Advertisement
E-Paper

রেজিস্ট্রারের ছাঁটাই খতিয়ে দেখতে কমিটি

কোটি টাকার বেশি নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। তার ভিত্তিতে তদন্ত করে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। এখন উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই বরখাস্ত হওয়া রেজিস্ট্রার দিলীপ সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর কাছে আর্জি জানিয়েছেন, তাঁকে ছাঁটাই করা ঠিক হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হোক।

কিশোর সাহা

শেষ আপডেট: ০৭ ডিসেম্বর ২০১৬ ০১:৪৩

কোটি টাকার বেশি নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। তার ভিত্তিতে তদন্ত করে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। এখন উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই বরখাস্ত হওয়া রেজিস্ট্রার দিলীপ সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর কাছে আর্জি জানিয়েছেন, তাঁকে ছাঁটাই করা ঠিক হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হোক। শিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, রাজভবনের বার্তা পাওয়ার পরে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে রাজ্য সরকারের তরফে একটি তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

শিক্ষা দফতর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই সরকারের মনোভাব জেনে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে কর্মসমিতির বৈঠকও ডেকেছেন। সব ঠিক থাকলে ১০ ডিসেম্বর, শনিবার কর্মসমিতি বসবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ট্রাইবুনালে কে থাকবেন, সেটাই কর্মসমিতির বৈঠকে ঠিক হওয়ার কথা। বাকি দু’জন সদস্যের মধ্যে এক জন হবেন দিলীপবাবুর প্রতিনিধি। রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে তৃতীয় জনকে মনোনীত করবেন রাজ্যপাল।

শাস্তি পুনর্বিবেচনার ব্যাপারে ওই ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত মানতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এটা একেবারেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরকার ব্যাপার। তবে কারও আবেদনের যৌক্তিকতা মেনে আচার্য কোনও পরামর্শ দিলে বিশ্ববিদ্যালয়কে সেই মতো পদক্ষেপ করতে হয়। এটা রুটিন ব্যাপার।’’

বাম আমলে দিলীপবাবুর বিরুদ্ধে আর্থিক নয়ছয়ের অভিযোগে এফআইআর করেছিলেন প্রাক্তন উপাচার্য অরুণাভ বসু মজুমদার। তার ভিত্তিতেই দিলীপবাবু প্রথমে সাসপেন্ড হন। সেই মামলায় পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিটও দেয়। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়। সেখানে দোষী সাব্যস্ত হন দিলীপ।

এ সবের মাঝেই নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তিনি বিভাগীয় তদন্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতে যান। মামলা শেষ পর্যন্ত পৌঁছয় সুপ্রিম কোর্টে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত বিভাগীয় তদন্তকে যথার্থ বলে মত দেয়। সেই সঙ্গে দিলীপবাবুর ব্যাপারে ‘যুক্তিগ্রাহ্য পদক্ষেপেরও’ নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত অপছন্দ হলে দিলীপবাবুর ফের আদালতে যাওয়ার অধিকার রয়েছে বলেও জানায় সর্বোচ্চ আদালত। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি দিলীপবাবুকে বরখাস্ত করে তদন্তকারী কর্মসমিতি। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, এর পরেই শাস্তি পুনর্বিবেচনার জন্য রাজ্যপালের কাছে আর্জি জানান দিলীপবাবু।

দীর্ঘদিন ধরে প্রাক্তন পুরমন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্যের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত দিলীপ। বস্তুত, রেজিস্ট্রারকে বরখাস্ত করাটাকে ‘চক্রান্ত’ বলেও অভিযোগ করেছিলেন তিনি। সম্প্রতি তৃণমূলের অন্তত দু’জন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ঘনিষ্ঠমহলে জানিয়েছেন, ‘দিলীপবাবুর শাস্তিটা বেশি হয়েছে’। তাই কর্মচারী সমিতির অনেকেই আশা করছেন, দিলীপবাবু ফের রেজিস্ট্রার পদে ফিরতে পারেন। কিন্তু, শিক্ষক সমিতির একাধিক সদস্য মনে করেন, যে হেতু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের প্রেক্ষাপটে সাজা হয়েছিল, তাই শাস্তি রদ করাটা জটিল ও সময়সাপেক্ষ হতে পারে। প্রাক্তন উপাচার্য অরুণাভবাবু বলেন, ‘‘শাস্তি রদের জন্য আবেদনের অধিকার সকলের আছে। তেমনই শাস্তি বহাল রাখার জন্যও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কিংবা সংশ্লিষ্ট যে কারও ফের সর্বোচ্চ আদালতে আবেদনের অধিকারও আছে।’’

North Bengal University Register
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy