×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২৮ জানুয়ারি ২০২১ ই-পেপার

পুরাতন মালদহের বিডিও-র ফেসবুক ছবি পোস্ট ঘিরে বিতর্ক

নিজস্ব সংবাদদাতা
মালদহ২৩ নভেম্বর ২০২০ ১৩:৪৮
বিডিও-র পোস্ট করা সেই ছবি।

বিডিও-র পোস্ট করা সেই ছবি।

পুরাতন মালদহের ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক(বিডিও)-এর ফেসবুকে পোস্ট করা একটি ছবিকে ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হল। তৃণমূল নেতা এবং ঠিকাদারদের সঙ্গে সেলফি তুলে সেই ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন বিডিও ইরফান হাবিব। ছবির ট্যাগলাইন হিসেবে লেখেন—‘দুষ্টু ছেলেদের নিয়ে কিছুক্ষণ।’ এই পোস্ট ঘিরেই বিডিওর ভূমিকা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও জোর চর্চা চলছে। পাশাপাশি চলছে সমালোচনাও।

অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, এক জন সরকারি আমলা হয়ে কী ভাবে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ করলেন বিডিও! বিরোধীরা এই ঘটনা নিয়ে ময়দানে নেমে পড়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, বিডিও যে ছবি পোস্ট করেছেন সেখানে হারেজ আলি নামে পঞ্চায়েত সমিতির এক পদাধিকারী রয়েছেন। বাকিরা সকলেই তৃণমূল কর্মী। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ ঠিকাদারির কাজের সঙ্গে যুক্ত। যদিও এ নিয়ে ব্লক প্রশাসনের দাবি, ওই পোস্টে কোনও ভুল নেই।

জেলার আরএসপি নেতা তথা জেলা সম্পাদক সর্বানন্দ পাণ্ডে বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী ও পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যদের নিয়ে যে ভাবে সেলফি তুলে সোশাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেছেন বিডিও, চেয়ারটা ছেড়ে দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ঝাণ্ডা নিয়ে রাস্তায় নামা উচিত ওঁর।” এই বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য আরএসপি নেতার।

Advertisement

পুরাতন মালদহ পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা বিজেপি-র নিতাই মণ্ডল বলেন, “আমরা আগে থেকেই বিডিওর শাসকদল ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ তুলেছিলাম। ব্লকের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে একের পর এক বিতর্কিত বিষয় উঠে আসছে। এটা তারই প্রমাণ। পঞ্চায়েত সমিতির পদাধিকারী ছাড়া বাকিদের সঙ্গে এ ধরনের ছবির পোস্ট মানায় না। আমরা এর তীব্র বিরোধিতা করছি।” ব্লক তৃণমূল সভাপতি সরলা মুর্মু এ প্রসঙ্গে বলেন, “কী পোস্ট করেছেন, আমি দেখিনি। পোস্ট করার আগে এক বার ভেবে দেখা উচিত ছিল। তবে বিডিও যা-ই পোস্ট করুন না কেন‌ এই ঘটনার সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই।”

বিষয়টি নিয়ে যখন জলঘোলা হচ্ছে, এ প্রসঙ্গে বিডিও বলেন, “আমি যে ছবি পোস্ট করেছি তাতে কোনও ভুল নেই। নিজস্ব অ্যাকাউন্ট থেকে ছবি পোস্ট করেছি এবং তাতে নিজস্ব মতামত থাকতেই পারে। এটা কোনও অফিসিয়াল পোস্ট নয়। এ নিয়ে বির্তকের কিছুই দেখছি না।”

Advertisement