E-Paper

কার্শিয়াংকে পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরতে তৎপরতা

স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা মনে করেন, পর্যটকেরা দার্জিলিং ঘুরে এক দুই দিনের মধ্যেই তড়িঘড়ি চলে যান সিকিমের দিকে।

রাহুল মজুমদার

শেষ আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৫৫
মেঘমুলুকে: শহর কার্শিয়াং।

মেঘমুলুকে: শহর কার্শিয়াং।

দার্জিলিংয়ের পাশাপাশি কার্শিয়াংয়ের বিভিন্ন এলাকাকে পর্যটন মানচিত্র তুলে ধরতে উদ্যোগী হল দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (ডিএইচআর) ও রাজ্য বন দফতর। স্থানীয় পর্যটনকে তুলে ধরতে এবং কার্শিয়াংয়ের লুকোনো পর্যটন কেন্দ্রগুলিকে জনসমক্ষে আনতে এই উদ্যোগ। তাই দেশের শীর্ষ স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের নিয়ে এসে দুই দিন ধরে কার্শিয়াংয়ে পর্যটন সম্ভাবনা রয়েছে এমন এলাকাগুলি ঘুরিয়ে দেখানো হয়েছে। এই পর্যটন প্যাকেজের নাম দেওয়া হয়েছে ‘বাঘিরাস ট্রেইল’।

স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা মনে করেন, পর্যটকেরা দার্জিলিং ঘুরে এক দুই দিনের মধ্যেই তড়িঘড়ি চলে যান সিকিমের দিকে। মূলত দার্জিলিংয়ের যানজট, মেঘের কারণে মাঝে-মাঝেই টাইগার হিল থেকে সূর্যোদয় দেখতে না পাওয়ার সমস্যা থাকে। তা ছাড়া যত্রতত্র জলের পাইপ, বিদ্যুতে তার এবং আবর্জনা ফেলার কারনে শৈলরানির সৌন্দর্য হ্রাস পাচ্ছে। এই কারণে পর্যটকেরা বেশি দার্জিলিংয়ে থাকতে চাইছেন না বলে অভিমত তাঁদের। তাই দার্জিলিং ছেড়ে সিকিমের দিকে বেশি পর্যটক যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সিকিমে যাওয়া পর্যটকদের ধরে রাখতে পর্যটন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মিলে যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে ডিএইচআর ও বনদফতর। অ্যাসোসিয়েশন ফর কনজ়ারভেশন অ্যান্ড টুরিজ়মের আহ্বায়ক রাজ বসু বলেন, ‘‘এই উদ্যোগ সফল হলে পর্যটকেরা দার্জিলিংয়ে ঘুরতে এসেও এখানে দু’দিনের বেশি থাকবেন। এতে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত ধরনের ব্যবসায়ীদের উন্নতি হবে।’

রেল ও বন দফতর মিলে একটি পৃথক পর্যটন প্যাকেজ তৈরি করছে। ওই প্যাকেজের নাম দেওয়া হয়েছে ‘বাঘিরা ট্রেল’। দুই দিনের এই প্যাকেজের মাধ্যমে কার্শিয়াংয়ের বিভিন্ন এলাকা ঘুরিয়ে দেখানো হবে। প্রথমে শিলিগুড়ি থেকে কার্শিয়াং হয়ে টুং পর্যন্ত একটি টয় ট্রেন রাইড থাকবে। এরপর বন দফতরের কর্মী এবং পাহাড়ি গ্রামের গাইডদের সঙ্গে নিয়ে কার্শিয়াংয়ের জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে ট্রেকিং হবে। খাবার হিসেবে জঙ্গল সংলগ্ন এলাকার স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির মাধ্যমে স্থানীয় ঐতিহ্যের খাবার দেওয়া হবে। কার্শিয়াংয়ের ডাভহিল ফরেস্ট মিউজ়িয়াম এবং তার আশেপাশের প্রাকৃতিক ইতিহাস পর্যটকদের জানানো হবে। শেরপা এবং গোর্খা সম্প্রদায়ের হোম স্টেতে পর্যটকেদের রেখে সেখানে সংস্কৃতির আদান-প্রদান করা হবে। মূলত বনবস্তিবাসীরাই এই বাঘিরা ট্রেইলের হোস্ট, গাইডহিসেবে থাকবেন।

কার্শিয়াংয়ের ডিএফও দেবেশ পাণ্ডে বলেন, ‘‘কার্শিয়াং এমন একটি জায়গা যেখানে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ টয় ট্রেনের সঙ্গে বনবস্তিবাসীদের হাত ধরে বাংলার সেরা প্রাকৃতিক ইতিহাসের মেলবন্ধন ঘটেছে।’’ ডিএইচআর ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরি বলেন, ‘‘কার্শিয়াং শুধু কোনও ট্রানজ়িট পয়েন্ট নয়। এখানকার প্রাকৃতি সৌন্দর্য্য উপভোগ করার মতো।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Kurseong

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy