E-Paper

সরকারি কাজে বাধা, অভিযুক্ত ট্র্যাফিক বিভাগের আধিকারিক

শিলিগুড়ি পুরসভার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের শক্তিগড় ৬ নম্বর রাস্তা এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ কৌসর আলি ভক্তিনগর ট্র্যাফিক গার্ডে কর্মরত।

রাহুল মজুমদার

শেষ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:০২
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিবাদ এবং প্রভাব খাটানোই নয়, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে শিলিগুড়ি পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত সাব ইন্সপেক্টর মহম্মদ কৌসর আলির বিরুদ্ধে। অভিযোগ, বছর খানেক আগে শিলিগুড়ি পুরসভার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের শক্তিগড় ৬ নম্বর রাস্তায় একটি নিকাশির কাজ আটকে দিয়েছিলেন অভিযুক্ত সাব ইন্সপেক্টর।পুরসভার সাফাই কর্মীদেরও তাড়িয়ে দিয়েছিল বলে অভিযোগ। এমনকি অভিযুক্ত পুরসভার জায়গা দখল করে বেআইনি নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে শিলিগুড়ি পুরসভার চার নম্বর বরোয় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে বরো থেকে পুরসভার বাস্তুকারেরা গেলে তাঁদেরকেও অভিযুক্ত তাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ। এই বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মী মহম্মদ কৌসর আলির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। পরে ফোন করা হলে তিনি ফোনও ধরেননি। মোবাইল বার্তায় পাঠানো প্রশ্নের কোনও উত্তর দেননি।

বিষয়টি জানা রয়েছে স্থানীয় পুরপ্রতিনিধি মৌমিতা মণ্ডলের। তিনি বলেন, ‘‘উনি সরকারি জায়গা দখল করে ঘর তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বরো থেকে আধিকারিকেরা তদন্তে গেলে তাঁদেরও তাড়িয়ে দিয়েছিলেন অভিযুক্ত ট্র্যাফিক পুলিশ আধিকারিক। পুরো বিষয়টি পুরসভার সদর দফতরে জানিয়েছি।’’ শিলিগুড়ি পুলিশের ট্র্যাফিক বিভাগের কয়েকজন অফিসার বলেছেন, ‘‘ওই অফিসারের নামে কিছু অভিযোগ শোনা গিয়েছে। আপাতত ভোট প্রক্রিয়া চলছে। ভোটের পর কী হয় তাই দেখার।’’

পুলিশ সূত্রের খবর, শিলিগুড়ি পুরসভার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের শক্তিগড় ৬ নম্বর রাস্তা এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ কৌসর আলি ভক্তিনগর ট্র্যাফিক গার্ডে কর্মরত। এর আগেও বিভিন্ন জায়গায় পোস্টিং ছিল তাঁর। বছর চারেক আগে শক্তিগড় এলাকায় তিনি একটি বাড়ি কেনেন। অভিযোগ, বাড়ি কেনার ছয় মাস পর থেকে এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিরোধ শুরু হয় তাঁর। আশপাশের সব বাসিন্দাদের সঙ্গেই তাঁর বিরোধ হয় বলে অভিযোগ। অভিযুক্ত পুলিশে চাকরি করার সুবাদে সবাইকে ধমকানো শুরু করেন বলে অভিযোগ। বিষয়টি এমন পর্যায়ে যায় যে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থানাতেও অভিযোগ করা হয়।

এখানেই শেষ নয়। অভিযোগ, পুরসভার জায়গা দখল করে নিজের বাড়ির নির্মাণ করেছেন অভিযুক্ত। পুরসভা থেকে সেখানে নিকাশি তৈরি করতে গেলে সরকারি কর্মীদের অভিযুক্ত সেখান থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ। স্থানীয় পুরপ্রতিনিধি বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তার সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, পুলিশ, প্রশাসন, পুরসভা কী করছে! ওই আধিকারিক কীভাবে একের পর-এক এমন ঘটনা ঘটাচ্ছেন, তা দেখা দরকার।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Siliguri Traffic Guard

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy