Advertisement
E-Paper

দিনভরই তালা, প্রশ্ন

শুক্রবার স্কুল ছুটি হওয়ার পরই গেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিল দাড়িভিট-কাণ্ডে দুই নিহতের পরিবার। এ দিন স্কুলের সপ্তম-অষ্টম শ্রেণির শারীরশিক্ষার পরীক্ষা ছিল। উচ্চমাধ্যমিকের টেস্টের ফল বেরনোরও কথা ছিল। তাদের ফাইনাল পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৪:০০
ফের বন্ধ: স্কুলের বাইরে নিহতদের পরিজনেরা। দাড়িভিটে। নিজস্ব চিত্র

ফের বন্ধ: স্কুলের বাইরে নিহতদের পরিজনেরা। দাড়িভিটে। নিজস্ব চিত্র

আবার তালা গেটে। আবার অনিশ্চয়তা দাড়িভিট হাইস্কুল ঘিরে। শনিবার স্কুলে ঢুকতেই পারলেন না কেউ। ফলে ক্ষুব্ধ পড়ুয়া-অভিভাবক থেকে শিক্ষকদের একটা বড় অংশ।

শুক্রবার স্কুল ছুটি হওয়ার পরই গেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিল দাড়িভিট-কাণ্ডে দুই নিহতের পরিবার। এ দিন স্কুলের সপ্তম-অষ্টম শ্রেণির শারীরশিক্ষার পরীক্ষা ছিল। উচ্চমাধ্যমিকের টেস্টের ফল বেরনোরও কথা ছিল। তাদের ফাইনাল পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। অথচ স্কুলই খোলা যায়নি। শনিবার দিনভরই তালা দিয়ে স্কুলের গেটের কাছে বসে রইলেন নিহত দু’জনের পরিবারের সদস্যেরা। গেট থেকেই ফিরে যেতে হল শিক্ষক-পড়ুয়াদের। ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ কী হবে তা নিয়েই নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হল। সব মিলিয়ে ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের একাংশ। মহকুমাশাসক স্কুলে না গেলেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনিল মণ্ডল অবশ্য ওই দুই পরিবারের সদস্যদের বোঝানোর চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। মহকুমাশাসক মণীশ মিশ্র বলেন, ‘‘এ দিন ব্যস্ততার কারণে সেখানে যেতে পারিনি। স্কুলের পরীক্ষা বন্ধ হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের রেজাল্ট দেওয়া যায়নি। ছাত্রছাত্রীদের কথা ভেবেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

সিবিআই তদন্তের দাবি এবং দাড়িভিট-কাণ্ডে ধৃতদের নিঃশর্তে মুক্তির শর্তে স্কুলের চাবি প্রশাসনের হাতে তুলে দিয়েছিলেন নিহত তাপস বর্মণ ও রাজেশ সরকারের পরিবারের সদস্যেরা। তাঁদের কোনও শর্ত মানা হয়নি অভিযোগ তুলে শুক্রবার সকালে ঘণ্টাদুয়েক স্কুলে তালা ঝুলিয়েছিলেন নিহতদের পরিবারের সদস্যরা। পরে স্কুল খুলে দিলে ক্লাস হয়, পরীক্ষা হয়। তবে এ দিন আর খোলা হয়নি।’’

কোচবিহার থেকে বিজেপির রথ যাওয়ার কথা ছিল দাড়িভিটে। আদালতের রায়ে তা স্থগিত হয়ে যায়। এর পরই ওই স্কুলে ফের তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় বিষয়টি বিজেপির রথযাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত বলেই মনে করছেন অনেকেই। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ওই এলাকার কয়েকজন জানিয়েছেন, এলাকার ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের কথাও এবার ভাবা উচিত ওই দুই পরিবারের। তাপসের মা মঞ্জুদেবী বলেন, ‘‘রাজ্য সরকারের থেকে আস্থা হারিয়েছি। কোন রাজনৈতিক কারণ নয় আমাদের দাবি পূরণ হয়নি তাই এই পথে নামলাম। শর্ত না পূরণ হলে আর স্কুল খুলতে দেওয়া হবে না।’’

বিজেপির জেলার সাধারণ সম্পাদক সুরজিৎ সেন বলেন, ‘‘রথের প্রস্তাব নিয়ে আগে আলোচনার সময়ই নিহতদের পরিবারের লোকেরা জানিয়েছিলেন, মাঠের জন্য তাঁরা আবেদন রাখবেন। জানি সেটা রাজনৈতিক দলের কাজ। তবু তারা চাওয়ায় সেটাই ঠিক হয়েছিল।’’ তৃণমূলের ইসলামপুরের বিধায়ক কানাইয়ালাল আগরওয়াল বলেন, ‘‘স্কুলের বিষয়টি প্রশাসন দেখছে।’’ সিপিএমের স্থানীয় নেতা বিকাশ দাস বলেন, ‘‘এই ভাবে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলাটা ঠিক নয়। আমরা চাই একটা সমাধান হোক।’’

School Darivit
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy