Advertisement
E-Paper

arrest: পামারিয়ার কোলে শিশুর মৃত্যু, ধৃত ১

অভিযুক্ত পামারিয়া মানিকচকেরই বাসিন্দা হাউলাদ আলিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত বেশিক্ষণ শিশুকে ধরে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

অভিজিৎ সাহা

শেষ আপডেট: ১৯ নভেম্বর ২০২১ ০৫:৫৫
পামারিয়া হাউলাদ আলি। কোলে তখনও শিশুটি বেঁচে ছিল বলে পরিবারের দাবি। বৃহস্পতিবার।

পামারিয়া হাউলাদ আলি। কোলে তখনও শিশুটি বেঁচে ছিল বলে পরিবারের দাবি। বৃহস্পতিবার। নিজস্ব চিত্র।

শিশুর কান্নাতেও থামছে না গান। এমনকি, কাকুতি-মিনতি করেও কোলের সন্তানকে ফিরে পাননি মা। ঘণ্টা খানেক ধরে এমনই চলতে থাকায় নিস্তেজ হয়ে পড়ে শিশুটি। অভিযোগ, শিশুটি তখনই মারা যায়। এমনই নির্মম ছবি দেখা গেল মালদহের মানিকচকের বাঙাল গ্রামে। অভিযোগ, দাবি মতো টাকা না মেলায় শিশুটিকে ঘণ্টার পর-ঘণ্টা আটকে রাখেন এক পামারিয়া। তার ফলেই সদ্যোজাতের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন পরিবার। ঘটনায় অভিযুক্ত পামারিয়া মানিকচকেরই বাসিন্দা হাউলাদ আলিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত বেশিক্ষণ শিশুকে ধরে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

মানিকচকের বাঙাল গ্রামের বাসিন্দা মাম্পি সরকার ২০ দিন আগে মালদহ মেডিক্যালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পর পর তিনটি সন্তানের জন্ম দেন। তিনটির মধ্যে দুই ছেলে, এক মেয়ে রয়েছে। সাতদিন মেডিক্যালে তিন সন্তান নিয়ে ভর্তি ছিলেন মাম্পি। মেডিক্যালের দাবি, ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকলেও সুস্থ ছিল তিন শিশুই। বুধবার বিকেলে মাম্পিদের বাড়িতে হাজির হন প্রতিবেশী পামারিয়া হাউলাদ আলি। স্থানীয়দের দাবি, বিহার, ঝাড়খণ্ডে পামারিয়াদের চল রয়েছে। পামারিয়ারা বৃহন্নলা নন। তার পরেও সন্তান জন্মানোর খবরে নবজাতকদের বাড়িতে গিয়ে বাজনা বাজিয়ে, গান গেয়ে বৃহন্নলাদের মতোই টাকা আদায় করেন। জোর করে টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে পামারিয়ারাদের বিরুদ্ধে।

এ দিন মাম্পির এক ছেলেকে কোলে নিয়ে বাড়ির উঠনে চেয়ারে বসে পড়েন হাউলাদ। গান গাইতে থাকেন তিনি। অভিযোগ, পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন হাউলাদ। মাম্পির স্বামী অজিত দিনমজুরি করেন। অজিতের বাবা প্রফুল্লও দিনমজুর। এ দিন বাড়িতে পুরুষেরা কেউ ছিলেন না বলে দাবি পরিবারের। সেই সময় হাজির হন হাউলাদ। শিশু কোলে নিয়েই দর কষাকষি করেন তিনি। প্রফুল্ল বলেন, ‘‘আমাদের পক্ষে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া কি সম্ভব? সব জেনেও নাতিকে টাকার জন্য আটকে রাখেন ওই পামারিয়া। তাঁর আটকে রাখার কারণেই আমার নাতির মৃত্যু হয়েছে।’’

মাম্পি বলেন, ‘‘কান্নায় ছটফট করছে ছেলে। তার পরেও আমার কোলে ছেলেকে দেওয়া হল না। কোলে নিয়ে খাওয়াতে পারলে ছেলেকে হারাতে হত না।’’

পুলিশ হাউলাদকে গ্রেফতার করে বৃহস্পতিবার মালদহ জেলা আদালতে পেশ করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। মৃতদেহও ময়না তদন্ত করা হচ্ছে। মালদহের পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া বলেন, “ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

ধৃত হাউলাদ আলি বলেন, ‘‘আমি শিশুকে বেশিক্ষণ আটকে রাখেনি। কিছুক্ষণ কোলে নিয়ে ফেরত দিয়ে দিই। অন্য দুই শিশুকেও কোলে নিয়েছিলাম। আমার জন্য মৃত্যুর অভিযোগ ঠিক নয়‌।’’

Death
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy