Advertisement
E-Paper

মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির পরও সাহায্য পাননি অনুকূল, দাবি

বুধবার চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে অনুকূল বললেন, “মুখ্যমন্ত্রী আমাকে ডেকে ছ’হাজার টাকা দিয়েছিলেন। তার পরে কিছুই তো পেলাম না। কেউ কেউ বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী আমাদের সাহায্য পাঠিয়েছেন, তা না কি আমাদের কাছে এসে পৌঁছয়নি।”

অনির্বাণ রায়

শেষ আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০১৯ ০৩:০১
আশাহত: অনুকূল কুড়ির সঙ্গে চায়ের দোকানে সঞ্চিতা। নিজস্ব চিত্র

আশাহত: অনুকূল কুড়ির সঙ্গে চায়ের দোকানে সঞ্চিতা। নিজস্ব চিত্র

মাস আটেক আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ থেকেই রাজ্যবাসী শুনেছিলেন এক বৃদ্ধের কথা। গত ১০ জুলাই কোচবিহার থেকে উত্তরকন্যা যাওয়ার পথে জলপাইগুড়ির ফাটাপুকুরের চা দোকানি অনুকূল কুড়িকে রাস্তার পাশে দেখে কনভয় থামিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ২১ জুলাইয়ের সভার বক্তৃতায় মুখ্যমন্ত্রী নিজেই শুনিয়েছিলেন সেই কাহিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন “সে (অনুকূল) আমাকে মা বলে ডেকে জানিয়েছিল, তাঁর একটি মেয়ে আছে। অভাবের কারণে মেয়ের পড়াশোনা হয় না।” মুখ্যমন্ত্রী বক্তৃতার পরপর কয়েকদিন অনুকূলের দরমা বেড়ার ঘরে ব্লক প্রশাসন থেকে পুলিশ অফিসারদের আসা যাওয়া শুরু হয়। তার পর আট মাস কেটে গিয়েছে। পড়ার আশা ছেড়ে অনুকূলের স্নাতক মেয়ে সঞ্চিতা এখন বাবার সঙ্গে চায়ের দোকান সামলান। অনুকূলের স্ত্রী বলেন, “শুধু আশ্বাস পেয়েছি, সাহায্য পাইনি। কারও কাছে মেয়ের পড়ার জন্য সাহায্য চাইতে গেলে উল্টে শুনতে হয়, আমরা না কি প্রচুর সরকারি সাহায্য পেয়েছি। কী জ্বালা।”

গত ২১ জুলাইয়ে কলকাতার ধর্মতলার সভামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা গিয়েছিল বৃদ্ধের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা সাহায্য করা হবে। বুধবার চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে অনুকূল বললেন, “মুখ্যমন্ত্রী আমাকে ডেকে ছ’হাজার টাকা দিয়েছিলেন। তার পরে কিছুই তো পেলাম না। কেউ কেউ বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী আমাদের সাহায্য পাঠিয়েছেন, তা না কি আমাদের কাছে এসে পৌঁছয়নি।” মুখ্যমন্ত্রীর মুখে তাঁর প্রসঙ্গের পর বাড়িতে ঘনঘন সরকারি কর্তারা এসেছিলেন। সঞ্চিতার দাবি, “আমাদের অ্যাকাউন্ট নম্বরও বিডিও অফিস থেকে নিয়েছিল। এখন অবশ্য বিডিও অফিসে গেলে আর পাত্তা দেয় না।” জলপাইগুড়ি ফাটাপুকুরে জাতীয় সড়কের ধারেই অনুকূল কুড়ির চায়ের দোকান। কয়েকটি দরমা বেড়া, বাঁশ, টিন দিয়ে তৈরি দোকান। রাস্তা দিয়ে ভারী গাড়ি গেলে দোকানটা দুলতে থাকে। কখনও বেড়ার ছাদের অংশ খসেও পড়ে। মাটি থেকে তুলে সে অংশ আবার তা উপরে উঠিয়ে দেন অনুকূল বা তাঁর স্ত্রী, আবার কখনও সঞ্চিতা। রাজগঞ্জ কলেজ থেকে স্নাতক করে দূরশিক্ষায় এডুকেশন নিয়ে স্নাতকোত্তর পড়ার ইচ্ছে ছিল সঞ্চিতার। সে কথাই অনুকূল জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রীকে। ভর্তির সময়সীমা পেরিয়ে গিয়েছে। টাকা জোগড়া করতে পারেননি বলে পড়া হয়নি বলে দাবি সঞ্চিতার। মাসখানেক হল পড়ার আশা ছেড়ে বাবার সঙ্গে দোকানে হাত লাগিয়েছেন। রাজগঞ্জ ব্লক অথবা জেলা প্রশাসনের কোনও আধিকারিক নির্বাচন আচরণ বিধির কারণ জানিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

জেলা তৃণমূল সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, “যতদূর জানি, মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে এ বিষয়ে যথাযথ নির্দেশ দেওয়া হয়েছি। জেলায় কী হয়েছে খোঁজ নেব। সঞ্চিতার পড়াশোনার কোনও সমস্যা হবে না।”

Tea Seller Education Mamata Banerjee
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy