগিয়ে আসছে পরীক্ষার দিন। আর মাত্র ১১ দিন আছে হাতে। কিন্তু ১৭ মে নির্ধারিত দিনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে সেই রাজ্য মেডিক্যাল জয়েন্ট প্রবেশিকা আদৌ হবে কি না, তার ফয়সালা হল না বৃহস্পতিবারেও। ফলে বাংলার ৮৫ হাজার পরীক্ষার্থীর সামনে গাঢ়তর হল অন্ধকার।

পরীক্ষার্থীদের উদ্বেগ যে-ভাবে বাড়ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কমছে প্রস্তুতির সময়। এ বছরের মতো রাজ্যের জয়েন্টকে জীবন দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ এবং অন্য কয়েকটি রাজ্য। কিন্তু আশ্বাস সত্ত্বেও মঙ্গলবার সেই আর্জি নিয়ে শুনানি হয়নি। এ দিন শুনানি হলেও তা শেষ না-হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গ-সহ বিভিন্ন রাজ্য এ বার মেডিক্যাল জয়েন্ট নিতে পারবে কি না, সেই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট চূড়ান্ত নির্দেশ দিতে পারেনি। ফলে জয়েন্ট নিয়ে জটিলতা বহাল। কোথায় জোরকদমে প্রস্তুতি চালাবেন, তার বদলে উৎকণ্ঠায় দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন পরীক্ষার্থীরা। আজ, শুক্রবার সর্বোচ্চ আদালতে ফের শুনানি হওয়ার কথা। সে-দিকেই তাকিয়ে আছেন রাজ্য এবং পরীক্ষার্থীরা।

পশ্চিমবঙ্গ-সহ রাজ্যগুলি চলতি বছরে শেষ বারের মতো ডাক্তারি জয়েন্ট নিতে পারবে কি না, সেটা ঝুলে থাকলেও সর্বোচ্চ আদালত একটি বিষয় এ দিন পরিষ্কার করে দিয়েছে। তারা বলে দিয়েছে, বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলি আর কোনও ভাবেই আলাদা ভাবে প্রবেশিকা পরীক্ষা নিতে পারবে না।

একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, কেন্দ্রীয় ভাবে অভিন্ন মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা নিয়ে আর কোনও ধোঁয়াশা থাকার কথাই নয়। অভিন্ন প্রবেশিকার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। শুধু চলতি বছরের জন্য রাজ্যগুলির নিজস্ব ডাক্তারি জয়েন্টের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে কি না, আপাতত সেটুকুই জানানো বাকি। শুক্রবারের শুনানি সেই বিষয়েই।

ইঞ্জিনিয়ারিং আর ডাক্তারিতে ভর্তির জন্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের মাধ্যমে রাজ্য যে-পরীক্ষা নেয়, এ বার সেটি হওয়ার কথা ১৭ মে। পরীক্ষার্থীরা সে-ভাবেই প্রস্তুতি চালাচ্ছিলেন। ইঞ্জিনিয়ারিং জয়েন্ট নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। ওই দিন সেটা হচ্ছেই। কিন্তু এপ্রিলের শেষে শীর্ষ আদালত হঠাৎ নির্দেশ দেয়, অভিন্ন কেন্দ্রীয় মেডিক্যাল জয়েন্ট নেওয়া হবে এ বার থেকেই। অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের মতো যে-সব রাজ্য পৃথক জয়েন্ট নেয়, তাদের প্রবেশিকা এবং বেসরকারি মেডিক্যাল জয়েন্টের আর কোনও সুযোগই থাকছে না। সেগুলো বাতিল বলেই গণ্য হবে।

আকাশ ভেঙে পড়ে রাজ্য মেডিক্যাল জয়েন্টের পরীক্ষার্থীদের মাথায়। তাঁদের অনেকে কেন্দ্রীয় জয়েন্টে বসলেও সকলেরই মূল লক্ষ্য রাজ্য ডাক্তারি প্রবেশিকা। কেন্দ্রীয় প্রবেশিকার দু’টি পর্যায়ের মধ্যে প্রথমটি ‘অল ইন্ডিয়া প্রি-মেডিক্যাল টেস্ট’ বা এআইপিএমটি হয়ে গিয়েছে রবিবার। বাংলার পরীক্ষার্থীদের বক্তব্য, তাঁরা ঠিকঠাক প্রস্তুতি ছাড়াই ওই পরীক্ষায় বসেছেন নাম-কা-ওয়াস্তে। নিছক অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য তাঁরা ওটাকে নিয়েছেন রাজ্য প্রবেশিকার ভূমিকা হিসেবেই। ওই পরীক্ষার্থীদের অনেকের আবেদন, অভিন্ন কেন্দ্রীয় জয়েন্টের পরবর্তী পর্যায়ের পরীক্ষা ন্যাশনাল এন্ট্রান্স এলিজিবিলিটি টেস্ট (এনইইটি)-এ তাঁদের সুযোগ দেওয়া হোক।

কিন্তু তাতেও সমস্যা অনেক। কারণ, এনইইটি-র পাঠ্যক্রম এবং এই রাজ্যে জয়েন্টের পাঠ্যক্রম আলাদা। এই রাজ্যে দ্বাদশ শ্রেণির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জয়েন্টের প্রশ্ন তৈরি করা হয়। সে-ক্ষেত্রে হঠাৎ কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় বসতে হলে পরীক্ষার্থীরা পাঠ্যক্রম নিয়েও সমস্যায় পড়বেন বলে অনেকের আশঙ্কা। মূল পরীক্ষায় ভাষাগত সমস্যাটাও বড় হয়ে উঠছে। এই রাজ্যে জয়েন্টে প্রশ্ন করা হয় বাংলা ও ইংরেজিতে। দেশ জুড়ে একটিই মূল পরীক্ষা হলে ভাষা নিয়ে সমস্যায় পড়বেন বাংলার অনেকে।

জয়েন্ট বোর্ডের একাংশ বলছেন, পশ্চিমবঙ্গের মতো যে-সব রাজ্যের নিজস্ব জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ড রয়েছে, সেখানকার ছাত্রছাত্রীদের কথা ভেবে সুপ্রিম কোর্ট অন্তত এক বছর সময় দিলে সব দিক রক্ষা পেত। আগামী বছর থেকে অভিন্ন প্রবেশিকা চালু করলে বাংলার পড়ুয়াদেরও সমস্যায় পড়তে হতো না। রাজ্যের স্বাস্থ্যকর্তারা জানান, এ দিনের শুনানিতে তাঁরা এই কথাটাই আদালতকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। চেয়েছেন আরও কিছুটা সময়। আবার বলেছেন, এ বছরের মতো রাজ্যে মেডিক্যাল জয়েন্ট নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক।

রাজ্যের স্বাস্থ্য (শিক্ষা) অধিকর্তা সুশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমাদের আপাতত অপেক্ষা করা ছাড়া পথ নেই। এখনও আশা ছাড়ছি না।’’ রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডও জানাচ্ছে, এখনও কোনও দিশা নেই। ‘‘আমরাও অপেক্ষায় আছি,’’ বলেন বোর্ডের চেয়ারম্যান সজল দাশগুপ্ত।

Supreme Court Medical Entrance Exam
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy