নির্বাচনী সঙ্কল্পপত্রে যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, ধরে ধরে তা পূরণ করতে তাঁরা অঙ্গীকারবদ্ধ। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নিয়ে সরকারের যে কাজেই হাত দিচ্ছেন, সেখানেই দুর্নীতির প্রমাণ মিলছে। পরিস্থিতি এমন যে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড ময়দানে জেল বানাতে হবে। রবিবার পূর্বতন সরকারকে খোঁচা দিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এ-ও জানান, স্বচ্ছতার সঙ্গে রাজ্যে যে যে কাজ তাঁর সরকার করবে, তার সুফল আগামী ৫০ বছর পাবেন পশ্চিমবঙ্গবাসী।
নিউ টাউন কনভেনশন সেন্টারে বিজেপির বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে মমতার সরকারকে তুলোধনা করে শুভেন্দু জানান, প্রত্যেকটি সরকারি কাজে দুর্নীতি হয়েছে। যে কাজেই হাত দিচ্ছেন, সেখানে দুর্নীতির প্রমাণ মিলছে। মমতার সরকারের লক্ষ্মীর ভান্ডারের উদাহরণ টেনে শুভেন্দু বলেন, ‘‘আমরা প্রতিশ্রুতি মতো অন্নপূর্ণা যোজনা শুরু করেছি। প্রথমে সমালোচনা হয়েছিল। পরে সবাই বুঝেছেন, সরকারি টাকা, ট্যাক্সের টাকা এ ভাবে জলে ফেলা যায় না।’’ মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, ‘‘আগে ২ কোটি ২০ লক্ষ মানুষকে লক্ষ্মীর ভান্ডার দিত সরকার (তৃণমূল)। তার মধ্যে আমরা (বিজেপি সরকার) ২৭ লক্ষ এমন লোককে ধরেছি, যাঁদের ভোটার তালিকায় নামই নেই। সিএএ-তে যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁদের বাদ দিয়ে ২৭ লক্ষ নাম পেয়েছি। আবার ৩ লক্ষ পুরুষ পাওয়া গিয়েছে, যাঁরা লক্ষ্মীর ভান্ডার পেতেন। শুধু মুর্শিদাবাদে এই সংখ্যা সাড়ে চার হাজার। কৃষ্ণনগর একটি অঞ্চলে ২৭৩ জনকে পাওয়া গিয়েছে। ভয়ঙ্কর দুর্নীতি!’’
বিগত সরকারের দুর্নীতি নিয়ে প্রায় খতিয়ান দিতে গিয়ে এর পর মুখ্যমন্ত্রী কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘যেখানেই হাত দেওয়া হচ্ছে... এ তো ব্রিগেড প্যারেড ময়দানকে জেল বানাতে হবে! কেউ আসবেন নবান্নতে। টাইম নিয়ে চা খাওয়াব। যেখানেই হাত দেওয়া হচ্ছে, পচা-দুর্গন্ধ বার হচ্ছে।’’
এরই পাশাপাশি দলের কর্মীদের সাংগঠনিক বার্তাও দেন বিজেপির শুভেন্দু। তিনি জানান, ক্ষমতায় এসেছেন বলে কারও মধ্যে দম্ভ না তৈরি হয়, ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে। রাজ্যবাসী অনেক বড় দায়িত্ব দিয়েছে বিজেপিকে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘এই একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আগে বলেছিলাম, ‘আমি নয়, আমরা।’ মানুষের বিরাট প্রত্যাশা আমাদের নিয়ে। ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে। এই রাজ্যে রাজনীতি ১২ মাস হয়। অন্য রাজ্যের সঙ্গে তুলনা করলে এখানকার রাজনীতি ভিন্ন। বিজেপির ভাবধারা, প্রধানমন্ত্রী গ্যারান্টি এবং মানুষের প্রত্যাশাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমাদের নিজেদের মধ্যে সুদৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।’’
শুভেন্দু জানিয়েছেন, সরকার এবং দলের মধ্যে যেন সমন্বয় থাকে। সরকারি প্রকল্প, ব্যবস্থা প্রকৃতপক্ষে এলাকায় পৌঁছোলো কি না, সেটা দেখতে হবে। বিজেপির সঙ্কল্পপত্রে যা ছিল, তার কিছুটা এক মাসের মধ্যেই কার্যকর হয়েছে। কী কী সেই কাজ? মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হয়েছে বিজেপির যে ৩১৫ জন কর্মী ‘আত্মবলিদান’ করেছেন, তাঁদের স্মৃতির উদ্দেশে সরকারি স্তরে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা। ওই পরিবারগুলির অর্থনৈতিক দায়িত্ব নেবে সরকার। প্রত্যেক পরিবারের এক জন সদস্যকে চাকরি দেওয়া হবে। তা ছাড়া মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে ৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন:
শুভেন্দু জানিয়েছেন, বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের কাজ শুরু হয়েছে কয়েক দিন আগেই। ৫৫৬ কিলোমিটার জমির মধ্যে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হস্তান্তর হয়ে গিয়েছে। সিএএ-র আওতায় পড়েননি এমন অনুপ্রবেশকারীদের ‘ডিপোর্ট’ করার কাজ শুরু হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘আমাদের ভাত, আমাদের ওষুধ খেত এরা। আরামে বসে থাকত এখানে। এমন ৪ হাজার ৮০০ জনকে ও পারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন হোল্ডিং সেন্টারে ৮৩৬ জন আছেন। তাঁদেরও আমরা খাইয়ে দাইয়ে ও দিকে পাঠানোর ব্যবস্থা করছি। সীমান্তে সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতেই হবে।’’
আগামী ১ অগস্ট থেকে রাজ্যে জনগণনার কাজ শুরু হয়ে যাবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা হবে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত। ১৬ অগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর বাড়ির সদস্যসংখ্যার গণনা হবে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে তা শেষ হবে। এর ভিত্তিতেই হবে ডিলিমিটেশন। তা ছাড়া জাতি জনগণনাও শুরু হয়ে যাবে ওই সময়েই।