Advertisement
E-Paper

নদীর চর দখল করে বৃদ্ধাশ্রমের নামে ‘প্রমোদ ভবন’ তৈরি করার অভিযোগ! তৃণমূল বিধায়কের ‘সেবাশ্রমে’ শুনানির নোটিস

বৃদ্ধাশ্রমের মালিক পরেশ রাম দাস। ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক তিনি। তাঁর বৃদ্ধাশ্রমে শনিবার বিকেলে নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে খবর। স্থানীয় সূত্রে খবর, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে ওই বৃদ্ধাশ্রমের প্রতিষ্ঠা করেন পরেশ।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬ ১৬:০৮
বিধায়ক পরেশ রাম দাসের ‘বিতর্কিত’ বৃদ্ধাশ্রম।

বিধায়ক পরেশ রাম দাসের ‘বিতর্কিত’ বৃদ্ধাশ্রম। —নিজস্ব চিত্র।

মাতলা নদীর চরে তৈরি হওয়া ‘চাঁদমুনি সেবাশ্রম’ অবৈধ বলে অভিযোগ! শুধু তা-ই নয়, এই আশ্রম বেআইনি ভাবে তৈরি হয়েছে বলেও দাবি! শুধু বেআইনি ভাবে তৈরিই নয়, বৃদ্ধাশ্রমের নামে রিসোর্ট তৈরি করা হয়েছে এবং সেখানে নানা ‘অবৈধ’ কাজকর্ম হয়ে থাকে— বিজেপির তোলা এই অভিযোগে শোরগোল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে। নদীর চরের সরকারি জায়গায় কী ভাবে বৃদ্ধাশ্রম তৈরি হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রশাসনিক মহলে লিখিত অভিযোগ করেছিল বিজেপি। তার ভিত্তিতে মহকুমা শাসকের নির্দেশে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরে গিয়ে বৃদ্ধাশ্রমের কাগজপত্র দেখাতে বলা হল। শুনানির তারিখ ১৮ জুন।

বিতর্কিত এই বৃদ্ধাশ্রমের মালিক পরেশরাম দাস। ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক তিনি। তাঁর বৃদ্ধাশ্রমে শনিবার বিকেলে নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে প্রশাসনের একটি সূত্রে খবর। স্থানীয় সূত্রে খবর, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে ওই বৃদ্ধাশ্রমের প্রতিষ্ঠা করেন পরেশ। বর্তমানে ২২ জন আবাসিক থাকেন ‘চাঁদমুনি সেবাশ্রম’ নামে বৃদ্ধাশ্রমটিতে। বিভিন্ন প্রশাসনিক আধিকারিক থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ প্রতি মাসে সামর্থ অনুযায়ী আর্থিক অনুদান দেন বলে পরেশের দাবি।

কিন্তু বিজেপির অভিযোগ, বৃদ্ধাশ্রমের নামে সেখানে ‘প্রমোদ ভবন’ তৈরি করেছেন তৃণমূল বিধায়ক। লোক দেখিয়ে কয়েক জন বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকে রাখা হয়েছে। আসলে বিবিধ বেআইনি কার্যকলাপ হয় সেখানে। তা ছাড়াও বিধায়কের নির্দেশে মাতলা নদীর চর দখল করে যেমন ওই বৃদ্ধাশ্রম তৈরি হয়েছে, তেমনই তার ঠিক উল্টো দিকে নদীর চরের একাংশ বিক্রিও করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

২০১১ সালে বৃদ্ধাশ্রমটি প্রতিষ্ঠা করেন তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাস।

২০১১ সালে বৃদ্ধাশ্রমটি প্রতিষ্ঠা করেন তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাস। —নিজস্ব চিত্র।

যদিও বিজেপির অভিযোগ এবং নোটিস প্রসঙ্গে তৃণমূল বিধায়কের দাবি, সরকারি নির্দেশিকা মেনে আইনি ভাবেই বৃদ্ধাশ্রম তৈরি করেছেন তিনি। শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্যই এমন অভিযোগ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। পরেশরামের কথায়, ‘‘আমার কাছে সব কাগজপত্র রয়েছে। এই আশ্রম প্রতিষ্ঠার সময় প্রশাসনের সব স্তর থেকে সহায়তা পেয়েছি। কোনও বেআইনি কাজ করিনি।’’

প্রশাসন সূত্রে খবর, ওই বৃদ্ধাশ্রমই নয়, উল্টো দিকে নদীর চরে গড়ে ওঠা বাড়িগুলিতেও নোটিস দেওয়া হয়েছে। সবাইকেই আগামী ১৮ জুন শুনানিতে হাজির থাকতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মাতলা নদীর চর দখল করে ক্যাফে বানানোর অভিযোগ উঠেছে ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার পুত্র ইমরান মোল্লার বিরুদ্ধেও। ম্যানগ্রোভ কেটে ক্যাফে বানানোর অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তাঁদেরও নোটিস পাঠান এসডিও। যদিও পিতাপুত্র দু’জনেই অন্য মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন। ভাঙড়ে বিস্ফোরণের ঘটনায় শওকত এখন এনআইএয়ের হেফাজতে।

TMC MLA old age home
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy