খারিজি মাদ্রাসা অর্থাৎ, যে মাদ্রাসাগুলো সরকারি অনুমোদনহীন এবং অনুদানহীন স্বতন্ত্র ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সেগুলির উপর কড়া নজরদারির পাশাপাশি তদন্তের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। বৈধ মাদ্রাসাগুলির ক্ষেত্রে শিক্ষার মান এবং পরিবেশ বজায় রাখার জন্য মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। রবিবার উত্তরকন্যা থেকে এমনই ঘোষণা করলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন উত্তরবঙ্গের যে মন্দিরগুলিতে ভক্তদের ভিড় বেশি হয়, আগামী ২০ তারিখের মধ্যে তাদের তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে প্রশাসনকে। কারণ, ধূপকাঠির কারখানা গড়ার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার।
রবিবার উত্তরবঙ্গে রাজ্যের শাখা সচিবালয় উত্তরকন্যায় আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক ছিল। মন্ত্রী, উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিক, জেলাশাসক এবং পুলিশকর্তাদের নিয়ে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নকাজের নকশা চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ এবং পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। ওই বৈঠকে ছিলেন প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মণ, বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা, জয়ন্ত রায় প্রমুখ। অগ্নিমিত্রা ঘোষণা করেছেন, এ বার শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, কার্শিয়াং, কালিম্পং এবং মিরিক— এই পাঁচটি শহর নিয়ে ‘হিমালয়ান হিল সিটি’ গড়ে তোলা হবে। পাহাড় ও সমতলের মধ্যে উন্নয়নের সেতুবন্ধন করতে তাঁদের এই প্রকল্পের মাধ্যমে পরিকাঠামো, পর্যটন, পানীয় জল থেকে নাগরিক পরিষেবার আধুনিকীকরণে বিশেষ জোর দেওয়া হবে। শহরের প্রতিটি বাড়িতে কিউআর কোড বসানোর পাশাপাশি সরকারি জমিতে আবাসন এবং আধুনিক সুলভ শৌচালয় তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে পর্যটকদের সুবিধার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
অগ্নিমিত্রা জানান, তাঁদের লক্ষ্য উত্তরবঙ্গের সার্বিক উন্নয়ন করা। তাই এলাকার পরিকাঠামোগত উন্নতির পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নেও নজর দিতে হবে। বাল্যবিবাহ থেকে নাবালিকা এবং মহিলা পাচার রোধ করা, কিশোরী বয়সে গর্ভধারণের মতো ঘটনা রুখতে সরকার ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, ‘‘এমন অপরাধ দমনে প্রশাসন, পুলিশ এবং বিভিন্ন এনজিও-র প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবার ছেড়ে ভিন্রাজ্যে কাজে যাওয়া শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য ডে কেয়ার এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।’’
আরও পড়ুন:
উত্তরবঙ্গের শহরগুলিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাস্তা-সহ উন্মুক্ত স্থানে আবর্জনা ফেলা ও প্লাস্টিক ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করছে রাজ্য সরকার। নিয়ম অমান্য করলে মোটা অঙ্কের জরিমানা হবে। যত্রতত্র থুতু ফেলা বা অবৈধ পার্কিংয়ের ক্ষেত্রেও কড়া আইন কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা। তিনি বলেন, ‘‘১ জুলাই থেকে রাস্তায় পার্কিং ব্যবস্থার পুরো প্রক্রিয়াটি অটোমেটেড মেশিনের অধীনে আনা হবে। গাঁজা, ব্রাউন সুগার এবং অন্যান্য মাদক দ্রব্যের আমদানি এবং পাচার রুখতে পুলিশকে অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে।’’ পাশাপাশি, বিভিন্ন পুরসভায় বেআইনি নির্মাণ ও দখলের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্ত কমিটি বসানো হবে।