Advertisement
E-Paper

এ-ই ‘পুষ্পা’! গামছায় মুখ লুকোনো জাহাঙ্গিরকে দেখতে উত্তরবঙ্গের থানায় ভিড়, নিয়ে আসতে হল বাড়তি বাহিনী

ফলতার ‘পুষ্পা’ ঠিক কেমন দেখতে, তাঁর হাবভাব কেমন, তা নিয়ে কৌতূহলের অন্ত নেই ফাঁসিদেওয়ার স্থানীয় বাসিন্দাদের। অত্যুৎসাহী কয়েক জন তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে স্লোগানও দেন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬ ১৯:১৩
Jahangir Khan Arrested

ফলতার ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির খানকে দেখতে ফাঁসিদেওয়া থানার সামনে ভিড়। —নিজস্ব চিত্র।

উত্তরবঙ্গের সাধারণ মানুষ তাঁকে সামনাসামনি দেখেননি। কিন্তু ঢের গল্প শুনেছেন। খবরে দেখেছেন। সেই জাহাঙ্গির খানকে কিনা নেপাল সীমান্ত থেকে গ্রেফতার করে থানায় আনা হচ্ছে! খবর চাউর হতেই দার্জিলিং জেলার ফাঁসিদেওয়া থানার সামনে লোক জড়ো হতে থাকেন। সকলে চান, ‘পুষ্পা’কে চোখের দেখা দেখতে। কেউ একনজর দেখতে পেয়েছেন। সাদা-নীল চেক গামছায় মুখ ঢাকা অবস্থায় ফলতার তৃণমূল নেতাকে দেখে কেউ টিপ্পনী কাটলেন, ‘‘ধুস্‌, এ পুষ্পা তো এখন বেড়াল!’’

কলকাতা হাই কোর্ট রক্ষাকবচ প্রত্যাহারের পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার তৃণমূল নেতা পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। পুলিশ সূত্রে খবর, তিনি একা একা নেপালে পালাচ্ছিলেন। ইন্দো-নেপাল সীমান্ত থেকে এসটিএফের হাতে পাকড়াও হন। জানা গিয়েছে, রাজ্য এসটিএফ এবং দার্জিলিং জেলা পুলিশের একটি দল খবর পেয়ে রবিবার থেকে পানিট্যাঙ্কির সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছিল। রাতেই তাঁরা নিশ্চিত হন, খবর ঠিকঠাক। প্রতিবেশী দেশে পালিয়ে যাওয়ার ছক কষেছিলেন ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির। একমুখ দাড়ি আর সাদা টি শার্ট, ধূসর ট্রাউজার্স পরিহিত জাহাঙ্গির তখন বিধ্বস্ত। পুলিশের একটি সূত্র বলছে, রবিবার রাতেই জাহাঙ্গিরকে ধরে ফেলেছিল তারা। নেপাল পুলিশের সঙ্গে কথাবার্তা বলা, বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করা হচ্ছিল। দুপুরে পানিট্যাঙ্কির ইন্দো-নেপাল সীমান্ত দিয়ে জাহাঙ্গিরকে নিয়ে প্রথমে পুলিশ চলে যায় ফাঁসিদেওয়া থানায়। একপ্রস্ত জিজ্ঞাসাবাদ সেখানেই হয়েছে।

এর মধ্যে জাহাঙ্গিরের ধরা পড়ার কথা ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়। শুরু হয়ে যায় থানার গেটের সামনে উঁকিঝুঁকি। প্রচুর লোক জমা হতে থাকে। ফলতার ‘পুষ্পা’ ঠিক কেমন দেখতে, তাঁর হাবভাব কেমন, তা নিয়ে কৌতূহলের অন্ত নেই স্থানীয় বাসিন্দাদের। অত্যুৎসাহী কয়েক জন তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে স্লোগানও দেন। অবস্থা এমন হয় যে, ভিড় সরাতে ফাঁসিদেওয়া থানার পুলিশকে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করতে হয়। তাতেও কাজ হচ্ছে না দেখে থানার মূল গেট বন্ধ করে দিতে হয় তাদের।

থানার সামনে উপস্থিত পার্থ মালাকার নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘‘ফলতায় যিনি তৃণমূল প্রার্থী হয়েছিলেন, সেই জাহাঙ্গিরকে নাকি গ্রেফতার করেছে পুলিশ, এখানেই আনা হয়েছে তাঁকে। এই শুনে থানায় ছুটে এসেছিলাম।’’ সাগর দাস নামে আর এক ব্যক্তির মন্তব্য, ‘‘পুষ্পা কত বড় ডন, সেটা দেখতে থানায় এসেছি। এমন মাফিয়াদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।’’ আরও এক ধাপ এগিয়ে ফাঁসিদেওয়ার বাসিন্দা রাজেশ ডোম বলেন, ‘‘ভোটের সময় তো বলছিলেন, ‘পুষ্পা ঝুঁকেগা নহি’। আজ আমরা দেখছি পুষ্পা ঝুঁকে গিয়েছে। এত দিন প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ করত ও। আজ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে মুখ লুকোচ্ছে গামছায়। পুষ্পা আজ বিড়াল।’’

বিকেলে জাহাঙ্গিরকে বাগডোগরা বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। সোমবারই আনা হচ্ছে কলকাতায়।

Jahangir Tmc Leader Phansidewa
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy