উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের মালব্য মিশন টিচার্স ট্রেনিং সেন্টার (এমএমটিটিসি) নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় এখন থেকে 'ওয়ার্কিং কমিটি'র মাধ্যমে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হল। গত ২৩ জুন তা তাদের জানানো হয়েছে। যা নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। এই নির্দেশিকার প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগে চিঠি দিয়ে তা জানিয়েছেন মালব্য মিশন টিচার্স ট্রেনিং সেন্টারের অধিকর্তা অঞ্জন চক্রবর্তী।
প্রাক্তন অস্থায়ী রেজিস্ট্রার ভাস্কর বিশ্বাস বলেন, ‘‘বৈঠক ডেকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই মতো ওয়ার্কিং কমিটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।’’
এমএমটিটিসি-এর অধিকর্তার দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে এই কেন্দ্রটি চলে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশনের নিয়ম মেনে এবং অ্যাকাডেমি অ্যাডভাইজ়ারি কমিটির তত্ত্বাবধানে তা চলার কথা। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এমএমটিটিসি’র উপ অধিকর্তা এবং সহকারী অধিকর্তাদের তরফে অধিকর্তার বিরুদ্ধে বছর তিনেক আগে নানা অভিযোগ জানানো হয়। দায়িত্বে থাকলেও তাঁদের কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ ছিল। সেই সময় অস্থায়ী উপাচার্য তদন্ত কমিটি করে খতিয়ে দেখে একটি ‘ওয়ার্কিং কমিটি’ তৈরি করে দেন। তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট দিতেও বলেছিলেন। তবে সেই সব হয়নি। সম্প্রতি অস্থায়ী রেজিস্ট্রার, ডিন, এমএমটিটিসি’র অধিকর্তা-সহ কয়েকজন আধিকারিককে নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়। তাতে এমএমটিটিসি’র অধিকর্তা উপস্থিত হননি। সেখান থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে এর পর অধিকর্তাকে জানানো হয়, এখন থেকে সমস্ত কিছু সিদ্ধান্ত ওয়ার্কিং কমিটির মাধ্যমেই নিতে হবে। সেই কমিটিতে চেয়ারম্যান রয়েছেন অধিকর্তা এবং আহ্বাক রয়েছেন উপঅধিকর্তা।
এমএমটিটিসি’র অধিকর্তা বলেন, ‘‘সম্পূর্ণ অবৈধ ভাবে ওয়ার্কিং কমিটি তৈরি করে তার মাধ্যমে কাজ করতে বলা হচ্ছে। এটা হতে পারে না। কেন না উপ অধিকর্তা এবং সহকারী অধিকর্তাদের বিরুদ্ধে আথিক অনিয়মের অডিট হয়েছে। তা ছাড়া পরবর্তীতে তাঁদের বিরুদ্ধে আমাকে শারীরিক ভাবে হেনস্থা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সে সবের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।’’
এমএমটিটিসি’র উপ অধিকর্তা এবং সহকারী অধিকর্তাদের দাবি, অধিকর্তা অনিয়ম করে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে তাঁদের উপরে অন্যায় ভাবে নজরদারি চালাচ্ছিলেন। তা নিয়ে উত্তপ্ত বাক্য বিনিয়ম হয়েছে। তা নিয়ে হেনস্থা ও প্রাণনাশের মিথ্যে অভিযোগ করছেন অধিকর্তা। তাঁদের অভিযোগ, তাঁরা পদে থাকলেও কোনও কাজ করতে দিচ্ছিলেন না অধিকর্তা। তা নিয়ে তাঁরাও অভিযোগ করেছেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)