চিকিত্সার জন্য বাইরে অমিত
নিজস্ব সংবাদদাতা • শিলিগুড়ি
স্কুটার উল্টে পড়ে পা ভেঙে যাওয়ায় উন্নত চিকিত্সার প্রয়োজনে রাজ্যের বাইরে নিয়ে যাওয়া হল উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রীর আপ্তসহায়ক অমিত দত্তকে। সোমবার দুপুরে শিলিগুড়ির খালপাড়ার যে নার্সিংহোমে তিনি ভর্তি ছিলেন সেখান থেকে তাঁকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। গত, শনিবার রাতে সমরনগর এলাকা থেকে গভীর রাতে স্কুটার চালিয়ে পরিচিত কয়েকজন ছাত্রনেতার সঙ্গে ফেরার সময় দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানা গিয়েছে। দলের একটি সূত্র দাবি করেছে, এ দিন দুপুরের ট্রেনে তাঁকে কাটিহারের নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁর বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচের অংশে ভেঙে গিয়েছে। ওই দিন সন্ধ্যায় শিলিগুড়ি কমার্স কলেজে ছাত্র সংসদের কমিটি গঠনের দিন ছিল। সংগঠনের জেলাসভাপতি নির্ণয় রায় কলকাতায় আত্মীয়ের বিয়েতে থাকায় ছাত্র সংসদের কমিটি গঠনের কর্মসূচি পিছিয়ে দিতে তিনি একাধিকবার অধ্যক্ষকে ফোন করে অনুরোধ করতে থাকেন বলে অভিযোগ। কেন না নির্ণয়বাবু যাকে সাধারণ সম্পাদক করতে চাইছিলেন তাতে মত ছিল না নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অধিকাংশরই। নির্ণয়বাবু শনিবার ছাত্র সংসদের কমিট গঠনের পিছতে চাইছিলেন জানার পরেই বিরুদ্ধ পক্ষ আসরে নামে। তারা পাল্টা অধ্যক্ষকে জানিয়ে দেন নোটিশ দিয়ে জানানোর পরেও এ দিন ছাত্র সংসদ গঠন না হলে তারা আইনের দ্বারস্থ হবেন। অমিত দত্ত তাঁদের পাশে দাঁড়ান বলে অভিযোগ। বিরুদ্ধ পক্ষের দাবি অমিতবাবু পাল্টা অধ্যক্ষকে ফোন করে এ দিনই কমিটি গঠন করতে অনুরোধ করেন। শেষ পর্যন্ত ওই দিন সন্ধ্যাতেই কমিটি গঠন হয় এবং নির্ণয়বাবুর বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর তরফে ঠিক করা প্রার্থীকেই সাধারণ সম্পাদক করা হয়। নির্ণয়বাবু যাকে সাধারণ সম্পাদক করতে চেয়েছিলেন নতুন কমিটিতে রাখা হলেও সেই ছাত্রী এবং কমিটির আরও ৩ জন পদাধিকারী পদত্যাগ করেন। ওই রাতে ‘জয়’ উপলক্ষে সমরনগরের বাগানবাড়িতে পানভোজনের ব্যবস্থা হয়। সেখান থেকে স্কুটার নিয়ে ফেরার পথেই অমিতবাবু দুর্ঘটনায় পড়েন বলে অভিযোগ। যদিও অমিতবাবু তা অস্বীকার করেন।
পঞ্চায়েতে ঘুষ চাওয়ার নালিশ
নিজস্ব সংবাদদাতা • বালুরঘাট
ইন্দিরা আবাসের কিস্তির টাকা দেওয়ার জন্য ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ উঠল গ্রাম পঞ্চায়েতের এক সহায়কের বিরুদ্ধে। সোমবার বালুরঘাট ব্লকের বোয়ালদার পঞ্চায়েতের ঘটনা। এলাকার কাশীপুর গ্রাম সংসদের অন্তত ৫০ জন উপভোক্তা ঘটনার প্রতিবাদে এদিন পঞ্চায়েত অফিসে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অভিযোগ, সহায়ক প্রলয় দাসকে টাকা না দিলে প্রকল্পের কিস্তির টাকা মেলে না। তাঁরা জানান, ঘর তৈরির জন্য প্রথম কিস্তির ১৫ হাজার টাকা মেলার পর পঞ্চায়েতে সদ্ব্যবহারপত্র জমা দিয়ে দ্বিতীয় কিস্তির ৪০ হাজার টাকার জন্য আবেদন করা হয়। কিন্তু টাকা বরাদ্দের সময় পঞ্চায়েত সহায়ককে ৫ হাজার টাকা না দিলে তিনি কিস্তির টাকা অনুমোদন করেন না। উপভোক্তাদের সঙ্গে স্থানীয় গ্রামবাসীরা বিক্ষোভে সামিল হলে তুমুল উত্তেজনা দেখা দেয়। বালুরঘাট থানা থেকে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। শেষে পঞ্চায়েত প্রধানের হস্তক্ষেপে বিক্ষোভকারীরা শান্ত হন। প্রলয়বাবু বলেন, “আমি ইন্দিরা আবাস প্রকল্প দেখি না। আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে।” পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান পিন্টু বসাক অবশ্য বলেন, “ওই সহায়কের বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে কিস্তির টাকা অনুমোদনের অভিযোগ উঠেছে। বিডিওকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।” ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছেন বিরোধীরা। বিজেপির সাধারণ সম্পাদক শুভেন্দু সরকারের অভিযোগ, “প্রশাসনকে বিস্তারিত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।” বিডিও শুভ্রজিত্ গুপ্ত বলেন, “পঞ্চায়েত সহায়ককে ডেকে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ দেখে ব্যবস্থা হবে।” পঞ্চায়েত সূত্রের খবর, ইন্দিরা আবাস যোজনায় ঘর তৈরির জন্য উপভোক্তারা পান ৭০ হাজার টাকা। প্রথমে ১৫ হাজার, দ্বিতীয় কিস্তি ৪০ হাজার টাকা এবং শেষ কিস্তিতে ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। ওই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত ৮০ জন ইন্দিরা আবাস যোজনায় অধিকাংশই শেষ কিস্তির টাকা পাবেন।
সমন্বয়ের প্রসঙ্গ উঠল পঞ্চায়েত সম্মেলনে
নিজস্ব সংবাদদাতা • জলপাইগুড়ি
প্রকল্প রূপায়ণে ত্রিস্তরে সমন্বয় এবং জনসংযোগের সমস্যার কথা উঠে এলো জলপাইগুড়ি জেলা পঞ্চায়েত সম্মেলনে। জেলা পরিষদের উদ্যোগে পরিষদের হলঘরে সোমবার ওই সম্মেলন হয়। সেখানে ইন্দিরা আবাস যোজনা, স্বচ্ছ ভারত মিশন সহ কয়েকটি প্রকল্পের কাজের গতি নিয়ে জেলা প্রশাসনের কর্তারা উষ্মা প্রকাশ করেন। তাঁরা কাজের গতি আনতে ত্রিস্তরে সমন্বয় এবং জনসংযোগ বৃদ্ধির উপরে জোর দেন। জেলা পরিষদের সভাধিপতি নূরজাহান বেগম বলেন, “কিছু গ্রাম পঞ্চায়েত ভাল কাজ করলেও অনেক গ্রাম পঞ্চায়েতে কাজের গতি অত্যন্ত কম। স্বচ্ছ ভারত মিশনের টাকা পড়ে আছে। ওঁরা সময় মতো কাজ করতে পারছে না। সমন্বয় বাড়িয়ে দ্রুত কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।” এদিনের সম্মেলনে জেলার ৭টি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, কর্মাধ্যক্ষ, ৮০টি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান, উপ প্রধান, বিডিও, জেলা পঞ্চায়েত আধিকারিক এবং জেলাশাসক পৃথা সরকার উপস্থিত ছিলেন। জেলাশাসক বলেন, “প্রকল্পের কাজ ফেলে না রেখে সময়মতো করতে হবে। সেটার জন্য খুব জরুরি সমন্বয় এবং জনসংযোগ বৃদ্ধি।” সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্মেলনে বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়ণে সরকারি কর্তাদের অসহযোগিতার অভিযোগও উঠেছে। জেলা প্রশাসনের কর্তারা ওই সমস্যা নিরসনে পঞ্চায়েত প্রধান এবং পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতিদের সঙ্গে প্রশাসনের কর্তাদের সমন্বয় বাড়ানোর উপরে গুরুত্ব দেন। জলপাইগুড়ি সদর ব্লক পঞ্চায়েত সমিতির সিপিএমের সভাপতি রাখি বর্মন বলেন, “বেশ কিছু সমস্যার কথা সম্মেলনে উঠে এসেছে। প্রকল্পের কাজ দ্রুত রূপায়ণের জন্য জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি কর্তাদের মধ্যে মেলবন্ধন বাড়ানো জরুরি।”
জিটিএ-তে তরাই-ডুয়ার্স নিয়ে কমিটি
নিজস্ব সংবাদদাতা • দার্জিলিং
জিটিএ-র আওতায় তরাই ডুয়ার্সের অর্ন্তভুক্তি নিয়ে কমিটি গড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন জিটিএ চিফ বিমল গুরুঙ্গ। রবিবার গুরুঙ্গ ফেসবুকে ওই কমিটির গড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি জানিয়েছেন, সম্প্রতি ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে রাজ্য ও কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের সামনে মোর্চা এই নিয়ে নিজেদের অবস্থানের কথা তুলে ধরেছে। জিটিএতে গোর্খা অধ্যুষিত তরাই এবং ডুয়াসের্র অর্ন্তভুক্তির বিষয়টি ঝুলে রয়েছে। তাঁরা নিজেরাই একটি কমিটি গড়ে রিপোর্ট তৈরি করবেন। পরবর্তীতে সেই রিপোর্ট সরকারের কাছে পাঠানো হবে। এ জন্য তরাই-ডুয়াসের্র তিনজন নেতাকে রেখে কমিটিও গড়ে দেওয়া হয়েছে। জিটিএ থেকে আরও কয়েকজন এই কমিটির সদস্য হবেন। ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটের কথা মাথায় রেখে তরাই ডুয়ার্স এলাকায় নিজের দলের ভিত্তি মজবুত করতে উদ্যোগী হয়েছেন গুরুঙ্গ। সম্প্রতি শিপচুর সভায় গুরুঙ্গ ডুয়ার্সের কোনও প্রার্থীকে সমর্থন করার কথাও বলেছেন। ২০১২ সালে তরাই ও ডুয়ার্সের এলাকা গঠন নিয়ে শ্যামল সেন কমিটি সরকারকে একটি রিপোর্ট দেয়। তাতে পাঁচটি মৌজার অর্ন্তভুক্তির কথা বলা হয়। জিটিএ অবশ্য ওই রিপোর্ট মানেনি। তাঁরা দুই জায়গা মিলিয়ে ৩৯৬ টি মৌজার অর্ন্তভুক্তির দাবিতে অনড় থাকে। তার পরে অবশ্য সরকারের তরফে আরেকটি তথ্য যাচাই কমিটি গঠন করা হয়। যদিও তার রিপোর্ট এখনও প্রকাশ হয়নি। মোর্চার সহকারি সম্পাদক জ্যোতি কুমার রাই বলেন, “নতুন কমিটি গড়ে তথ্য আমরাও যাচাই করব। তরাই এবং ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ এলাকা যে গোর্খা অধ্যুষিত তা ফের সামনে আসবে। নতুন রিপোর্ট সেই দিশাও দেখাবে।”
জঞ্জালের গাড়িতে নজরদারি জিপিএসের
জঞ্জাল অপসারণের গাড়িতে নজরদারি করতে বসছে জিপিএস ট্র্যাকিং সিস্টেম। খুব শীঘ্রই শিলিগুড়িতে ময়লা সংগ্রহ ও ফেলার জন্য অত্যাধুনিক কি ট্রাক আসছে। তাতে বসানো থাকবে এই সিস্টেম বলে জানান উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী গৌতম দেব। সোমবার শিলিগুড়িতে পুরসভার প্রশাসক, কমিশনার সহ সমস্ত আধিকারিকদের নিয়ে জঞ্জাল অপসারণ বিভাগের কাজ কীভাবে হবে তা ঠিক করতে একটি বৈঠক করেন। সেখানেই এ কথা জানান তিনি। একটি গাড়িতে আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে এই সিস্টেম চালু করা হয়েছে। সবগুলি গাড়িতেও তা দ্রুত লাগানো হবে। এর ফলে পুরসভা তো বটেই বিভিন্ন বরো কার্যালয়গুলি থেকে বসেই কাজের নজরদারি করা যাবে। মন্ত্রী বলেন, “এতে যেমন কাজ ঠিকমত হচ্ছে কিনা তা দেখা যাবে, তেমনি খরচও অনেক কমবে।” এছাড়াও বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে জঞ্জাল অপসারণের কাজে কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় আনার প্রক্রিয়া শুরু করবে পুরসভা বলে তিনি জানান। আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিভিন্ন অত্যাধুনিক যন্ত্রাংশ আমদানি করা হবে বলেও মন্ত্রী এদিন জানিয়েছেন। জমির নামজারি করার শিবির খুলে প্রায় ১ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। ট্রেড লাইসেন্সের জন্যও শিবির করে অর্থ রোজগারের চেষ্টা করছে পুরসভা। মন্ত্রীর দাবি, এভাবে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা অর্থ আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে পুরসভার।
পোষ্যের চাকরি হয়নি, সম্পত্তি নিল আদালত
মৃতের পোষ্যকে চাকরি না দেওয়ার অভিযোগে স্কুলের সম্পত্তির একাংশ হেফাজতে নিল আদালত। ৫ ফেব্রুয়ারি আদালত ইসলামপুর হাইস্কুলের সম্পত্তি প্রায় ৮৩০টি বেঞ্চ, ২টি লোহার গেট ও স্কুলের প্রায় ৫০ কম্পিউটার হেফাজতে নিয়েছে। আদালতের নিদের্শ ছাড়া সে সব কিছু করতে পারবেন না স্কুল কর্তৃপক্ষ। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আদালতের কাছে সময় চাওয়া হয়েছে। অভিযোগকারী ইসলামপুর থানার শান্তিনগরের বাসিন্দা বিলোচন সাহু। ওই স্কুলে কর্মরত অবস্থায় তাঁর বাবা ভোলা সাহু মারা যাওয়ার পর প্রায় ৩৬ বছর কেটেছে। বাবার চাকরির জন্য আবেদন করেছিলেন বিলোচনবাবু। অথচ তা না-পেয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হন। বিলোচন বাবুর আইনজীবী দিবাকর সাহা বলেন, “বিলোচনবাবু স্কুলের পিওন পদে মৃতের পোষ্য হিসাবে বাবার চাকরির জায়গায় তাঁকে সুযোগ দিতে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু চাকরি না পেয়ে শেষ পর্যন্ত তাকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়।” আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২০০০ সাল থেকেই চাকরির দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন ভোলাবাবুর ছোট ছেলে বিলোচনবাবু। তাঁর দাবি, বাবা মারা যাওয়ার পর ১৯৮০ সালে ওই স্কুলের ল্যাবরেটরিতে পিওন পদে চাকরি পান তার দাদা। তবে দাদা মৃতের পোষ্য হিসাবে বাবার চাকরি পাননি বলে তাঁরা জানতে পারেন ২০০০ সালে। এর পরে ইসলামপুর আদালতে মামলা দায়ের করেন পেশায় ভ্যান চালক বিলোচনবাবু।
বাসের উপরে হামলা
আচমকা হামলা চালিয়ে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের উদ্যোগে চালু জওহরলাল নেহরু আরবান রিনিউয়াল মিশনের অত্যাধুনিক বাস পরিষেবা বিঘ্নিত করার অভিযোগ উঠল। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিগম কর্তারা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন। নিগম সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার ঢিল ছুড়ে জলপাইগুড়ি-হলদিবাড়ি রুটের কাশিয়াবাড়িতে একটি বাসের উইন্ড স্ক্রিন ভেঙে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়। এর আগে জলপাইগুড়ি-শিলিগুড়ি এবং জলপাইগুড়ি-মালবাজার রুটে একই কায়দায় আরও তিনটি বাসের উইন্ড স্ক্রিন ভাঙে। নিগমের তরফে প্রতিটি ঘটনা নিয়ে পুলিশের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করা হয়। নিগম পরিচালন বোর্ডের অন্যতম অধিকর্তা সৌরভ চক্রব্রতী বলেন, “পরিকল্পিত ভাবে পরিষেবা বিঘ্নিত করার জন্য দুষ্কৃতীদের একটি চক্র বাসগুলির উপরে হামলা চালাচ্ছে। এটা কোনওভাবে মেনে নেওয়া হবে না। আমরা পুলিশকে সমস্ত বিষয় জানিয়েছি।” কেন দুষ্কৃতীরা বেছে বেছে কেন্দ্রীয় সরকারের জওহরলাল নেহরু আরবান রিনিউয়াল মিশনের বাসের উপরে হামলা চালাচ্ছে?” নিগম কর্তারা ওই বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাতে অস্বীকার করেন। তাঁদের বক্তব্য, পুলিশ দুষ্কৃতীদের গ্রেফতার করলে ষড়যন্ত্র সামনে চলে আসবে। নিগমের জলপাইগুড়ি ডিপো আধিকারিক স্বপন সেন বলেন, “দুষ্কৃতীদের হামলায় বিভিন্ন রুটের চারটি বাস ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পুলিশের কাছে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার অভিযোগ জানানো হয়েছে।” জলপাইগুড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জেমস কুজুর বলেন, “ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি দুষ্কৃতীদের খোঁজ চলছে।”
থানার নিরাপত্তায় ক্যামেরা
থানায় নিরাপত্তা বাড়াতে ডুয়ার্সের বেশির ভাগ থানাতেই ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বা সিসিটিভি বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। মালবাজার মহকুমার মালবাজার , মেটেলি এবং নাগরাকাটা তিন থানাতেই সিসিটিভি বসানোর কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে বলে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে। মালবাজারের এসডিপিও নিমা নরবু ভুটিয়া বলেন, “নিরাপত্তার জন্যেই থানাগুলিতে সিসিটিভি বসানো হয়েছে। প্রতিটি থানাতেই তিন থেকে চারটি করে ক্যামেরা বসেছে। ক্যামেরার ফুটেজ নিয়মিত পরীক্ষা করার জন্যেও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশকর্মীদের নজরদারি করতে বলা হয়েছে।” থানা চত্বরের বাইরের ছবিও যেহেতু ক্যামেরাতে ধরা পড়বে, সেজন্যে পুলিশের এই উদ্যোগে খুশি ব্যবসায়ীরা। মালবাজার থানার ঠিক উল্টো দিকে গত ডিসেম্বরেই ৩১নম্বর জাতীয় সড়কের ধারের একটি মোবাইলের দোকানের সিলিং ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ চুরির কিনারা করলেও গোপন ক্যামেরায় তা আরও সহজ হত বলেই ব্যবসায়ী মহলের ধারণা। মালবাজারের ওসি নন্দ দত্তের কথায়, “থানার বাইরের এলাকার ছবিও যাতে স্পষ্টভাবে ক্যামেরার ফুটেজে ধরা পড়ে, সেরকম ভাবেই ক্যামেরা বসানো হবে।”
দুর্ঘটনায় জখম সিভিক ভলান্টিয়ার
ট্রাকের ধাক্কায় আহত হয়েছে চার জন সিভিক ভলেন্টিয়ার্স। সোমবার সন্ধেয় করণদিঘি থানার বোতলবাড়ি মোড়ে ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ জানায়, সন্ধেয় ওই মোড়ে কর্তব্যরত ছিলেন ওই চার জন। শিলিগুড়িগামী একটি ট্যাঙ্কার ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে রাজ্য সড়কে ঢোকার সময়ে তাঁদের পরপর ধাক্কা মারে। চার জনকে রায়গঞ্জ জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাঁদের মধ্যে একজনেক আঘাত গুরুতর। পুলিশ গাড়িটিকে আটক করলেও চালক পলাতক।
জয়ী উদয়ন
জাগরণী সঙ্ঘ পরিচালিত সারা বাংলা সাব জুনিয়র ক্রিকেট টুর্নামেন্টে সোমবার জিতল আলিপুরদুয়ারের উদয়ন ক্রিকেট অ্যাকাডেমি। সোমবার সূর্যনগর মিউনিসিপ্যালটি মাঠে তারা আঠেরোখাই সরোজণী সঙ্ঘ ক্রিকেট কোচিংকে হারিয়ে দিয়েছে। এ দিন টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামে উদয়ন ক্রিকেট অ্যাকাডেমি। ২৫ ওভারে ৬ উইকেটে তারা ১০৩ রান তোলে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে একের পর এক ফিরে যায় আঠেরোখাই ক্রিকেট কোচিংয়ের ব্যাটস ম্যানরা। শেষ পর্যন্ত ২১.৩ ওভার খেলে ৬৯ রান করতে সমর্থ হয় তারা। আজ, মঙ্গলবার বহরুমপুরের অরুণ বসু ক্রিকেট অ্যাকাডেমি খেলবে বাঘা যতীন ক্রিকেট কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে।
পাচারে ধৃত
চোরাই কয়লা পাচারের অভিযোগে ৮ জনকে গ্রেফতার করল ফাঁসিদেওয়া থানার পুলিশ। রবিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে ফাঁসিদেওয়া এলাাকয়। ট্রাকটিতে পচার হওয়া কয়লা অসম থেকে মুশির্দাবাদের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে। চালক পালিয়ে গিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ধৃতদের এদিন শিলিগুড়ি আদালতে পাঠানো হল তাদের জামিন নামঞ্জুর হয়ে যায়। ধৃতেরা সকলেই মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।
জায়গা দখল
দার্জিলিং মেল ও পদাতিক এক্সপ্রেসে পুলিশ ও সেনবাহিনীর জওয়ান উঠে জোর করে জায়গা দখল করছিল বলে অভিযোগ। সোমবার নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের ঘটনা। তার ফলে অনেকে জায়গা পাননি বলে দাবি নিউ জলপাইগুড়ি যাত্রী ওয়েলেফয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দীপক মহান্তি।
নিখোঁজ বধূ
চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে জয়া সরকার নামে এক গৃহবধূ নিখোঁজ হয়েছেন বলে অভিযোগ। সোমবার বক্সিরহাট থানায় অভিযোগ করেছেন ওই বধূর স্বামী। বৃহস্পতিবার শিলঘাগরি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।