Advertisement
E-Paper

ধর্মঘটে গ্যাসের গাড়ি চালকেরা, উদ্বেগ

পূর্ব সিদ্ধান্ত মতো সোমবার থেকে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ধর্মঘট শুরু করলেন জ্বালানি গ্যাস সরবরাহকারী শতাধিক গাড়ির চালক। এ দিন সকাল থেকেই শিলিগুড়ির শুকনায় এলিপিজি ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স-এর পক্ষ থেকে অবস্থানেও বসেছেন ওই গাড়ি চালকেরা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ জুলাই ২০১৫ ০২:০৮
চালকদের বিক্ষোভ।—নিজস্ব চিত্র।

চালকদের বিক্ষোভ।—নিজস্ব চিত্র।

পূর্ব সিদ্ধান্ত মতো সোমবার থেকে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ধর্মঘট শুরু করলেন জ্বালানি গ্যাস সরবরাহকারী শতাধিক গাড়ির চালক।

এ দিন সকাল থেকেই শিলিগুড়ির শুকনায় এলিপিজি ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স-এর পক্ষ থেকে অবস্থানেও বসেছেন ওই গাড়ি চালকেরা।

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের সমস্ত দাবি না মেটা পর্যন্ত তারা ধর্মঘট চালিয়ে যাবে। তবে অন্য সংগঠনের কেউ যদি গাড়ি নিয়ে পাহাড়ে যেতে চান তাদের বাধা দেওয়া হবে না বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে অবস্থানে বসা সংগঠনের। তবে পাহাড়ে ট্যাঙ্কার চালকদের সিংহভাগই এ দিন অবস্থানে বসা সংগঠনেরই সদস্য, তাই দার্জিলিং ও সিকিমে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে তৃণমূল। তাদের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসির দার্জিলিং জেলা সভাপতি অরূপরতন ঘোষ বলেন, ‘‘উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী গৌতম দেব আমাদের যতটা বেশি গাড়ি-ট্যাঙ্কার চালিয়ে অবস্থা স্বাভাবিক রাখার কথা বলেছেন। আমরাও চালকদের বলেছি, পাহাড়ে গাড়ি নিয়ে যেতে।’’ চালকদের অবস্থানের জন্য যাতে অবস্থার অবনতি না হয়, সে জন্য বেশ কিছু গাড়ি চালানো হচ্ছে বলে জানান ওই আইএনটিটিইউসির সম্পাদক গোবিন্দ মিত্র। তিনি বলেন, ‘‘আমরা ১৫টি বড় ট্যাঙ্কার ও ১৫টি ছোট ট্রাক দার্জিলিং ও সিকিমের পাহাড়ে পাঠানো হয়েছে।’’

প্রসঙ্গত, তাঁদের বেতন সাড়ে ৬ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার টাকা করা, প্রত্যেক চালককে অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা প্রদান, রোজকার খাইখরচ বাড়ানোর দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন করছেন ওই চালকেরা। রবিবার আলোচনার জন্য শিলিগুড়িতে মালিক পক্ষের সঙ্গে বসেছিলেন তাঁরা। মালিকপক্ষের তরফে জানানো হয়েছিল, তাদের ইন্ডিয়ান অয়েল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ পার হয়ে গিয়েছে। আপাতত অস্থায়ীভাবে তারা পরিষেবা চালু রাখার কাজ করছে। নতুন টেন্ডার করে কাজ চালু করতে আরও মাস খানেক সময় লাগবে। তারপরেই তারা সমস্যা সমাধান করতে আলোচনা করবে। ওই দিনের বৈঠকের পরেই সোমবার থেকে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেন চালকেরা।

চালকদের এই ধর্মঘটের জেরে অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই দুই পাহাড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে বলে মনে করছেন সাধারণ বাসিন্দারা। উদ্বেগ প্রকাশ করছেন নর্থ বেঙ্গল অ্যান্ড সিকিম এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক কৌশিক সরকার। তিনি বলেন, ‘‘আমরা সমস্যা সমাধানে লাগাতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রয়োজনে মালদহ প্ল্যান্ট থেকেও ট্যাঙ্কার আনানো হতে পারে।’’ তাতেও পাহাড়ের সরবরাহ সমস্যা মিটবে না বলে জানান তিনি। কারণ, পাহাড়ে ছোট গাড়ি ও ট্যাঙ্কার যায়। ফলে সমতলের চাহিদা মিটলেও তা পাহাড়ে পাঠানো যাবে না। দার্জিলিঙের এক ডিলার সুমন ছেত্রীও ধর্মঘট নিয়ে চিন্তিত। তিনি বলেন, ‘‘ধসের কারণে এমনিতেই গাড়ি ঠিকমতো পাহাড়ে উঠতে পারেনি। তার উপরে ফের গাড়ি ধর্মঘট হলে সমস্যা হবে। তবে আপাতত কয়েকদিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে। আশা করছি দ্রুত সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।’’

এ দিন এলিপিজি ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সম্পাদক পদম রাই বলেন, ‘‘আমাদের সঙ্গে কেউ সোমবার বিকেল পর্যন্ত কথা বলেননি। মালিকপক্ষ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ কথা বলতে আসেননি। আমাদের চাহিদা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চালিয়ে যাব।’’

ধর্মঘটের বিষয়ে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ চেয়েছেন ওই সরবরাহকারী সংস্থার কর্ণধার বিজয় গোয়েল। তিনি বলেন, ‘‘প্রশাসনিক স্তরের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। আমরা আলোচনায় আগ্রহী কিন্তু চালকেরা সমঝোতায় যেতে চাইছেন না।’’ গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সহকারী সম্পাদক বিনয় তামঙ্গ বলেন, ‘‘এ বিষয়ে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। না জেনে মন্তব্য করব না।’’ এ দিকে, মন্ত্রী গৌতম দেব আপাতত ভানুভক্তের জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষে পাহাড়েই রয়েছেন। এ দিন বিকেলে শহরে ফেরার কথা। তবে তিনিও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আপাতত তাঁর হস্তক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছে দু’টি পক্ষই।

gas driver strike siliguri INTTUC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy