Advertisement
E-Paper

পরীক্ষার মরসুমে মিছিল নিয়ে টানাপড়েন

লোকসভা নির্বাচনের আগে গোটা দেশেই বিজয় সংকল্প বাইক মিছিলের ডাক দিয়েছিল বিজেপির যুব মোর্চা। রবিবার এ রাজ্যে দলের প্রতিটি মণ্ডলে তা করার সিদ্ধান্ত নেন মোর্চার নেতারা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ মার্চ ২০১৯ ০৪:৫৯
বিক্ষোভ: পুলিশ বাইক মিছিল আটকে দেওয়ার অভিযোগ তুলে আলিপুরদুয়ারে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ বিজেপির নেতা, কর্মীদের। রবিবার। নিজস্ব চিত্র

বিক্ষোভ: পুলিশ বাইক মিছিল আটকে দেওয়ার অভিযোগ তুলে আলিপুরদুয়ারে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ বিজেপির নেতা, কর্মীদের। রবিবার। নিজস্ব চিত্র

আলিপুরদুয়ারের বিভিন্ন জায়গায় কার্যত ভেস্তে গেল বিজেপির বাইক মিছিল। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিজেপি বাইক মিছিল শুরু করতেই পুলিশ দলের নেতা, কর্মীদের বাধা দেয় বলে অভিযোগ করেন জেলার বিজেপি নেতারা। যার জেরে বেশ কিছু জায়গায় পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন বিজেপির নেতা, কর্মীরা। বিনা অনুমতিতে বাইক মিছিল করার অভিযোগে, বিজেপির জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা-সহ দলের প্রায় ৫০ জন নেতা, কর্মীকে এ দিন গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

লোকসভা নির্বাচনের আগে গোটা দেশেই বিজয় সংকল্প বাইক মিছিলের ডাক দিয়েছিল বিজেপির যুব মোর্চা। রবিবার এ রাজ্যে দলের প্রতিটি মণ্ডলে তা করার সিদ্ধান্ত নেন মোর্চার নেতারা। মোর্চার নামে ডাকা হলেও আলিপুরদুয়ারে এই বাইক মিছিল কার্যত বিজেপির বাইক মিছিলেই পরিণত হয়েছিল। বিজেপির আলিপুরদুয়ার জেলার নেতাদের একাংশের লক্ষ্য ছিল, এই বাইক মিছিলের মধ্যে দিয়ে লোকসভা নির্বাচনের আগে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তিকে খানিকটা মেপে নেওয়া। সে জন্য গত কয়েকদিন ধরে জেলার প্রতিটি মণ্ডলে এই বাইক মিছিল নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালানো হয়।

বিজেপি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, তাদের লক্ষ্য ছিল, আলিপুরদুয়ার জেলায় এ দিন আট হাজারেরও বেশি বাইক নিয়ে মিছিল করা। কিন্তু অভিযোগ, কর্মীরা যাতে বাইক নিয়ে জমায়েত স্থলে পৌঁছতে না পারেন, সে জন্য জেলার বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে আলিপুরদুয়ার শহরে ঢোকার মুখে বহু জায়গায় মোটর সাইকেলের কাগজ-পত্র পরীক্ষার নামে তাদের দলে কর্মীদের আটকে দেওয়া হয়। যুব মোর্চার আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি প্রভাতকুমার সরকারের দাবি, তারপরও জেলার মণ্ডলে মণ্ডলে প্রায় পাঁচহাজার কর্মী, সমর্থক মোটর সাইকেল নিয়ে মিছিলে শামিল হয়।

তবে বিনা অনুমতিতে বাইক মিছিল করায়, শুরু থেকেই বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের বিজেপির নেতা, কর্মীদের আটকে দেয়। রবিবার হলেও এখন উচ্চ মাধ্যমিক-সহ বিভিন্ন বোর্ডের পরীক্ষা চলছে। তাই মিটিং, মিছিল নিয়ে পুলিশ এখন সাবধানী বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। যার জেরে বেশ কয়েক জায়গায় পুলিশের সঙ্গে মিছিলে অংশ নেওয়া বিজেপির নেতা, কর্মীদের বচসা বেধে যায়। আলিপুরদুয়ার মায়া টকিজ়ের সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয় বিজেপির জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা ও দলের উত্তরবঙ্গের সহকারী আহ্বায়ক দীপেন প্রামাণিককে। ঘাগড়া থেকে গ্রেফতার করা হন দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত রায়।

বিজেপির অভিযোগ, গোটা জেলা থেকে তাদের ৭৭জন নেতা, কর্মীকে এ দিন পুলিশ গ্রেফতার করে। যার মধ্যে বীরপাড়া থানায় গ্রেফতার হওয়া দুই কর্মীকে মারধরও করা হয় বলে দলের তরফে অভিযোগ করা হয়। পুলিশ অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বিজেপির জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মার অভিযোগ, “উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সে জন্য রবিবার আমরা এই মিছিলের ডাক দিয়েছিলাম। কিন্তু তৃণমূল নেতাদের কথায় পুলিশ অনুমতি না দিয়ে, বিভিন্ন জায়গায় আমাদের মিছিল আটকায়।”

তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব অবশ্য বিজেপির তোলা অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন। জেলা পুলিশের এক কর্তা বলেন, অনুমতি না থাকার জন্যই আজকের বাইক মিছিলের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

BJP Bike Rally
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy