ঋতু চলাকালীন মহিলা কর্মচারী ও ছাত্রীদের ছুটি মঞ্জুর করা নিয়ে জনস্বার্থ মামলা খারিজ হয়ে গেল সুপ্রিম কোর্টে। এই মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, বিষয়টিকে আইনি বাধ্যতামূলক রূপ দিলে তার অপব্যবহার হতে পারে। কাজেই ঋতুকালীন ছুটি মঞ্জুর করা নিয়ে অভিন্ন আইন আনা সম্ভব নয়।
ঋতুস্রাবের কারণে মাসের কয়েকটা দিন খুবই অস্বস্তিতে কাটে মেয়েদের। সেই সময়ে কর্মরত মহিলাদের সবেতন ছুটি দেওয়া যায় কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছিল লোকসভায়। পরবর্তী কালে কর্নাটক, কেরল, পঞ্জাবের মতো কিছু রাজ্যের কয়েকটি সংস্থা ঋতুকালীন ছুটি মঞ্জুরও করে, তবে তা শর্তসাপেক্ষে। সারা দেশে এই বিষয়টি নিয়ে কোনও সুর্দিনিষ্ট নিয়ম বা আইন আনা হয়নি।
সম্প্রতি শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী নামক এক ব্যক্তি সুপ্রিম কোর্টে একটি পিটিশন দাখিল করেন। তাঁর আবেদন ছিল, ছাত্রী ও কর্মরতা মহিলাদের জন্য ঋতুস্রাবকালীন ছুটি নিয়ে দেশব্যাপী সুনির্দিষ্ট নিয়ম জারি হোক। তবে আদালত এই দাবি মানতে নারাজ। কী কারণে এই দাবিকে মান্যতা দেওয়া যাবে না, সে সম্পর্কে যুক্তিও দিয়েছে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।
স্পেন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া-সহ বিশ্বের আরও অনেক দেশেই মহিলারা ঋতুকালীন ছুটির সুবিধা পান। তবে এ দেশে এমন নীতি জারি হলে তা থেকে অনেক অসুবিধা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে শীর্ষ আদালত। এর সপক্ষে যুক্তি, বিষয়টি নিয়ে আইন তৈরি হলে শুধুমাত্র নীতিগত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেই নয়, বিভিন্ন সংস্থায় মহিলাদের কাজে নিয়োগ করা নিয়েও সমস্যা তৈরি হবে। ঋতুস্রাবকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করা হলে অনেক সংস্থাই মহিলাদের নিয়োগ করা নিয়ে আপত্তি জানাতে পারে। এতে পেশাগত ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে পারেন মহিলারা। প্রশ্ন উঠতে পারে তাঁদের নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও। পরবর্তী সময়ে যা কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের পদোন্নতিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
শুধু তা-ই নয়, লিঙ্গবৈষম্যের বিষয়টিও এখানে বিচার্য। বিচারপতিদের মত, এ ধরনের পিটিশন অজান্তেই মহিলাদের ‘অক্ষম’ হিসাবে তুলে ধরতে পারে। এতে চিরাচরিত লিঙ্গবৈষম্যের বিতর্কেই উস্কানি দেওয়া হবে।
আবেদনকারীর তরফে আইনজীবী এম. আর. শামশাদ এই প্রসঙ্গে কেরলের কিছু স্কুল ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ দিলেও, প্রধান বিচারপতি জানান, স্বেচ্ছায় সুবিধা দেওয়া একরকম বিষয়, আর আইন চাপিয়ে দেওয়া আলাদা। কেরলের কিছু প্রতিষ্ঠানের নেওয়া সিদ্ধান্ত তাদের নিজস্ব। গোটা দেশে এই নিয়ে নীতি তৈরি হলে মহিলাদের পেশাদারিত্ব নিয়েই প্রশ্ন উঠবে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, কোনও প্রতিষ্ঠান যদি স্বেচ্ছায় এই সুবিধা দেয়, তবে তা প্রশংসনীয়। কিন্তু বিচার বিভাগ থেকে এখনই নীতি তৈরি করা সম্ভব নয়। আদালত এই মামলাটির নিষ্পত্তি করে জানিয়েছে যে, এটি মূলত নীতি নির্ধারণের বিষয়। এখন কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, তারা কী ভাবে মহিলাদের স্বাস্থ্যের অধিকার এবং কর্মসংস্থানের সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখবে।