Advertisement
E-Paper

পাহাড়ের ১৬টি উন্নয়ন বোর্ডের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে, ছাড় নেই জিটিএ-র! পাহাড় ঘুরে মমতাকে তোপ দাগলেন অগ্নিমিত্রা

পাহাড়বাসীর নানা সমস্যার মধ্যে একটি হল জলসঙ্কট। রবিবার পুরসভার সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক সারেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সোমবার তিনি যান শহরের পানীয় জলের উৎসস্থল সিনচেল এলাকায়। প্রকল্পের কাজ শেষ হবে, বর্তমান কী অবস্থা, সেই খবর নেন ইঞ্জিনিয়ারদের কাছ থেকে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬ ২০:২১
Agnimitra Paul

পাহাড়ে জনসংযোগে অগ্নিমিত্রা পাল। —নিজস্ব চিত্র।

লেপচা, ভুটিয়া-সহ পাহাড়ের জনজাতি অংশের জন্য আলাদা আলাদা করে ১৬টি উন্নয়ন বোর্ড গড়েছিল বিগত রাজ্য সরকার। ওই বোর্ডগুলি স্বাধীন ভাবে তাদের কাজ করত। সেই বাবদে বিভিন্ন দফতর থেকে অর্থ পেত। পাহাড় সফরে গিয়ে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ঘোষণা করলেন, পাহাড়ের ১৬টি বোর্ডের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে। ছাড় পাবে না জিটিএ-ও।

সোমবার মিরিক লেক থেকে দুধিয়ার নতুন সেতু পরিদর্শন করেন অগ্নিমিত্রা। খোঁজ নেন পানীয় জলের সমস্যার। সরেজমিনে দেখেন আইসিডিএস কেন্দ্রের পরিস্থিতি। সকাল থেকে প্রায় গোটা পাহাড় চষে বেড়ান তিনি।

প্রথমেই অগ্নিমিত্রা গিয়েছিলেন মহাকাল মন্দিরে। পুজো দিয়ে পাহাড়ে ঘোরা শুরু করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দার্জিলিঙের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা। বিগত রাজ্য সরকার তফসিলি জাতি এবং জনজাতি নিয়ে যে ১৬টি পৃথক বোর্ড করেছিল, সেগুলোর তদন্ত হবে বলে জানিয়ে দেন মন্ত্রী। পাহাড়ের প্রশাসনকে ‘গতিশীল’ করতে বিমল গুরুংয়ের আধিপত্য ভাঙতে একদা ১৬টি উন্নয়ন বোর্ড তৈরি করেছিল রাজ্য সরকার। বছর দুয়েক আগে সেগুলো নতুন করে গড়ার কথা জানান তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার মাথায় বসান জিটিএ প্রধান অনীত থাপাকে। অগ্নিমিত্রার কটাক্ষ, ‘‘আগের মুখ্যমন্ত্রী পাহাড়ে ঘুরতে আসতেন। কাজ কিছুই করতেন না। এই যে ১৬টি বোর্ড তিনি বানিয়ে টাকা দিতেন, তার হিসাব দিতে হবে এ বার। প্রতিটি বোর্ডের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হবে। ছাড় পাবেনা জিটিএ-ও।’’

পাহাড়বাসীর নানা সমস্যার মধ্যে একটি হল জলসঙ্কট। রবিবার পুরসভার সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক সারেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা। সোমবার তিনি যান শহরের পানীয় জলের উৎসস্থল সিনচেল এলাকায়। প্রকল্পের কাজ শেষ হবে, বর্তমান কী অবস্থা, সেই খবর নেন ইঞ্জিনিয়ারদের কাছ থেকে। হ্যাপি ভ্যালিতে একটি আইসিডিএস কেন্দ্রে গিয়ে তিনি জানতে চান কী কী সমস্যা রয়েছে। তার পর অগ্নিমিত্রা চলে যান মিরিক লেকে। তিনি জানান, পর্যটকদের কাছে মিরিককে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে সাজানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তার পর মিরিকের কাছে ইন্দো-নেপাল সীমান্ত দিয়ে পশুপতির মন্দিরে যান অগ্নিমিত্রা। দিনের সফরের শেষে মন্ত্রীর গন্তব্য ছিল দুধিয়া। সেখুন সেতুর অবস্থা দেখেন তিনি। গত বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভেঙে গিয়েছিল ওই সেতু। এখনও অবধি সেটি তৈরি হয়নি। কবে নাগাদ তার কাজ শেষ হবে, খোঁজ নিয়ে অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘‘আমাদের সরকার উন্নয়ন করতে এসেছে। আমরা কাজ করতে এসেছি। ঘুরে-বেড়াতে পাহাড়ে আসিনি। সিনচেলে আম্রুত প্রকল্পের কাজ চলছে। দ্রুত এই কাজ শেষ হবে। পাহাড়ের জলের সমস্যা চিরতরে ঘুচে যাবে। মিরিক লেকের পাশে যে পার্কের মতো রয়েছে, সেটাকে আরও সুন্দর করে সাজাতে হবে। ওয়াইফাই লাগিয়ে দেওয়া হবে পর্যটকদের জন্য। আর দুধিয়া সেতুর কাজ ২০২৭ সালের মধ্যে তৈরি হয়ে যাবে। গত বর্ষায় যাঁদের বাড়ি ভেঙেছিল, তখনকার রাজ্য সরকার বাড়ি বানানোর জন্য মাত্র ৬০ হাজার টাকা দিয়েছিল। বাকি ৬০ হাজার দেয়নি। সেটা তাঁরা দ্রুত পেয়ে যাবেন।’’

মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে অগ্নিমিত্রার। সেখানেও তিনি বৈঠক করবেন বলে জানা গিয়েছে।

Agnimitra Paul BJP Government BJP TMC Darjeeling
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy